শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


শুধু সংলাপ না, শুধু সরকার পরিবর্তন না, আগে দরকার ভাল মানুষ হওয়া!


আমরা দেশে বিএনপির সরকারও দেখেছি, এরশাদের সরকারও দেখেছি আবার আওয়ামীলীগের সরকারও দেখেছি এবং দেখছি। সব সরকারই প্রায় একই রকমের। তাদের সবার ভাবখানা যেন তারা পায় ফেরেশতার মত আর অন্যান্যরা নরাধম! কেউবা বঙবন্ধুর গুনগান গেয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে এবং নিজের পকেট ভারিতে ব্যস্ত আবার অন্যান্যরা জিয়াউর রহমানের গুনগান গেয়ে একই রকম ফায়দা হাসিলে ব্যস্ত! ওদের অনেকের ভন্ডামী দেখলে খুবই দুঃখ লাগে। কয়দিনের জীবন আমাদের, অত ভন্ডামী করে কি লাভ!

আগে আপনারা সৎ হোন, ভাল হোন, বিনয়ী হোন, নিজেকে বড় কিছু একটা না ভেবে  নিজেকে একটু ছোট ভাবুন, সব মানুষকে ভালবাসতে শিখুন এমনকি আপনার পরম শত্রুকেও ঘৃনা না করে ভালবাসতে চেস্টা করুন, পরনিন্দা বন্ধ করুন, দেখবেন ওসব জালাও-পোড়াও আন্দোলন থাকবে না। ভাবুন আপনি একজন মানুষ, কয়দিন পর মরে-পচে ধুলার সাথে মিশে যাবেন তা যদি আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রীও হন তবুও, কিসের অহংকার আপনার, কিসের বড়ত্বের বড়াই আপনার?!

ধর্মীয় গোড়ামী এবং অন্ধ বিশ্বাসও মানুষে মানুষে ভয়ংকর বিভেদ এবং শত্রুতা তৈরি করে। জংগীবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। প্রকৃত ইসলাম ধর্ম বোঝা এবং প্রচারেও আমাদের সবার কম-বেশি ভুমিকা থাকা উচিত। তা নাহলে জংগীবাদের আগাছা প্রকৃত শান্তির ধর্ম ইসলামকে ঢেকে ফেলে দিবে, শুধু পুলিশ-রাব দিয়ে কক্ষনও জংগীবাদ দমন করা যায় না।

বিরোধীদলের আন্দোলন করারও তো একটা সীমা আছে, যাই ঘটুক না কেন, কি করে আপনি একটা সাধারন পরিবহন বাসে পেট্রল বোমা মারেন?! কত মানুষ আছে যারা নেহায়েতই বিপদে পড়ে হরতালের সময় বাসে বা ট্রেনে যেতে বাধ্য হয় তাদেরকে কি করে ওভাবে হত্যা করতে পারেন?! বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের বিদায় হয়ে বিএনপি-জামাত সরকার আসলেই কি দেশের কোন বিশেষ উন্নতি হবে, সবাই শান্তি এবং সমৃদ্ধিতে থাকবে?!

জামাত-শিবিরও খুবই ডেস্পারেট কারন তাদের অনেক নেতাদের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা সব ধরনের মৃত্যুদন্ডের বিপক্ষে কারন কোন মানুষ অন্য কোন মানুষকে হত্যা করার অধিকার রাখে না সে যত বড় অপরাধীই হোক না কেন। আমরা জীবন দিতে পারি না তাই জীবন নেওয়ার অধিকারও আমাদের নেই।

বিনপিও আগের তুলনায় বেশি ডেস্পারেট কারন তাদের অন্যতম প্রধান নেতা (তারেক রহমান) দেশেই ঢুকতে পারছেন না। আবার তার উপর মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এমনকি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা। আওয়ামীলীগ সরকার যেন রাতারাতি সব ঠিক করে দেশ বেহেশত বানিয়ে ফেলবে! শান্তির জন্য অনেক সময় কিছুটা কম্প্রোমাইজ করতে হয় তা যেন আওয়ামীলীগ বুঝতেই পারছে না বা আওয়ামীলীগ মনে করেছে ওসব পদক্ষেপ নিয়ে তারা তাদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করবে।

কিন্তু সেটা আওয়ামীলীগের পক্ষে মোটেও সম্ভব হবে না। বরং তারা ওসব পদক্ষেপ নিয়ে খুবই রিস্কের মধ্যে ধীরে ধীরে যাছে ফলে যখন তারা ক্ষমতায় থাকবে না তখন তারাই আবার প্রতিহিংসার শিকার হতে পারে! অনেক ক্ষেত্রেই আওয়ামীলীগ সরকারের দুরদর্শিতার অভাব। নিজেদের ফেরেশতা হওয়ার ভান করা আর অন্যান্যদের নরাধম মনে করাটাই মারাত্বক ভুল! ভুল সব মানুষই কম-বেশি করে। কাজেই বিনয়ী এবং ক্ষমাশীল হওয়াটা প্রত্যেকটি মানুষের জন্য অতি জরুরী।

যাহোক পরিশেষে আবারও বলি, আমাদের রাজনীতিবিদরা যদি প্রকৃত সৎ হয়, ভাল হয়, বিনয়ী হয়, নিজেদেরকে বড় কিছু একটা না ভেবে  একটু ছোট ভাবে, সব মানুষকে ভালবাসতে শেখে এমনকি তাদের পরম শত্রুকেও ঘৃনা না করে ভালবাসার চেস্টা করে, পরনিন্দা বন্ধ করে তাহলেই দেশে স্থায়ী শান্তি আর সমৃদ্ধি অবশ্যই আসবে। শুধু এক সরকার থেকে আরেক দলের সরকারে পরিবর্তন হলেই দেশে স্থায়ী শান্তি আর সমৃদ্ধি আসবে না। সবাইকে  ধন্যবাদ। ডঃ মুসা আলী, February 15, 2015. Copyright © www.QuranResearchBD.org

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।