শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


আল্লাহর নতুন নবী ও রাসুল বলে যে দাবী করছেন তিনি আসলে কি বলছেন?


একজন আমেরিকান নাগরিক যার নাম Marshall Vian Summers  যিনি আল্লাহর নতুন নবী ও রাসুল বলে দাবী করছেন যে তিনি অনেক ওহী পেয়েছেন। মহান আল্লাহ তাকে রাসুল হিসাবে পাঠিয়েছেন এবং তাকে অনেক বড় কিতাব দিয়েছেন (প্রায় ১০০০০ পৃস্টার কিতাব) যা ইতিপুর্বে কোন নবী বা রাসুলকে দেওয়া হয়নি।

nice-pic1

কারন আধুনিক মানুষ হরেক রকম সমস্যার সন্মুখিন হচ্ছে যা পূর্বের জামানায় ছিল না। তার কেতাব ইংরেজিতে ওহী হিসাবে এসেছে কারন বর্তমান বিশ্বে ইংরেজিই হোল আন্ত্রর্জাতিক ভাষা। যদিও এই বিশাল ওহীর বিভিন্ন দিক এখানে বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব নয় আমরা এখানে পাঠকদের বোঝার জন্য কিছু গুরুত্বপুর্ন পয়েন্ট উল্ল্যেখ করছি।

১. তিনি বলছেন নবী বা রাসুল আসা মোটেও শেষ হয়নি। মহান আল্লাহ যখন প্রয়োজন মনে করেন তখন একজন রাসুলের মাধ্যমে মানবজাতির সাথে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় ওহী এবং কেতাব নাজিল করেন। হজরত মুহাম্মদ সঃ একজন সত্য নবী এবং রাসুল ছিলেন এবং তাঁর পরে তাকেই (ওনার ডাক নাম মার্শাল) মহান আল্লাহ এই যুগ এবং আগামী অনেক শতাব্দির জন্য নবী এবং রাসুল হিসাবে মনোনিত করেছেন।

তিনি বলছেন মহান আল্লাহ মোটামুটি ১০০০ বছর পর পর একজন করে রাসুল পাঠান। তবে প্রতি যুগেই নবী আছে। সাধারন নবীরা (যারা প্রতি যুগ বা শতাব্দিতে আসেন) কোন কিতাব প্রাপ্ত না। শুধুমাত্র রাসুলগনই যারা (মোটামুটি প্রতি সহস্রাব্দিতে আসেন) তাঁরা আসমানী কিতাব পেয়ে থাকেন।

মার্শালও শেষ নবী এবং রাসুল না; তার পরেও আনুমানিক ১০০০ বছর পরে মহান আল্লাহ আবার তখনকার সময় এবং পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুসারে আবার একজন রাসুল পাঠাবেন। এভাবে কতদিন বা কত শতাব্দি ধরে চলবে তা আল্লাহ ছাড়া আর কেঊ জানে না। যদিও রাসুলগনকে বাইরের দৃস্টিতে সাধারন মানুষ বলে মনে হয়, সব রাসুলগনই ফেরেস্তা যদিও তাঁরা পৃথিবীতে মানুষরুপে বসবাস করেন।  তবে রাসুলগনও ভুলের উর্ধে না। কমবেশি সব রাসুলগনই ভুল করেছেন এবং করবেন।

২. পৃথিবীর সব প্রধান ধর্মই (যেমন, ঈহুদী, খৃস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, ইসলাম ধর্ম ইত্যাদি) আল্লাহ সুচনা করেছেন কিন্তু প্রত্যেক ধর্মকেই স্বার্থান্বেশী মানুষ (যেমন ধর্মব্যবসায়ী এবং রাজা-বাদশা ও শাসকগন) বিকৃত করে ধর্মের আসল এবং সার বস্তুকেই প্রায় বিলীন করে দিয়েছে!

