শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


জংগিবাদের পক্ষে এবং বিপক্ষে কুরআন এবং হাদিস!


জংগিবাদের পক্ষে এবং বিপক্ষে কুরআন এবং হাদিস উভয়তেই কথা আছে! যারা শুধু কুরআন দিয়েই সব সমস্যার সমাধান করতে চান তাদের জানা উচিত তা সম্ভব না কারন আসল কুরআন তো আপনার কাছে নেই! আসল কোরআন লাওয়ে মাহফুজে সুরক্ষিত এবং আপনার কাগুজে কোরআন সেইভাবে সুরক্ষিত নয় যার কারনেই কুরআনে অনেক জায়গাতেই পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া যায়। মহান আল্লাহ আমাদের কাগুজে কোরআন সংরক্ষন করবেন এমন কথা কোরআনে কোথাও বলেননি। কাজেই এখানেই আমাদের সবার বুঝার ভুল!

জংগিবাদের পক্ষে এবং বিপক্ষে কুরআনে যেমন আছে তেমনি হাদিসেও আছে। ফলে অনেক হাদিস অনুসারীরা শান্তির পক্ষে কাজ করছেন যেমন তাবলীগ জামাত, কাদিয়ানী মুসলমান, অনেক হক্কানী পীর আছেন ইত্যাদি। অনেক হাদিস অনুযায়ী তো বিশ্বাস করেন যে কিছু দোয়া-দরুদ আর এবাদত বন্দেগী করলেও নির্ঘাত বেহেশতে যাওয়া যাবে কাজেই জংগী হওয়ার একদম প্রয়োজন নেই।

আবার কিছু মুসলমান জংগী হয়ে গেছে (কিছু হাদিস কিভাবে হত্যা, নিস্টুরতা, নির্মমতাকে উতসাহিত করে!) যেমন,জামাত, তালেবান, জেএমবি, আল-কায়েদা, বোকো-হারাম, আইএস ইত্যাদি। যাহোক, এবার আসুন দেখা যাক কুরআন কোথায় কোথায় জংগীবাদের পক্ষে এবং বিপক্ষে কথা বলছে। এটা কোন কমপ্লিট লিস্ট না; আরো এ সংক্রান্ত অনেক আয়াত কুরআনে আছে।

জংগিবাদের পক্ষে আয়াতঃ

জোর করে মুসলমান বানানো যেতে পারে নয়ত আজীবন কর দিতে হবে!

[9 সূরা তাওবাহ 29] তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

দি বেহেশতে যেতে চাও তবে মারো নয়ত মরো, এছাড়া মুলত আর কোন পথ নেই!

[9 সূরা তাওবাহ 111] আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাহেঃ অতঃপর মারে ও মরে। তওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআনে তিনি এ সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল।…

এ কোন্‌ ধরনের বর্বর শাস্তি! দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করলেও ঐ শাস্তি! হরতালের পিকেটিং করার অপরাধে এই শাস্তি দেওয়া যাবে?! কি ভয়ংকর! ISIS এর জংগিরা কি এ ধরনের আয়াত থেকেই শিক্ষা নিয়েছে?!

[5 সূরা  মায়েদাহ 33] যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।

চোরের হাত কেটে পঙ্গু করে দাও! যাতে করে সে এবং তার পরিবারের সদস্যারা সমাজের বোঝা হয়!

[5 সূরা  মায়েদাহ 38] যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে তাদের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসেবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে হুশিয়ারী। আল্লাহ পরাক্রান্ত, জ্ঞানময়।

জংগিবাদের বিপক্ষে আয়াতঃ

[2 সূরা বাকারাহ্  256] দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই।…

[10. সূরা ইউনুস 99] আর তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসতো সমবেতভাবে। তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য?

