শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


একজন সংশয়বাদীর কিছু জটিল প্রশ্ন!


আমাদের রাসুল সাঃ বিদায় হজ্জের ভাষনে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে আমাদের সাবধান করে যান। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে এবং ধর্ম নিরোপেক্ষতা বজায় রাখতে বহুবার আমাদের তাকিদ দিয়েছেন।

আমার এক সংশইয়বাদী চালাক বন্ধুর (তবে সে নাস্তিক না) সাথে আমার অনেকবার তুমুল বিতর্ক হয়েছে আল্লাহ, গড, পরকাল, জান্নাত, জাহান্নাম, শয়তান ইত্যাদি নিয়ে। সে আমাকে অনেক কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিল যার খুব একটা জুতসই জবাব আমি দিতে পারিনি।

পাঠকদের বিনিত অনুরোধ করব তার দেওয়া নিম্নের প্রশ্নগুলোর যদি ভাল কোন জবাব দিতে পারেন তাহলে তা আমাদের ই-মেলে পাঠিয়ে দিন। এসব প্রশ্নের জবাব কিন্ত চাপাতি দিয়ে হবে না কারন কয়জনকে চাপাতির ভয় দেখানো যেতে পারে (তাছাড়া চাপাতি থেরাপিস্টরা ধরা পড়লে তাদের নির্ঘাত ফাঁসির দড়িতে আমৃত্যু ঝুলতে হবে; অনেকের অলরেডি ঝুলতে হয়েছেও)।

যেখানে সারা পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেকটি চালাক মানুষ এই ধরনের প্রশ্ন করে থাকে তাই চাপাতি ছেড়ে কলম আর বুদ্ধি দিয়ে এসব প্রশ্নের মোকাবেলা করুন। কোন বিষয়ে সঠিক বুঝের জন্য প্রশ্ন করা নিশ্চয় অপরাধ না। ধন্যবাদ।

> কেউ গরীব কেউ ধনী কেন? গরীবরা কি আপরাধ/পাপ করেছিল?

> আল্লাহ যদি অতি দয়ালু, ন্যায়বিচারক, মেহেরবান ও ক্ষমাশীল এবং সবকিছু করার ক্ষমতা রাখেন (সর্বশক্তিমান) তাহলে এই পৃথিবীতে এত মহামারী, সাইক্লোন, বন্যা, টর্নেডো, হারিকেন, সুনামী, ভয়াবহ ভুমিকম্প, রোগ-বালাই, ইত্যাদি কেন? ওগুলো দূর করেন না কেন? আমরা জানি আল্লাহ “হয়” বললেই সব হয়ে যায়, আল্লাহর তো আমাদের মত কস্ট করে কাজও করা লাগে না। অনেক হয়ত বলবে আল্লাহ ওসব ভোগান্তি, আজাব, গজব, কস্ট ইত্যাদি দিয়ে আমাদের পরীক্ষা করেন! যদি আল্লাহ অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত, গোপন, প্রকাশ্য সবই জানেন তাহলে আল্লাহর কি কোন ব্যাপারে পরীক্ষা করার দরকার হয়?

আল্লাহ অতি দয়ালু ও মেহেরবান ও ক্ষমাশীল তাতে কারো কোন সন্দেহ নেই তাহলে তিনি কাফের-মুশরিকদেরকে অনন্তকাল ধরে জাহান্নামের আগুনে পোড়াবেন কেন?  কাফের-মুশরিকরা তো পাপ করেছে এই পৃথিবীতে তাদের ক্ষনস্থায়ী জীবনকাল ধরে মাত্র যা অনন্তকালের তুলনায় কিছুই না। অনন্তকাল মানে হোল যার কোন শেষই নেই।

হাজার বছর, লক্ষ বছর, কোটি বছর, হাজার কোটি বছর, লক্ষ কোটি বছর ইত্যাদিরও একটা শেষ আছে কিন্তু অনন্তকালের কোন শেষই নেই। যে কোন মানুষের আয়ুকাল অনন্তকালের তুলনায় গানিতিকভাবে আসলে শূন্য মাত্র। তাহলে অতি দয়ালু ও মেহেরবান ও ক্ষমাশীল মহান আল্লাহ কি করে কাফের-মুশরিকদেরকে অনন্তকাল ধরে জাহান্নামের আগুনে পোড়াতে পারেন? এটা কেমন ন্যায়বিচার হোল যেখানে মহান আল্লাহ হলেন সবচেয়ে ন্যায়বিচারক?

> আল্লাহ যদি থেকেই থাকেন তাহলে তিনি আমাদের সামনে আসেন না কেন বা আমাদের সাথে কথা বলেন না কেন? ধরে নিলাম আল্লাহ খুবই ব্যস্ত কিন্তু প্রতি শতাব্দিতেও কি অন্তত একবার তিনি আমাদের সামনে আসতে পারেন না বা নিদেনপক্ষে কয়েক মিনিটের জন্য সারা পৃথিবীর মানুষরে সাথে কথা বলতে পারেন না? এই দাবী কি অযৌক্তিক?

