শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


ঘুষ-দুর্নিতি থেকে শান্তিপ্রিয়, নিরিহ এবং ভদ্র মানুষরা মুক্তি চাই


গতকাল ইত্তেফাকে ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না ভূমি অফিসে এই রিপোর্ট পড়ে মন বেশ খারাপ হয়ে গেল। তাই এ বিষয়ে কিছু লিখতে বসলাম। অতীতে বাংলাদেশ অনেকবার বিশ্বের এক নম্বর দুর্নিতীবাজ দেশ হিসাবে প্রতিস্টা পেয়েছিল। লজ্জা…লজ্জা। সরকার সম্প্রতি সরকারী চাকুরীজীবিদের বেতন অনেক ক্ষেত্রেই দ্বিগুন করেছে। তার পরেও এই অবস্থা যে অধিকাংশ সরকারী কাজ বিনা ঘুষে হয় না। ঘুষ না দিলে বিভিন্ন রকম হয়রানী।

Bribe money

এ কাগজ ঠিক নেই, ও কাগজ ঠিক নেই ইত্যাদি। আমার এক বন্ধু পাসপোর্ট করতে যেয়ে একই সমস্যায় পড়ে। ওরা বলে এ কাগজ ঠিক নেই, ও কাগজ ঠিক নেই ইত্যাদি। তার সময় খুব কম ছিল তাই শেষ পর্যন্ত দালাল দিয়ে পাসপোর্ট করে নেই। তখন আর কোন সমস্যা হয়নি, সেই একই কাগজে স্মুদলি পাসপোর্ট হয়ে যায়! অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ বিপদে পড়ে থানায় বা পুলিশের কাছে গেলেও একই অবস্থা!

যারা ঘুষ খাচ্ছে তারা কিন্তু অশিক্ষিত, মুর্খ ব্যক্তি নয়! অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অথবা মাস্টার্স ডিগ্রীধারী। ওরা কি লেখাপড়া শিখেছে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে? মানবিকতা, ভদ্রতা, সততার কোন কিছুই কি ওদের মধ্যে অবশিস্ট নেই? ওসব ঘুষখোরদের জন্য আমি যে একজন শিক্ষিত ব্যক্তি তা সমাজে বলতে লজ্জা হয়।

কারন সমাজের মানুষ আমাকেও হয়ত ওদের একজনই মনে করবে! আমিও সরকারী প্রথম শ্রেনীর পদে চাকুরী করেছি এবং আমার ঘনিস্টজনরা এখনোও করছে। আমাদের ঘুষ খাওয়ার অনেক সুযোগ ছিল এবং এখনো আছে। কিন্ত আমরা ঘুষের টাকা পায়খানার চেয়েও নিকৃস্ট কিছু মনে করি।

চীনে আইন আছে নিদিস্ট অংকের চেয়ে বেশি ঘুষ খাওয়ার শাস্তি মৃত্যুদন্ড-ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে ওখানে ওধরনের দুর্নিতিবাজদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। ঘুষের পরিমান অনুযায়ী শাস্তি; বিভিন্ন মেয়াদের জেল এবং জরিমানা। চীনের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধানকে (সেদেশের অন্যতম সর্বচ্চো আমলা) অনেক টাকা ঘুষ খাওয়ার অপরাধে ওভাবে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছিল।

আমি ব্যক্তিগতভাবে কারো মৃত্যুদন্ড চাই না কিন্তু ঘুষখোর ক্যবিনেট সচিব হলেও তার কঠোর শাস্তি এবং লাঞ্চনা চাই। ঘুষ এবং দুর্নিতি শান্তিপ্রিয়, নিরিহ এবং ভদ্র মানুষদের জীবন অতিস্ট করে তুলেছে।

আমাদের পরামর্শ হল, যদি কোন সরকারি অফিসে ঘুষ চায় বা অযথা হয়রানী করে, সেই অফিসার/কেরানীকে আগে সাবধান করেন, বুঝান। তাতে যদি কাজ না হয় কিল, ঘুষি দিবেন। তবে কিল ঘুষিটা আস্তে দিবেন! এখানে প্রধান উদ্দেশ্য হল ওদের লাঞ্চিত করা, সে যত বড় সরকারি অফিসারই হোক না কেন। জনগনের ট্যাক্সের টাকায় ওদের বেতন-বোনাস হয়। ওরা পাবলিক সার্ভেন্ট।

ওদের কাজ হল সততা এবং ভদ্রতার সাথে জনগনকে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া। উল্টো ওরা জনগনকে বিভিন্ন সরকারী অফিস-আদালতে জিম্মী করে ফেলেছে! ওদের সামাজিক ভাবে লাঞ্চিত করা খুব জররী হয়ে দাড়িয়েছে। কয়েকজন মিলে যাবেন যাতে পরে প্রয়োজনে আদালতে সাক্ষী সবদ পান! তবে ভাল অফিসার-কেরানী তো অবশ্যই কম-বেশী সব অফিসেই আছে।

ওসব ভাল অফিসার-কেরানীরাও অনেক ক্ষেত্রেই কোনঠাসা হয়ে পড়েন ঘুষখোরদের দাপটে! ঘুষ, দুর্নিতির জন্য দেশের এই অবস্থা। অবশ্য মনে হয় বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার বেশ হার্ডলাইনে গেছে ঘুষ-দুর্নিতি দমন করার জন্য। আজকাল প্রায়শঃ বড় বড় অফিসাররা গ্রেফতার হচ্ছে ঘুষ-দুর্নিতির অভিযোগে। এটা ভাল আলামত! তবে সচেতন জনগন হিসাবে আপনার আমারও দ্বায়িত্ব আছে! সরকারের একার পক্ষে দেশকে দুর্নিতিমুক্ত করা সম্ভব না। ধন্যবাদ।

রিলেটেড-লিংকঃ উন্নয়ন এগিয়ে নিতে অবশ্যই দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে হবে : দুদক চেয়ারম্যান

Sunday, 20 November 2016


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।