৩. আপনার কি ধর্ম বিশ্বাস তার উপর আল্লাহ কোন বিচার করবেন না। শুধু ধর্ম বিশ্বাস আপনাকে বেহেস্তে নিতে পারবে না। আপনি কি ভাল ভাল কাজ করেছেন মানুষের কল্যানের জন্য, মানুষকে কতটা ভালবাসতে পেরেছেন, মানুষকে কতটা ক্ষমা করতে পেরেছেন, মানুষের প্রতি কতটা দয়াদ্র হতে পেরেছেন এগুলো মহান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন।

৪. ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করা, মানুষকে নির্যাতন করা, জিহাদ করা ইত্যাদি কোন রাসুলেরই শিক্ষা ছিল না। ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করা, মানুষকে নির্যাতন করা, জিহাদ করা ইত্যাদি আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলকে চরম অপমান করা; এটা মহা পাপ।

কোন রাসুলই কোন মৃত্যুদন্ডের বিধান দেননি বা ওহীপ্রাপ্ত হননি। মৃত্যুদন্ডের বিধান মানুষের বানানো ধর্মের নামে, আল্লাহর নামে, ন্যায়বিচারের নামে। সব রাসুলরাই ক্ষমা, ভালবাসা, মানবপ্রেম, উদারতা, দান-খয়রাত, সব ধর্ম এবং এমনকি ধর্মহীন মানুষেরও প্রয়োজনে সেবা করার শিক্ষা দিতে এসেছিলেন।

৫. মহান আল্লাহ আমাদের অত্যন্ত ভালবাসেন। কোন মানুষকেই আল্লাহ জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন না তা সে যত বড় পাপীই হোক না কেন। যে পাপ করবে তাকে বার বার এই পৃথিবী বা অন্য এলিয়েন গ্রহে জন্ম নিয়ে ভাল ভাল কাজের মাধ্যমে তাকে তার পাপের প্রায়ঃচিত্ত করতে হবে। আমরা প্রত্যেকটি মানুষই বেহেশত থেকে এসেছি এবং আল্টিমেটলি বেহেশতে ফিরে যাব (আল্লাহর কাছে ফিরে যাব)। তাড়াতাড়ি কেয়ামত হওয়ার কোনই সম্ভবনা নেই; এটা নিশ্চিত যে এই পৃথিবী আরো হাজার হাজার বছর টিকে থাকবে।

৬. আল্লাহ আমাদের কক্ষনও কোন আজাব বা গজব নাজিল করেন না। রোগবালাই, টর্নেডো, সাইক্লোন, ভুমিকম্প, বন্যা, সুনামী ইত্যাদি আল্লাহ আমাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য পাঠান না। ফিজিকালী আমরা আল্লাহর থেকে দূরে এই পৃথিবী নামক হেলে (নরকে) বাস করছি ফলে ওসব দুর্যোগ দুর্বিপাক আমাদের মোকাবেলা করেই চলতে হবে।

আমরা যদি এই রাসুলকে না মানি বা তাকে বিশ্বাস না করি তাহলেও আল্লাহ আমাদের কোন শাস্তি দিবেন না বা জাহান্নাম বরাদ্দ করবেন না। আল্লাহ আমাদের এই পৃথিবীতে জোর করে শাস্তি দেওয়ার জন্য পাঠাননি। আমরা আমাদের ইচ্ছাতে এই নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য কিছুদিনের জন্য বেহেস্ত থেকে এসেছি মাত্র। মুলত আমরা সবাই বেহেস্তের স্থায়ী বাসিন্দা। আমাদের প্রকৃত জীবনের (রুহের জীবন) কোন শুরু বা শেষ নাই তাই আমাদের প্রকৃত জীবন অবিনশ্বর।

৭. আপনি-আমি নবী-রাসুল না হয়েও এই পৃথিবীতে বাস করে দীর্ঘ সাধনা (বিশেষ ধ্যান বা মেডিটেশন) করার মাধ্যমে সরাসরী আল্লাহ বা তাঁর ফেরেস্তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারি। তাহলে আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব হবে মহান আল্লাহ আমাদের কার কার কোন কোন কাজ করার জন্য এই পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে পাঠিয়েছেন।