[6 সূরা আন-আম 107] যদি আল্লাহ চাইতেন তবে তারা শেরক করত না। আমি তোমাকে তাদের সংরক্ষক করিনি এবং তুমি তাদের কার্যনির্বাহী নও।

[39 সূরা যুমার 41] আমি তোমার প্রতি সত্য ধর্মসহ কিতাব নাযিল করেছি মানুষের কল্যাণকল্পে। অতঃপর যে সৎপথে আসে, সে নিজের কল্যাণের জন্যেই আসে, আর যে পথভ্রষ্ট হয়, সে নিজেরই অনিষ্টের জন্যে পথভ্রষ্ট হয়। তুমি তাদের জন্যে দায়ী নও।

[109 সূরা কাফিরুন 6] (হে রাসুল বল) তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্যে এবং আমার ধর্ম আমার জন্যে।

আহলে কিতাবদের খাদ্য ও নারী আমাদের জন্য হালাল এবং আমরাও তাদের জন্য হালাল। চমৎকার অসাম্প্রদায়িকতার নিদর্শন। অথচ অন্য সুরাতে দেখলেন আহলে কিতাবদের সাথে যুদ্ধ করতে বলা হচ্ছে যদি না তারা ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী চলে!

[5 সূরা মায়েদাহ 5] আজ তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা হল। আহলে কিতাবদের খাদ্য তোমাদের জন্যে হালাল এবং তোমাদের খাদ্য তাদের জন্য হালাল। তোমাদের জন্যে হালাল সতী-সাধ্বী মুসলমান নারী এবং তাদের সতী-সাধ্বী নারী, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তোমাদের পূর্বে, যখন তোমরা তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর তাদেরকে স্ত্রী করার জন্যে…।

সম্ভবত সহনশীলতার এত বড় উদাহারন আর পৃথিবীতে কোথাও খুজে পাওয়া যাবে না। পবিত্র কুরআন সহনশীলতার যে শিক্ষা দিয়েছে তা যদি আমাদের সমাজে ১০% ও অনুসরন করা হয় তাহলে আমাদের সমাজে জংগিবাদের কোন অস্থিত্ব থাকবে না।

[5 সূরা মায়েদাহ 27] তুমি তাদেরকে আদমের দুই পুত্রের বাস্তব অবস্থা পাঠ করে শুনাও। যখন তারা কিছু উৎসর্গ নিবেদন করেছিল, তখন তাদের একজনের উৎসর্গ গৃহীত হয়েছিল এবং অপরজনের গৃহীত হয়নি। সে বললঃ আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব। সে বললঃ আল্লাহ ধর্মভীরুদের পক্ষ থেকেই তো গ্রহণ করেন।

[28] যদি তুমি আমাকে হত্যা করতে আমার দিকে হস্ত প্রসারিত কর, তবে আমি তোমাকে হত্যা করতে তোমার দিকে হস্ত প্রসারিত করব না। কেননা, আমি বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহকে শ্রদ্ধা-ভক্তি করি।

এই জন্যই অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ এবং নেতারা মডারেট মুসলমান বলে নিজেদেরকে পরিচয় দেন এবং মডারেট ইসলাম প্রচার-প্রসারে কাজ করেন। আমিও একজন মডারেট মুসলমান। অনেক লোক আছে যারা গোটা কোরানকেই শয়তানের বানী বলে মনে করে এমনকি অনেকে কোরান পোড়ানোর ঘটনাও ঘটিয়েছে।

তারা আসলে গোটা কোরান গভীর মনযোগের সাথে পড়ে দেখেনি তাহলে তারা কুরআন থেকে অনেক ভাল কিছু শিক্ষাও নিতে পারত। Copyright © www.QuranResearchBD.org


2 Brilliant Comments - Join Discussion Now!

  1. পারভেজ says:

    বিরাট সমস্যা! তাহলে জংগি হব না শান্তিকামী হব?! আমার বিবেক বলে শান্তিকামী হও। সেটাই যৌক্তিক এবং সঠিক।

  2. masum says:

    u r in great wrong, ur thought about paper quran is wrong, Hazrat usman United the quran, so u r wrong if u r a Muslim u should do Tauba, thanks

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।