শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


আমরা রমজানের রোজা রাখলে আল্লাহর কি লাভ হয়?


মহান আল্লাহ আমাদের পিড়ন বা যন্ত্রনা দিয়ে কি আনন্দ লাভ করেন? যদি তা নাই হয়, তাহলে আমরা রমজানের রোজা রাখলে আল্লাহর কি লাভ হয়? গ্রীস্মের কঠিন গরমের দিনে, এত লম্বা সময় ধরে অভুক্ত থেকে পানি পর্যন্ত পান না করে এত কস্ট করার কি দরকার? মহান আল্লাহ নাকি আমাদের এই কস্ট খুব পছন্দ করেন! এটাই অধিকাংশ মুসললমানের বিশ্বাস। অন্ধ বিশ্বাসের আসলেই কি কোন মুল্য আছে?

না অন্ধ বিশ্বাস আমাদের সর্বনাশ করে? সম্প্রতি এক বৈজ্ঞানিক গবেষনায় প্রমানিত, রোজা রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক কারন রোজা শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে সহায়তা করে  এবং ইনসুলিন রেজিস্টেন্স অবস্থা সৃস্টি করে যার কারনে ডায়াবেটিস এবং হ্রদরোগ হতে পারে।

যেমন, এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ইংল্যান্ডে অন্য যে কোন জাতীগোস্টির তুলনায় মুসলমানদের মধ্যে ডায়াবেটিস তিনগুনেরও বেশি হয়। গবেষকরা  মুসলমানদের মধ্যে এই মাত্রাতিরিক্ত ডায়াবেটিসের হার এবং রোজা রাখার সম্পর্ক আছে  বলে প্রমান পেয়েছেন। আমি এখানে বিজ্ঞানের কথা বলছি; ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলছি না।

বিজ্ঞান যদি না মানেন তাহলে, এই লেখা কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে পড়ারও কোন অধিকার আপনার নেই। যাহোক, আমি নিজেও আল্লাহতে দৃড় বিশ্বাস করি, দয়াল নবী মুহাম্মদ সঃ আল্লাহর সত্য রাসুল ছিলেন বলে বিশ্বাস করি, ফেরেস্তাতে বিশ্বাস করি, আসমানী কিতাবে বিশ্বাস করি, কিন্তু আমি অন্ধ বিশ্বাসী নয়। অন্ধ বিশ্বাস অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুয়া জিনিস হয়ে থাকে। কোন কিছু বিশ্বাস করার পিছনে যথেস্ট সাক্ষ্য-প্রমান এবং নিদর্শন থাকতে হবে।

আমি দৃড়ভাবে বিশ্বাস করি মহান আল্লাহ আমাদের অত্যন্ত ভালবাসেন; এমনকি আমার আব্বা-আম্মা আমাকে যতটা  ভালবাসেন, আল্লাহ আমাকে তার চেয়েও অনেক বেশি ভালবাসেন। কাজেই আমার সেই মহান মালিক আমাকে পিড়ন বা যন্ত্রনা দিয়ে আনন্দ লাভ করেন এটা আমি কল্পনাও করতে পারি না।

রমজানের রোজা আমার জন্য বিরাট একটা যন্ত্রনার বিষয়। ভোররাতে সেহেরী খেতে ওঠাটাই আমার জন্য খুব বিরক্তিকর এবং কস্টকর একটা ব্যাপার। অতীতে বহু দিনই রোজা রেখেছি সেহেরী না খেয়েই। সারাটা দিন না খেয়ে না পানাহার করে এই কঠিন গরমের দিনে দৈনন্দিন কাজ করা মহা কস্টের একটা ব্যাপার। অনেক সময় পিপাসায় বুকটা যেন ফেটে যেতে চায়। ক্ষুধার যন্ত্রনায় পেটটা বার বার মোচড় দিয়ে ওঠে।

আমার এত কস্টের মাধ্যমে আমার মালিক আল্লাহর যদি কোন লাভ হত তাহলে আমি এই কস্ট আর যন্ত্রনা মেনে নিতাম। কিন্তু মহান আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং স্বপ্রসংসিত; তাঁর কোন লাভ বা ক্ষতি কেউ করতে পারে না। ফলে রোজা রেখে আমরা যে কস্ট পাই তা আমাদের অন্ধবিশ্বাসের ফল। মহান আল্লাহর তার কোন প্রয়োজন নেই বলেই আমার বিশ্বাস।

আজ থেকে প্রায় ১৫০০ বছর আগে যখন কুরআন নাজিল হয়, সেই আরবের মরুভুমিতে খাবারের অত্যন্ত অভাব ছিল, মানুষগুলো ছিল খুবই উগ্র, বদমেজাজী এবং খারাপ। ঐসব বর্বব মানুষদের নিয়ন্ত্রনের জন্য সেই প্রায় দুর্ভিক্ষপিড়িত পরিবেশে রোজার দরকার ছিল। আমার মত ভদ্র, পরোপকারী, আশেকে-আল্লাহ এর জন্য রোজার কোন প্রয়োজন নেই।

তাছাড়া রোজা রেখে শুধু কস্টই না, হ্রদরোগ এবং ডায়াবেটিসের ঝুকি আর বাড়াতে চাই না। আমার এই লেখায় যদি কেউ কোন কস্ট পেয়ে থাকেন বা বিরক্ত হন, তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন প্লীজ। মহান আল্লাহ বলেছে্ন‌ ধর্মের ব্যাপারে জবরদোস্তি নেই; কাজেই আপনার ধর্মবিশ্বাস আপনার আর আমার ধর্মবিশ্বাস আমার। মহান আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন। ধন্যবাদ।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*