শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


মনে রাখার মত কিছু হাদিস


> রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ কিয়ামতের দিন বলবেন, হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমাকে দেখতে আসনি।’ সে বলবে, হে প্রভু! কিভাবে আমি আপনাকে দেখতে যাব, আপনি তো সারা জাহানের পালনকর্তা?’ তিনি বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল? তুমি তাকে দেখতে যাওনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তাকে দেখতে যেতে, তাহলে অবশ্যই তুমি আমাকে তার কাছে পেতে?

হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম, তুমি আমাকে খাবার দাওনি।’ সে বলবে, হে প্রভু! আমি আপনাকে কিভাবে খাবার দেব, আপনি তো সারা জাহানের প্রভু?’ আল্লাহ বলবেন, তোমার কি জানা ছিল না যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাবার চেয়েছিল, কিন্তু তাকে তুমি খাবার দাওনি? তোমার কি জানা ছিল না যে, যদি তাকে খাবার দিতে, তাহলে অবশ্যই তা আমার কাছে পেতে?

হে আদম সন্তান! তোমার কাছে আমি পানি পান করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে পান করাওনি।’ বান্দা বলবে, হে প্রভু! আপনাকে কিরূপে পানি পান করাবো, আপনি তো সমগ্র জগতের প্রভু?’ তিনি বলবেন, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানি চেয়েছিল, তুমি তাকে পান করাওনি। তুমি কি জানতে না যে, যদি তাকে পান করাতে, তাহলে তা অবশ্যই আমার কাছে পেতে? (মুসলিম ২৫৬৯, আহমদ ৮৯৮৯)।

paradise

> আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, এক গোত্রের দুইজন সাহাবী একসংগে মুসলমান হলেন। তাদের মধ্য হতে একজন জেহাদে শহীদ হয়ে গেলেন আর দ্বিতীয় জন এক বৎসর পর মারা গেলেন। হজরত তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাঃ) বলেন যে, আমি স্বপ্নে দেখলাম, যিনি এক বৎসর পর মারা গিয়েছিলেন তিনি সেই শহীদের আগেই জান্নাতে প্রবেশ করছেন। এতে আমি অত্যন্ত আশ্চর্যবোধ করলাম যে, শহীদের মর্তবা তো অনেক উঁচু; তারই তো আগে জান্নাতে প্রবেশ করার কথা!

এই বিষয়টি আমি নিজে হুজুর (সাঃ) এর নিকট আরজ করলাম। হুজুর (সাঃ) এরশাদ ফরমালেন, যে ব্যক্তি পরে মারা গেছে, তোমরা কি তার নেকীসমুহ দেখতে পাও না যে, তা কত বৃদ্ধি পেয়েছে? এক বৎসর তার পুর্ন একটি রমজান মাসের রোজাও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ছয় হাজার রাকাতের অধিক নামাজও তার আমলনামায় বৃদ্ধি পেয়েছে ( আহমদ, ইবনে মাজা, ইবনে হিব্বান)।

> নবী করিম (সাঃ) বলেন, যে রহম বা অনুগ্রহ করে না সে অনুগ্রহ পায় না।

> রাসুল (সাঃ) আরো বলেন, যে মানুষের প্রতি দয়া করে না আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না।

> রাসুল (সাঃ)  সাহাবীদের দান করার প্রতি উৎসাহ দিতেন, দানের ফযিলত বর্ণনা করতেন যা তাদের হৃদয় মনকে আকৃষ্ট করতো। ভিক্ষাবৃত্তি নিরুৎসাহিত করতেন, ধৈর্যের গুণ ও অল্পে তুষ্ট থাকার জন্য বলতেন।

> “মদীনা সনদে” রাসুল (সাঃ) মুহাজির ও আনছারদের মাঝে একটি চুক্তি করলেন। তাতে ইহুদীদের সাথেও শত্রুতা ছেড়ে সন্ধি করা হয়েছিল। ইহুদীদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। তাদের সম্পদের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছিল এবং উভয়ের কল্যাণে কতিপয় শর্ত ঘোষণা করা হয়েছিল।

> দয়া ঈমানের একটি চিহ্ন এবং যে দয়ালূ নয় তার ঈমান নাই ।

উক্ত হাদিসগুলি পরিস্কারভাবে জংগিবাদের বিপক্ষে কথা বলে। ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম ক্ষমার ধর্ম, ইসলাম মানবসেবার ধর্ম, ইসলাম ধর্মনিরোপেক্ষতার ধর্ম; ইসলাম ধর্মের নামে মানুষ হত্যা কক্ষনও সমর্থন করে না।

> রাসুল (সাঃ) বলেন, শক্তিশালী ঐ ব্যক্তি নয় যে কুস্তিতে খুব লড়তে পারে, শক্তিশালী সেই ব্যক্তি যে নিজের ক্রোধ নিয়ন্ত্রন করতে পারে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৫১০৫)।

> জিকিরের ফজিলত সম্পর্কে রসুল (সাঃ) এর বিপুল সংখ্যক হাদিস রয়েছে। রসুল (সাঃ) সাহাবিদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন বিষয়ের সংবাদ দিব না যা তোমাদের আমলের মধ্যে সর্বোত্তম, তোমাদের মালিক আল্লাহর নিকট অতি পবিত্র, সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন, স্বর্ণ-রৌপ্য ব্যয় করার চেয়েও উত্তম এবং শত্রুর মোকাবিলায় যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে তাদের ঘাড়ে প্রহার করবে আর তারা তোমাদের ঘাড়ে প্রহার করবে- অর্থাৎ জিহাদের চেয়েও উত্তম? তারা বললেন, হ্যাঁ বলুন! তিনি বললেন, ‘তা হলো আল্লাহতায়ালার জিকির।’ (তিরমিজি)

> রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকির করে আর যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকির করে না তাদের উদাহরণ জীবিত ও মৃত ব্যক্তির মতো।’ (বুখারি)

> চোরকে নির্দয়ভাবে পেটানো নয়। যে মাল চুরি হয়ে গেছে তার ব্যাপারেও আপনার জন্য একটা সান্তনা রয়েছে!

রাসুল (সাঃ) বলেছেন, যা চুরি হয়ে যায় তাও তার জন্য সদাক্বাহ্‌।

> রাসুল (সাঃ) বলেছেন, ধনের আধিক্য হলে ধনী হয় না, অন্তরের ধনীই প্রকৃত ধনী (বুখারী, মুসলিম)।

> রাসুল (সাঃ) বলেছেন, যে মুসলমানই কোন গাছ লাগাই বা ক্ষেত করে আর তা থেকে পাখি বা মানুষ যা খায় তা তার জন্য দান হয়ে যায় (বুখারী, মুসলিম)।

> রাসুল (সাঃ) বলেছেন, নিজের আত্ত্বার সাথে, নিজের আত্ত্বার কুপ্রবৃত্তির সাথে লড়াই করাই হল সবচেয়ে বড় জিহাদ।

> রাসুল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি পুর্ন অধিকার থাকা সত্ত্বেও ঝগড়া পরিত্যাগ করে, আমি জান্নাতে তার জন্য একটি গৃহের যিম্মাদার হব (আবু দাউদ, ৪৮০০)।

> রাসুল (সাঃ) বলেন,  যে ব্যক্তি প্রতিশোধের শক্তি থাকা সত্তেও ক্ষমা করে দেয়, সে আমার নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয়।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*