শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


কেন কোনো কিছু না থাকার বদলে কিছু আছেঃ অভিজিত রায়ের অর্থহীন নাস্তিকতা


নাস্তিকরা কিভাবে বিজ্ঞান আর যুক্তির নামে সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করছে তার একটা জলন্ত প্রমান হল যেমন প্রয়াত অভিজিত রায়ের লেখা একটি প্রবন্ধ “কেন কোনো কিছু না থাকার বদলে কিছু আছে?” উনি আলটিমেটলি প্রমান করতে চেয়েছেন আল্লাহ, খোদা, গড, বা ইশ্বর ছাড়াই এই সুবিশাল মহাবিশ্ব শুন্য থেকে সৃস্টি হতে পারে। ব্যাস! বিজ্ঞান দিয়েই প্রমান হল নাস্তিকতাই সঠিক, আস্তিকরা খোদায় বিশ্বাস করে বোকার স্বর্গে বাস করে!

কিন্তু বিষয়টা মোটেই তা নয় আসলে ওটা ছিল অভিজিত রায়ের বিজ্ঞানের ভুল ব্যাখ্যা বা অপব্যাখ্যা। ওনি কোয়ান্টাম বলবিদ্যার আলোকে এটা প্রমান করতে চেয়েছেন এই সুবিশাল মহাবিশ্ব শুন্য থেকেই এমনিতেই সৃস্টি হতে পারে কাজেই ইশ্বর বা গডের প্রতি বিশ্বাস ভুল। কাজেই নাস্তিকরাই হল প্রকৃত স্মার্ট, আস্তিকেরা বোকার স্বর্গে বাস করে! আমার অতি ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও ঐ আর্টিকেল পড়ে তার বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিবাদ করার জন্যই এই আর্টিকেল লিখতে বাধ্য হলাম। আশা করি এই আর্টিকেল পড়ার পর নাস্তিকদের বুঝতে অসুবিধা হবে না যে তারাই আসলে বোকার স্বর্গে বাস করছে।

অভিজিত লিখেছেন, “কাজেই, কেন কিছু না থাকার বদলে কিছু আছে? – প্রাচীন এ প্রশ্নটির যথার্থ উত্তর হল – ‘নাথিং’ ব্যাপারটা অস্থিতিশীল’ ।“  আমার প্রশ্ন ‘নাথিং ব্যাপারটা অস্থিতিশীল’ হল কেন? স্পটতই এই প্রশ্নের জবাব অভিজিত বা কোন নাস্তিকের নেই! আমি সরাসরী প্রমান দিতে পারব না কিন্তু আস্তিক হিসাবে বলতে পারি নাথিং’ ব্যাপারটা অস্থিতিশীল’ হল কারন খোদা ‘নাথিং ব্যাপারটা অস্থিতিশীল’ করেই মহাবিশ্বের সুচনা করেছিলেন। কাজেই অভিজিতিতের নাস্তিকতার সব বিজ্ঞানভিত্তিক যুক্তি এখানেই শেষ! খোদার অস্তিত্বকে বিজ্ঞান দিয়ে অপ্রমান করা সম্ভব না। যত যুক্তিই নাস্তিকরা দেখাক না কেন শেষ প্রশ্ন “কিন্তু” অবশ্যই থেকেই যাবে!

কোয়ান্টাম বলবিদ্যা (quantum mechanics) আর চিরায়ত বলবিদ্যা (classical mechanics) এক জিনিস না। কোয়ান্টাম বলবিদ্যা অতি ক্ষুদ্র কনার গুনাগুন ও গতিবিধির অনেক ক্ষেত্রেই বেশ ভালই ব্যাখ্যা দেয় কিন্তু কোন বস্তুর আকার একটু বড় হলেই কোয়ান্টাম বলবিদ্যা আর তার গুনাগুন ও গতিবিধির কোন ব্যাখ্যা দিতে পারে না সেক্ষেত্রে চিরায়ত বলবিদ্যা এবং আইনইস্টাইনের সাধারন আপেক্ষিক তত্বই (general theory of relativity) সবকিছুর ভাল ব্যাখ্যা দেয়। বিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম বলবিদ্যা এবং আইনইস্টাইনের সাধারন আপেক্ষিক তত্ব একিভুত করে প্রকৃতির সবকিছুর ব্যাখ্যা দেওয়ার চেস্টা করছেন কিন্তু তারা সফল হতে পারছেন না।

