শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


সুদ এবং জ্বেনা-ব্যভিচার – ১৫০০ শত বছর আগে এবং বর্তমানে


ভাই আপনাদের  যুগ উপযোগী কুরআন বুঝা অতি জরুরী আর্টিকেলটা পড়ে আমি কুরআন সম্পর্কে অনেক কিছু বুঝতে পারলাম। আমি তো আগে মনে করতাম এই আধুনিক যুগেও হুবুহু এবং আক্ষরিকভাবে কুরআন অনুসরন করতে হবে। তাই আমি অনেক চিন্তা করে “সুদ এবং জ্বেনা-ব্যভিচার, ১৫০০ শত বছর আগে এবং আধুনিক যুগে” প্রসংগে  এই আলোচনাটা পাঠালাম। আশা করি তা প্রকাশ করে অন্যান্যদের এই ব্যাপারে মতামত দেওয়ার সুযোগ দিবেন।

সুদঃ পবিত্র  কুরআন অনুযায়ী সুদ এবং জ্বেনা-ব্যভিচার উভয়ই হারাম। তবে সুদ মনে হয় একটু বেশি হারাম কারন সুদখোরদের সাথে আল্লাহ ও তাঁর রসুল যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন এবং চিরকালের জাহান্নামের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে [২ সূরা আল বাকরাহ ২৭৫, ২৭৯] । যদিও  জ্বেনা-ব্যভিচার কুরআন অনুযায়ী একটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ [২৪ সূরা আন-নূর ২] কিন্তু তার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রসুল যুদ্ধ ঘোষনাও করেননি বা চিরকালের জাহান্নামের ওয়াদাও দেননি।

আমাদের মনে রাখতে হবে কুরআন যখন নাজিল হয় তখন আরব এবং অনেক মানব সমাজে দাস-প্রথা ছিল। কি জঘন্য ও বর্বর সমাজ ছিল সেটা ভাবা যায়! আমার মনে হয় গরিব এবং অসহায় মানুষ ধনীদের কাছ থেকে চড়া এবং চক্রবৃদ্ধি সুদে ঋন নিয়ে তা আর পরিষোধ করতে না পেরে ধনীদের দাস-দাসী হয়ে যেত। হয়ত আরো অন্য ভাবেও মানুষ দাস-দাসী হত কিন্তু সুদ ছিল দাস-দাসী হওয়ার অন্যতম একটা মাধ্যম। এখনকি যে কোন আধুনিক দেশে আর ওই জঘন্য সুদ প্রথা আছে? আমার জানামতে কোথাও নেই।

এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধনী মানুষরা ব্যাংক থেকে ঋন গ্রহন করে ব্যবসা সম্প্রসারনের জন্য যাতে নতুন নতুন কর্মসংস্থানও সৃস্টি হয়। ভেবে দেখুন আমাদের দেশে যে কোন একটা প্রতিস্টিত বেসরকারী ব্যাংকে কত লোক চাকুরী করে তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। একটা ব্যাংক প্রাপ্ত মুনাফা আমানতকারীদের মধ্যে ভাগ করে দেয় এবং ব্যাংক পরিচালনার খরচ সংগ্রহ করে সেই সাথে ব্যাংক উদদ্যগতারাও লাভের একটা অংশ পায়।

এখানে আমানতকারী, শেয়ারহোল্ডারগন ও ব্যাংক উদদ্যগতাদের ঝুঁকিও থাকে ব্যাংক দেওলিয়া হওয়ার। কাজেই এটা একটা আধুনিক ব্যবসা। আবার ব্যাংক ইচ্ছাকৃতভাবে মুনাফা নিতে পারবে না, প্রতিটা দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের জনগনের স্বার্থে সব বানিজ্যিক ব্যাংককে কঠরভাবে নিয়ন্ত্রন করে। কাজেই এখানে শোষন করার কোন যুযোগ নেই।

পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছিল এমন একটা সময়ে এবং এমন একটা অঞ্চলে যেখানে কোন রাস্ট্রীয় কাটামোয় ছিল না; ছিল কিছু বর্বর, অসভ্য গোত্র যারা তুচ্ছ কারনে মারামারি, খুন-খারাবী আর রক্তপাত ঘটাত! এখনও অধিকাংশ আরবরা আমাদের মত সভ্য হতে পারেনি তার প্রমান হল ওদের দেশে এখনো অনেক মধ্যযুগীয় বর্বর আইন আছে! যাহোক স্পস্টতই, বর্তমান আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবসার সাথে কুরআনে বর্নিত সুদের কোন সম্পর্ক নেই।

