শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


কিছু কিছু সন্দেহজনক হাদিস (সম্ভবত জাল) কিভাবে হত্যা, নিস্টুরতা, নির্মমতাকে উৎসাহিত করে!!


আমাদের রাসুল সাঃ ছিলেন শান্তির অগ্রদুত; সমগ্র মানব্জাতির জন্য রহমত স্বরুপ। কাজেই রাসুল সাঃ কক্ষনও হত্যা, নিস্টুরতা, নির্মমতাকে উৎসাহিত করেননি বরং তিনি ছিলেন ক্ষমা আর ভালবাসার মুর্ত প্রতিক।

১। সুলায়মান ইবন হারব (র) ………. আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ উকল বা উরায়না গোত্রের কিছু লোক (ইসলাম গ্রহণের জন্য) মদীনায় এলে তারা পীড়িত হয়ে পড়ল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের (সদকার) উটের কাছে যাবার এবং ওর পেশাব ও দুধ পান করার নির্দেশ দিলেন। তারা সেখানে চলে গেল। তারপর তারা সুস্থ হয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর রাখালকে হত্যা করে ফেলল এবং উটগুলি হাঁকিয়ে নিয়ে গেল। এ খবর দিনের প্রথম ভাগেই এসে পৌঁছল। তিনি তাদের পেছনে লোক পাঠালেন। বেলা বেড়ে উঠলে তাদেরকে (গ্রেফতার করে) আনা হল। তারপর তাঁর আদেশে তাদের হাত পা কেটে দেওয়া হল। উত্তপ্ত শলাকা দিয়ে তাদের চোখ ফুঁড়ে দেওয়া হল এবং গরম পাথুরে ভূমিতে তাদের নিক্ষেপ করা হল। তারা পানি চাইছিল, কিন্তু দেওয়া হয়নি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি | প্রথম খন্ড | অধ্যায়ঃ উযূ | হাদিস নাম্বার: 233]

২। ‘আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ (রা)… আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্নিত যে, মক্কা বিজয়ের বছর রাসুলুল্লাহ (সাঃ)লৌহ শিরস্ত্রাণ পরিহিত অবস্থায় (মক্কা) প্রবেশ করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) শিরস্ত্রাণটি মাথা থেকে খোলার পর এক ব্যক্তি এসে তাঁকে বললেন, ইবন খাতাল কা’বার গিলাফ ধরে আছে। তিনি বললেনঃ তাঁকে তোমরা হত্যা কর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি | তৃতীয় খণ্ড | অধ্যায়ঃ হজ্ব অধ্যায় | হাদিস নাম্বার: 1727]

৩। আলী ইবন আবদুল্লাহ (র.) ……. জাবির ইনব আবদিল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, কা’আব ইবন আশরাফকে হত্যা করার দায়িত্ব কে নিতে পারবে ? আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সে তো কষ্ট দিয়েছে। মুহাম্মদ ইনব মাসলাম (রা.) তখন বললে, আমি। পরে তিনি তার কাছে গিয়ে বললেন, আমরা তোমার কাছে এক ওয়াসাক অথবা বলেছেন দু’ওয়াসাক (খাদ্য) ধার চাচ্ছি। সে বলল, তোমাদের মহিলাদেরকে আমার কাছে বন্ধক রাখো। তিনি বললেন, তুমি হলে আরবের সেরা সুন্দর ব্যক্তি। তোমার কাছে কিভাবে মহিলাদেরকে বন্ধ রাখতে পারি?

সে বলল, তাহলে তোমাদের সন্তানদের আমার কাছে বন্ধক রাখো। তিনি বললেন, কিভাবে সন্তানদেরকে তোমার কাছে বন্ধক রাখি। পরে এই বলে তাদের নিন্দা করা হবে যে,দু’এক ওয়াসাকের জন্য তারা বন্ধক ছিল, এটা আমাদের জন্য হবে বিরাট কলংক। তার চেয়ে বরং আমরা তোমার কাছে আমাদের অস্ত্র বন্ধক রাখতে পারি। রাবী সুফিয়ান (র.) …….শব্দের অর্থ করেছেন অস্ত্র। তারপর তিনি তাকে পরে আসার প্রতিশ্রুতি দিলেন এবং (পরে এসে) তাকে হত্যা করলেন এবং নবী (সা)-এর কাছে এসে সে সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি | চতুর্থ খণ্ড | অধ্যায়ঃ বন্ধক | হাদিস নাম্বার: 2345]

৪। ঐতিহাসিক ইবনে ইসহাক ইমাম যুহরী, আব্দুল্লাহ ও কা’ব বিন মালেক রাঃ এর সুত্রে বর্ণনা করেন যে, আওস এবং খাযরাজগোত্রের লোকেরা একে অপরের সাথে ইসলামের জন্য যুদ্ধে কোন গোত্র কেমন ভুমিকাপালন করেছে তা নিয়ে প্রতিযোগিতাকরতো। অন্যান্য দিক থেকে উভয় গোত্র প্রায় সমান সমানথাকলেও আওস গোত্র দ্বারা সংগঠিত কা’ব বিন আশরাফের হত্যাকাণ্ডের মতো কোন উদাহরণ খাযরাজ গোত্রের লোকেরা উপস্থাপন করতে পারলোনা।

তখন তারা রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে বললো, ইয়া রসুলাল্লাহ, আপনি আমাদেরকে এমন এক ব্যক্তির নাম বলে দিন যাকে হত্যা করে আমরা আওস কর্তৃক কা’ব বিন আশরাফকে হত্যার কৃতিত্বের সমতা রক্ষা করতে পারি। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন তাদেরকে আবু রাফে’কে হত্যার নির্দেশ দেন।