কোয়ান্টাম বলবিদ্যা অনুযায়ী যাকে আমরা শুন্য (nothing) বলি সেই শুন্য থেকেও কাল্পনিক কনা-প্রতিকনার সৃস্টি হতে পারে যা বেশ ভুতুড়ে ব্যাপার নিঃসন্দেহে! কিন্তু চিরায়ত বলবিদ্যা যা আমাদের আশেপাশের ইন্দ্রিয়গ্রায্য ঘটনার ব্যাখ্যা দেয় তা অনুযায়ী কিন্তু ঐরুপ ভুতুড়ে ঘটনা একদম ঘটতে পারে না। যেমন ধরুন আপনার বেডরমে কোনদিনই হটাৎ করে একটা ঘোড়া বা হাতির উদ্ভব ঘটেনি শুন্য থেকেই। এই পৃথিবীর কোন একজন মানুষও ওরুপ আজগুবি ঘটনা কক্ষনও প্রত্যক্ষ করেনি। গোটা মহাবিশ্বের উদয় হওয়া তো আরো অনেক দুরের কথা।

এমনকি আইনইস্টাইনের মত কিংবদন্তি বিজ্ঞানীও কোয়ান্টাম বলবিদ্যাকে সঠিক বিজ্ঞান বলে মেনে নেননি। আরেকজন নোবেল বিজয়ী পদার্থ বিজ্ঞানী রিচার্ড ফেন্‌ম্যান বলেছিলেন “আসলে এই পৃথিবীতে কেও কোয়ান্টাম বলবিদ্যা বোঝে না।” কোয়ান্টাম বলবিদ্যার ব্যাখ্যা নিয়ে সে সময়ের তথা মানব ইতিহাসের বাঘা বাঘা বিজ্ঞানী যেমন, আইনইস্টাইন, নিলস্‌ বোর, শ্রডিংগার প্রমুখ বিজ্ঞানীদের মধ্যে প্রায়শঃ ঝগড়া লেগে যেত!

কাজেই কোয়ান্টাম বলবিদ্যা অনুযায়ী শুন্য (nothing) থেকে যে কাল্পনিক কনা-প্রতিকনার সৃস্টি হতে পারে সেই যুক্তির উপরে ভর করে (যা চিরায়ত বলবিদ্যা অনুযায়ী কক্ষনও সম্ভব না) আল্লাহ, খোদা, গড, বা ইশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা আর বোকার স্বর্গে বাস করা একই কথা। নাস্তিকদের ঐ ধরনের যুক্তি দেওয়াটা সততার খেলাপ। অন্তত সততার সাথে তাদের যুক্তির ফাক-ফোকরগুলো তুলে ধরা উচিত ছিল যেটা অভিজিত রায় করেননি যা দুঃখজনক।

আমরা এটা বুঝি ধর্মের নামে, ধর্মের মুখোশ পরে অনেক ভন্ড ধার্মিকেরা অনেক অধর্মের এবং জঘন্য কাজ করছে যা পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেকটি ধর্মেই কমবেশি পরিদৃস্ট হয়। তাই বলে ধর্মকেই বাদ দিতে হবে? টিউমার অপারেশন না করে গলাই কেটে ফেলতে হবে?! আল্লাহ, খোদা, গড, বা ইশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করতে হবে?

খোদার অস্তিত্বকে বিজ্ঞান দিয়ে যেমন সরাসরী প্রমান করা সম্ভব না তেমনি খোদার অস্তিত্বকে বিজ্ঞান দিয়ে অপ্রমান করাও সম্ভব না। কাজেই এখানে সমাধান হল নাস্তিক বা আস্তিক সবাইকেই  এ  ব্যাপারে বিনয়ী এবং পরমত সহিষ্ণু হতে হবে।

কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হল অনেক আস্তিক এবং নাস্তিকই না জেনে না বুঝে অন্ধবিশ্বাসের বলে বলিয়ান হয়ে এ ব্যাপারে চরমপন্থী হয়ে গেছে যা স্পটতই চরম নির্বুদ্ধিতা। আইনইস্টাইন মনে হয় ঠিকই বলেছিলেন! “Only two things are infinite, the universe and human stupidity, and I’m not sure about the former.”

যাহোক, সবাইকে ধন্যবাদ। ডঃ মুসা আলী, May 15, 2015. Copyright © www.QuranResearchBD.org

প্রাসঙ্গিক লিংকঃ

> কেন কোনো কিছু না থাকার বদলে কিছু আছে?

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*