> নবী/রাসুল আর কেন আসবেন না যখন পৃথিবী পাপ আর মন্দ কাজে তলিয়ে যাচ্ছে? পৃথিবীতে নতুন নতুন সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

> পবিত্র কুরআন আনুযায়ী আমরা তো  সবাই বেহেস্তে ছিলাম তাহলে বেহেস্তও কি অনেক সমস্যা আছে, তা না হলে বেহেস্তচ্যুত হলাম কেন? তাহলে যদি আমরা আবার বেহেস্তে যেতেও পারি তবুও কি নতুন করে বেহেস্তচ্যুত হওয়ার সম্ভবনা থাকে না?

> আল্লাহ কেন শয়তান সৃস্টি করলেন এবং তা আমাদের পিছে লাগিয়ে দিলেন? আল্লাহ তো জানতেন আমাদের মধ্যে অনেকে শয়তান দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে জাহান্নামে যাবে তাহলে যারা জাহান্নামে যাবে তার জন্য আল্লাহ দ্বায়ী নয় কি?

> মানুষ পৃথিবীতে আসার আগেই আল্লাহই তো কিছু রুহু জান্নাতের জন্য এবং কিছু রুহু জাহান্নামের জন্য সৃস্টি করেই রেখেছেন তাহলে পাপীদের দোষ কি? কম্পিউটার এর প্রোগ্রামাররা ঠিক করে কোন্‌ প্রোগ্রাম কিভাবে কাজ করবে; এ ব্যাপারে কম্পিউটারকে দায়ী করা যায় না। এখানে মানব সৃস্টির প্রোগ্রামার হলেন আল্লাহ তাহলে মানুষের খারাপ কাজের জন্য আল্লাহই দ্বায়ী, নয় কি? বলা হইয়ে থাকে বিবেকের স্বাধীনতা বা ভাল-মন্দ বোঝার ক্ষমতা দেওয়া হইয়েছে তাই পাপের জন্য পাপীই দায়ী। কিন্তু মুল প্রোগ্রামেই যদি গন্ডগোল থাকে তাহলে ভাল-মন্দ বোঝার ক্ষমতা তো কাজ করবে কিভাবে? কাজেই তাহলে মানুষের খারাপ বা পাপ কাজের জন্য আল্লাহই দ্বায়ী, নয় কি?

> সমগ্র মহাবিশ্ব যদি আল্লাহ সৃস্টি করেন তাহলে আল্লাহকে কে সৃস্টি করল? আল্লাহকে কেউ যদি সৃস্টি না করে থাকে তাহলে মহাবিশ্ব সৃস্টিতে আল্লাহ থাকার দরকার কেন?

এটা সত্য যে অনেক কিছুই রহস্যজনক! অনেক কিছুই আমাদের বুদ্ধি এবং বোধগম্যতার বাইরে; মাথায় ঢোকে না! ফলে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা বা এক্সট্রিম হওয়া মারাত্বক ভুল। যাহোক, ওসব প্রশ্নের জবাবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে কিন্তু পবিত্র কুরআন আর রাসুলের প্রজ্ঞা অনুসরন করি ফলে নাস্তিকদের বিষয়টি সম্পুর্নভাবে আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছি।

মহান আল্লাহ যদি চাইতেন তাহলে এই পৃথিবীতে একজনও নাস্তিক-মুরতাদ থাকত না।

[10 সূরা ইউনুস 99] আর তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যত মানুষ রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসত সমবেতভাবে তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য? 

মহান আল্লাহ যদি চাইতেন তাহলে এই পৃথিবীতে একজনও মুশরেক থাকত না।

[6সূরা আল্ আন-আম 107] যদি আল্লাহ চাইতেন তবে তারা (মুশরিকরা) শেরক করত না আমি তোমাকে তাদের সংরক্ষক করিনি এবং তুমি তাদের কার্যনির্বাহী নও

ধর্মের ব্যাপারে বিচার করার এখতিয়ার শুধুমাত্র আল্লাহ তালার।

[2সূরা আল্ বাকারাহ্ 256] দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই

[109 সূরা কাফিরুন 6] তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্যে এবং আমার ধর্ম আমার জন্যে 

[39 সূরা আল-যুমার 53] হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ (কবিরা, সগীরা সহ সব গোনাহ) মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

[7 সূরা আল আরাফ 199] আর ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোল, সহনসীলতার প্রসার ঘটাও এবং মূর্খ অবুঝদের থেকে দূরে সরে থাক।

রাসুল সাঃ বলেছেন, সাবধান! যদি কোন মুসলমান কোন অমুসলিম নাগরিকের উপর নিপীড়ন চালিয়ে তার অধিকার খর্ব করে, তার ক্ষমতার বাইরে কস্ট দেয় এবং তার কোন বস্তু জোরপুর্বক নিয়ে যায়, তাহলে কিয়ামতের দিন আমি তার পক্ষে আল্লাহর দরবারে অভিযোগ উত্থাপন করব (আবু দাউদ)।

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*