আল্লাহকে শুধু বিশ্বাস করাই না, এই রাসুল আমাদের এই শিক্ষা দিতে এসেছেন যে কিভাবে আমরা আমাদের স্রস্টার সাথে সরাসরী যোগাযোগ করতে পারি। এটাই ধর্মের প্রধান উদ্দেশ্য যা সব রাসুলগন তাঁদের অনুসারীদের শিক্ষা দিয়েছিলেন।

৮. অন্য সৌরজগতের গ্রহের এলিয়েনরা আমাদের পৃথিবীকে দখল করতে চায় এবং এই পৃথিবীর মানব এবং প্রাকৃতিক সম্পদ তারা তাদের জন্য ব্যবহার করতে চায়। এলিয়েনরা গোপনে এ ব্যাপারে তাদের ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করছে যা এই পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ জানেই না। এলিয়েনরা খুবই ধুর্ত; এমনকি ওরা সুযোগ বুঝে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় মানুষ অপহরন করছে।

এলিয়েনরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মানবজাতির তুলনায় অনেক অনেক অগ্রগামী; তাদের রকেট আলোর গতির চেয়েও বেশি গতিতে চলতে সক্ষম যা এখনও মানবজাতির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কল্পনাও করতে পারে না! এই ব্যাপারে পৃথিবীর মানুষকে আগাম সাবধান করার জন্য আল্লাহ এই রাসুলকে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ কতৃক এখন একজন রাসুল পাঠানো অনেকগুলি কারনের মধ্যে এটাও অন্যতম একটা কারন।

৯. পৃথিবীর মানুষ এর প্রকৃতি এবং পরিবেশ মারাত্বক ক্ষতি করে ফেলেছে অলরেডি, বিশেষ করে মাত্রাতিরিক্ত গ্রীনহাউজ গ্যাস ইমিশনের কারনে। এই কারনে পৃথিবীর জলবায়ু মারাত্বক আকার ধারন করবে। অবস্থা দিন দিন আরো অনেক খারাপের দিকে যাবে। বন্যা, খরা, সাইক্লোন, ফসলের ঘাটতি, জীবনঘাতি চরম উষ্ণ আবহাওয়ার কারনে বহু মানুষ জলবায়ু উদবাস্তু হয়ে পড়বে।

পৃথিবীর অনেক সমুদ্র বন্দর আগামী ৩০ বছরের মধ্যেই তলিয়ে যাবে সমুদ্রপৃস্টের পানির উচ্চতা বিপদজনকভাবে বাড়ার কারনে। এই ব্যাপারে পৃথিবীর মানুষকে আগাম সাবধান করা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্ততি নেওয়ার জন্য আল্লাহ এই রাসুলকে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ কর্তৃক এখন একজন রাসুল পাঠানো অনেকগুলি কারনের মধ্যে এটাও একটা কারন।

আমরা সত্য কি মিথ্যা তা জানি না কিন্তু যেহেতু একজন ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল বলে দাবী করছেন, বিষয়টা  খুবই গুরুত্বপুর্ন তাই সবার অবগতির জন্য আমরা এখানে দাবীকৃত নতুন ওহীর আলোকে কিছু মৌলিক দিক খুব সংক্ষেপে আলোচনা করলাম। আপনি এ ব্যাপারটা কিভাবে দেখেন তা আমাদের জানাতে পারেন email করেঃ

contact (at) quranresearchbd.org.   যাদের ইংরেজির জ্ঞান মোটামুটি ভাল তারা এ ব্যাপারে www.newmessage.org  ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত নিজে পড়ে বাছ-বিচার করতে পারেন। ধন্যবাদ।

22-07-16. Copyright © www.QuranResearchBD.org

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।