শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


আওয়ামীলীগ এবং বিএনপিতে উগ্রবাদিতার উৎস!


আমরা আগে দেখতাম বাংলাদেশের প্রধান দুটি দল আওয়ামীলীগ এবং বিএনপির সম্পর্ক এত খারাপ ছিল না।  উভয় দলেই যথেস্ট সংখ্যক প্রকৃত ধার্মিক, প্রগতিশীল এবং উদারপন্থি লোক ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে  আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি প্রগতিশীল এবং উদার ভাবধারা থেকে সরে এসেছে এবং উভয় দলই এখন কট্টরপন্থা এবং পোড়ামাটির নীতি গ্রহন করেছে।

এর কারনটা কি? কারনটা আসলে খুবই পরিস্কার যদি একটু তলিয়ে দেখা যায়। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কিছু উগ্রপন্থি তথাকথিত দল যেমন জাসদ (হাসানুল হক ইনু)  এর মত কট্টরপন্থির সাথে হাত মিলিয়েছে যেটা  আওয়ামীলীগ এর মত একটা প্রতিস্টিত দলের জন্য আত্বহত্যার সামিল।

হাসানুল হক ইনু আমাদের এলাকায় এক সমাবেশে একদিন বলেছিলেন বংগবন্ধু রাজাকারদের মাফ করলেও আমরা যদি ক্ষমতায় যেতে পারি তাহলে রাজাকারদের মাফ করব না! কত বড় ধৃস্টতাপুর্ন কথা। বংগবন্ধু রাজাকারদের মাফ করেছিলেন কারন তিনি মহান, ক্ষমাশীল এবং দয়ালু ব্যক্তি ছিলেই তাই এবং তিনি বুঝেছিলেন এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করে শুধু অশান্তিই বাড়বে।

অনেক বড় মাপের মানুষই মানুষকে সহজে ক্ষমা করতে পারেন। ক্ষমা করাটা সহজ কাজ না মি. ইনু! কাজেই অতীতের দুঃখজনক সৃতি ভুলে যেয়ে সামনে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় বুদ্ধিমানের কাজ এটাই ছিল বংগবন্ধুর প্রজ্ঞা এবং নীতি।

কিন্তু মি. ইনুদের মত পাতিনেতাদের (নিরেপেক্ষ নির্বাচন হলে আপনার দলের যে অবস্থা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও হতে পারবেন না!) বংগবন্ধুর বিচক্ষনতা বোঝার ক্ষমতা নেই। ওনারা “জালাও-পোড়াও ধংশ কর” নীতির সমর্থক। ওনাদের মত নেতারাই দেশে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টির বিস্তার  ঘটিয়েছেন; এখনও কুস্টিয়া এবং তার আশপাশের জেলাতে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টির দৌরাত্ব দেখা যায় জাসদ, পুর্ববাংলা কমনিস্ট পার্টি, সর্বহারা পার্টি ইত্যাদি সব উদ্ভট নামে এবং ওরা নিজেরাই নিজেদের অনেক সময় হত্যা করে এবং আইন সৃংখলার মারাত্বক অবনতি ঘটায় ওসব অঞ্চলে।

বিএনপির অবস্থাও অনেকটা একই! বিএনপি র মধ্যেও প্রচুর প্রকৃত ধার্মিক, প্রগতিশীল এবং উদারপন্থি লোক ছিল এবং আছে কিন্তু যেদিন থেকে বিএনপি জামাত এবং অন্যান্য তথাকথিত ইসলামী দলের সাথে হাত মিলিয়েছে সেদিন থেকেই সেই আগের বিএনপি আর নেই! ইসলাম ধর্মের অপব্যাখা/ভুল ব্যাখ্যা করাতে জামাত, এবং অন্যান্য জংগিরা চ্যাম্পিয়ন!

ফলে ওদের সাথে থাকার ফলে সরল মনা অনেক বিএনপি  নেতা কর্মীদের মগজ ধোলাই হয়েছে। ধর্মের নামে মানুষকে বিপথগামী করা অনেক সহজ কারন ধর্ম খুব জটিল একটি বিষয় এবং প্রকৃত ধর্ম বোঝা কোন সহজ কাজ না। ফলে আওয়ামীলীগ বা বিএনপির মধ্যে দুরত্ব এবং অবিশ্বাস বেড়েছে যার মারাত্বক ফল দেশের ১৬ কোটি সাধারন মানুষ এখন ভোগ করছে।

আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি উভকেই “একলা চলার নীতি” গ্রহন করা উচিত তাহলে আদর্শগত ভাবে তাদেরকে কেউ অহেতুক প্রভাবিত করতে পারবে না। আওয়ামীলীগ বা বিএনপি এককভাবেই ক্ষমতাই যেতে পারে। কোন বার আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় যাবে বিএনপি থাকবে অপোজিশনে আবার অন্য বার বিএনপি ক্ষমতায় যাবে আওয়ামীলীগ থাকবে অপোজিশনে।

নির্দিস্ট সময় পর পর নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগন তা ঠিক করবে। গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় কোন দলই সব সময় ক্ষমতায় যাওয়ার আসা করতে পারে না বা তার প্রয়োজনও নেই। মাঝে মাঝে অপোজিশনে থেকে রেস্টও নেওয়া যায় আবার দেশের স্বার্থে সরকারের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া এবং গঠনমুলক সমালোচনা করে দেশের ও মানুষের খেদমতও করা যায়।

বিরোধী দলে প্রতি মন্ত্রনালয়ের বিপরীতে ছায়ামন্ত্রীও থাকতে পারে। এটা তো আগেকার দিনের রাজা-বাদশাহী বা জমিদারি না! মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী থাকা মানে কি বিশাল দায়িত্ব, একটা বিরাট হেডেক! আমার তো কক্ষনও মন্ত্রী হতে মন চায় না। আর আমাদের নেতা-নেত্রীরা এত ক্ষমতা লোভী কেন বুঝি না, জীবনটা কয় দিনের!

কত রাজা-মহারাজা, সম্ম্রাট, শাহান-শাহ এই পৃথিবীতে এল এবং গেল কে তার হিসাব রাখে! মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী তো ওসব রাজা-মহারাজা, সম্ম্রাট, শাহান-শাহ এর তুলনায় তেমন কিছুই না। যাহোক, সব সময় ক্ষমতায় থাকা একটা বোরিং ব্যাপারও , নই কি?! ধন্যবাদ।

ডঃ মুসা আলী, 24 জানুয়ারী 2015. Copyright © www.QuranResearchBD.org

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*