এইঅভিযানে পাঁচজন সাহাবীর একটি টিম অংশ নেয়।
তারা হলেন

(১) আব্দুল্লাহ ইবনে আতীক
(২)মাসউদ বিন সিনান
(৩) আব্দুল্লাহ বিন উনায়স
(৪) আবু কাতাদা বিন হারিস
(৫) খুযা’য়ী বিন আল আসওয়াদ রাঃ।

সহীহ আলবুখারিতে বারা বিন আযিব রাঃ এর সুত্রে বর্ণীত রয়েছে যে তিনি বলেন,

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনসারদের একটি দলকে ইহুদী আবু রাফে’কে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। তাদের মধ্য থেকে একজন (আবুআতীক রাঃ) এগিয়ে গিয়ে ইহুদীদের দুর্গে প্রবেশ করেন। তিনি বলেন, অতঃপর আমিগিয়ে তাদের পশুর আস্তাবলে প্রবেশ করলাম আর তারা দুর্গের প্রধান ফটক বন্ধকরে দিল। এদিকে তাদেরএকজনের একটি গাধা হারিয়ে গিয়েছিলো; তারা গাধাটি খুঁজতে বেরিয়ে পড়লে আমিও গাধা খোঁজার ভানধরে তাদের সাথে বেরিয়ে পড়লাম। আমি তাদেরকে বুঝাতে চাচ্ছিলাম যে আমিও তাদেরসাথে গাধা খোঁজ করছি। অবশেষে গাধাটি পেয়ে গেলে তারা যখন দুর্গে প্রবেশ করেতখন আমিও তাদের সাথে আবার দুর্গে প্রবেশ করি।

তারপর আমি লক্ষ করলাম যে তারা দুর্গের ফটকবন্ধ করে চাবিটি একটি কুলুঙ্গির মধ্যে রেখে দিলো। অতঃপর তারা ঘুমিয়ে পড়লে আমি চাবি নিয়ে ফটকখুলে রেখে (অন্ধকারের মধ্যে হাতড়ে) আবু রাফে’র ঘরে গিয়েপৌঁছলাম। আমি ‘ও আবু রাফে’ বলে ডাক দিলে সে আমার ডাকে সাড়া দিলো। আমি তার আওয়াজ দ্বারা তার অবস্থানঅনুমান করে তরবারির আঘাত হানলাম, আর অমনি সে চিৎকার করে উঠলো; আর আমি ঘরথেকে বেরিয়ে এলাম। যেন তার সাহায্যের জন্য কেউ এগিয়ে এসেছে এমন ভান করে আমিআবার ঘরে প্রবেশ করে গলার স্বর পরিবর্তন করে জজ্ঞাসা করলাম, ‘ও আবু রাফে’ (চিৎকার করলে কেন) তোমার কী হয়েছে?

সে বলল তোমার মা ধ্বংস হোক (তাড়াতাড়ি আসছো না কেন) কি হল তোমার, কে যেন আমার ঘরে ঢুকে আমাকে আঘাত করেছে। তিনি (আবু আতীক) বলেন, অতঃপর আমি আমার তরবারি তার পেটের উপর রেখে শরীরের সকল শক্তি দিয়ে এমন জোরে চেপে ধরলাম যে তার (মেরুদণ্ডের) হাড্ডি পর্যন্তগিয়ে ঠেকার শব্দ হল। (এরপর তার চিৎকারে ও বাচ্চাদের কান্নাকাটির শব্দে অন্যরাও জেগে উঠে দরজা খুলতে লাগলো)

অতঃপর আমি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসতে গিয়ে পড়ে গেলাম এবং এতে আমার পায়ে প্রচণ্ড আঘাত পেলাম। যাই হোক কোন মতে আমি বেরিয়েএসে আমার সঙ্গীদেরসাথে মিলিত হলাম। আমি তাদেরকে বললাম, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি (আবু রাফে’র) মৃত্যু সংবাদ প্রচারকারিণীর ঘোষণা শুনতে না পাই ততক্ষনপর্যন্ত আমি এ স্থান ত্যাগ করবো না।

সত্যিই হিজাযের বিখ্যাত ব্যবসায়ী আবুরাফে’র মৃত্যু সংবাদ না শুনে আমি সে স্থান ত্যাগ করলাম না। মৃত্যু সংবাদ যখন আমি শুনলাম তখন আমি দাড়িয়ে গেলাম এবং আমার যেন কোন ব্যথাই ছিলো না। অবশেষে আমি আল্লাহর রসূলের কাছে গিয়ে আবু রাফে’কে হত্যার খবর দিলাম। (বুখারী হাদিস নং ৩০২২, ৩০২৩, ৪০৩৮-৪০৪০; আধুনিক প্রকাশনীর ছাপায় হাদিস নং২৮০০ এবং ইসলামী ফাউন্ডেশনপ্রকাশিত ছাপায় হাদিস নং ২৮১০)

৫। আবূ হুরায়রা বলেন, রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেছেন, কেয়ামত কায়েম হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা ইহুদীদের সাথে এমন অবস্থায় যুদ্ধ করবে যে, পাথরের আড়ালে লুক্কায়িত ইহুদী সম্পর্কে পাথর বলবে, হে মুসলিম! আমার পেছনে এক ইহুদী লুক্কায়িত আছে, তাকে হত্যা কর। সূত্রঃ কিতাব – কিতাবুল বোখারী, অধ্যায় – কিতাবুল-জিহাদ

Copyright © www.progressive-Muslim.org

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*