জ্বেনা-ব্যভিচারঃ জ্বেনা-ব্যভিচার একটা খারাপ জিনিস কিন্তু পবিত্র কুরআন নাজিলের সময় জ্বেনা-ব্যভিচার যতটা খারাপ ছিল এখন কিন্তু তা নয়! জ্বেনা-ব্যভিচারের অনেকগুলি খারাপ দিক আছে কিন্তু তার মধ্য প্রধান খারাপ দিক হল একজনের জন্মান সন্তান আরেকজনের হয়ে যায় তার অজান্তেই! এটা একটা মারাত্বক প্রতারনা।

ফলে যার সন্তান না তার উপরে সন্তান লালন পালনের বোঝা চাপে এবং উক্ত অবৈধ সন্তান তার নকল পিতার উত্তোরাধীকারী হয়ে যায় উক্ত ব্যক্তির প্রকৃত সন্তানদের সাথে! কাজেই দেখুন এটা কত বড় একটা জুলুম, অনাচার এবং বিশসৃংখলা! একটা নারী এই জন্য একসাথে দুই জন পুরূষের স্ত্রী হতে পারেন না।

কিন্তু লক্ষ্য করুন একটা নারী দশ জন পুরুষেরও স্ত্রী হতে পারে বৈধভাবে কিন্তু সেটা হতে হবে আলাদাভাবে, একসাথে না। লক্ষ্য করুন এক্ষেত্রে উক্ত নারীর তার বিভিন্ন স্বামীদের থেকে পাওয়া সন্তানদের পিতৃপরিচয় এবং উত্তরাধীকারিতার কোন সমস্যা থাকবে না ফলে পবিত্র কুরআন তা নিষেধ করেনি।

কাজেই এটা সুস্পস্ট যে সন্তানের পিতৃপরিচয় এবং উত্তরাধীকারিতার মহা জটিলতার কারনেও মুলত জ্বেনা-ব্যভিচার হারাম করা হয়েছিল। আধুনিক যুগে কিন্তু কুরআন নাজিলের সময়ের মত জটিলতা নেই বললেই চলে। একজন পুরুষ এবং একজন নারীর মধ্য দৈহিক সম্পর্ক হতে পারে সন্তান আসার পথ বন্ধ করেই, স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে যেটা কুরআন নাজিলের সময়ে কল্পনাও করা যেত না।

আমার এক মহিলা সহকর্মী বন্ধু আমাকে তো একদিন বলেই ফেললো তোমাদের যদি একাধিক বউ থাকতে পারে আমাদের কেন একাধিক স্বামী বা পার্টনার থাকতে পারবে না? আমি বললাম তাহলে তোমার কোন্‌ স্বামী বা পার্টনারের মাধামে কোন্‌ বাচ্চা পেলে তা কিভাবে নির্ধারন করবে? এটা একটা বিরাট সমস্যা না? উনি জবাব দিলেন, কেন প্রয়োজন যদি হয় আমার সন্তানদের পিতৃত্য নির্নয়ে প্যাটার্নাল ডিএনএ পরীক্ষা করব।

এক পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকলে সন্তানের পিতা কে তা কোন পরীক্ষা ছাড়াই শতভাগ নিশ্চত বলা যায় কিন্তু একজন নারীর যদি একাধিক স্বামী থাকে তাহলে সন্তানের পিতা কে তা জানার জন্য প্যাটার্নাল ডিএনএ পরীক্ষা একরকম অনিবার্য আবার প্যাটার্নাল ডিএনএ পরীক্ষা যে শতভাগ নিশ্চত ফলাফল দেয় তা আমি বলতে পারব না কারন আমি প্যাটার্নাল ডিএনএ পরীক্ষার এক্সপার্ট নই।

যাহোক, এই আধুনিক যুগে একজন নারীর যে একাধিক স্বামী বা পার্টনার থাকতে পারবে না তা এখন বলাটা মুসকিল যদি উক্ত নারী তার স্বামী বা পার্টনারদের সাথে সম্পর্কে একটা ন্যয্যে বুঝাপড়ায় আসতে পারে। মহান আল্লাহ তো আমাদের (পুরুষ এবং নারীদের) অযথা সমস্যায় ফেলতে চান না। কাজেই ১৫০০ বছর আগের জ্বেনা-ব্যভিচার আর বর্তমান সময়ের জ্বেনা-ব্যভিচারের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। থ্যাংক ইউ।

Copyright © www.QuranResearchBD.org

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।