শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


যুগ উপযোগী কুরআন বুঝা অতি জরুরী


পবিত্র কুরআনে অনেক আয়াত আছে যা নির্দিস্ট সময় পরে তার হুকুম বা প্রাসাংগিকতা শেষ হয়ে গেছে, যেমনঃ

[49 সূরা আল-হুজরাত 2] মুমিনগণ! তোমরা নবীর কন্ঠস্বরের উপর তোমাদের কন্ঠস্বর উঁচু করো না এবং তোমরা একে অপরের সাথে যেরূপ উঁচুস্বরে কথা বল, তাঁর সাথে সেরূপ উঁচুস্বরে কথা বলো না। এতে তোমাদের কর্ম নিস্ফল হয়ে যাবে এবং তোমরা টেরও পাবে না।

আমরা এখন চাইলেও নবীর উপরে আমাদের কন্ঠস্বরকে উচু করতে পারব না কারন নবী ১৪০০ বছর আগেই মারা গেছেন।

[33 সূরা আল-আহযাব 6] নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মাতা…।

কাজেই নবীর স্ত্রীদের মৃত্যুর পর এই আয়াতের আর কোন কার্যকারীতা নেই।

[33 সূরা আল-আহযাব 30] হে নবী পত্নীগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ প্রকাশ্য অশ্লীল কাজ করলে তাকে দ্বিগুণ শাস্তি দেয়া হবে। এটা আল্লাহর জন্য সহজ।

এখন নবীর স্ত্রীরাও নেই এই আয়াতের আর কোন কার্যকারীতাও নেই।

এরুপ আরো অনেক আয়াত আছে। আবার দেখুন,

[3 সূরা আল্ ইমরান 14] মানবকূলকে মোহগ্রস্ত করেছে নারী, সন্তান-সন্ততি, রাশিকৃত স্বর্ণ-রৌপ্য, চিহ্নিত অশ্ব, গবাদি পশুরাজি এবং ক্ষেত-খামারের মত আকর্ষণীয় বস্তুসামগ্রী। এসবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ্য বস্তু। আল্লাহর নিকটই হলো উত্তম আশ্রয়।

আগেকার মানুষের কাছে ঘোড়া, গবাদি পশু ইত্যাদি খুবই আকর্ষনীয় ছিল সংগত কারনেই কিন্তু আধুনিক মানুষ আপনার কাছেও কি ঘোড়া, গবাদি পশু খুবই আকর্ষনীয়?! আমার কাছে কম্পিউটার, স্মার্টফোন, ভাল মডেলের কার ইত্যাদি যথেস্ট আকর্ষনীয় যার কোন নামই উল্ল্যেখ নেই পবিত্র কুরআনে!

[8 সূরা আল-আনফা 60] আর প্রস্তুত কর তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য যাই কিছু সংগ্রহ করতে পার নিজের শক্তি সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এবং পালিত ঘোড়া থেকে, যেন প্রভাব পড়ে আল্লাহর শুত্রুদের উপর এবং তোমাদের শত্রুদের উপর আর তাদেরকে ছাড়া অন্যান্যদের উপর ও যাদেরকে তোমরা জান না; আল্লাহ তাদেরকে চেনেন…।

১৫০০ বা কয়েক শত বছর আগেও ঘোড়া যুদ্ধের অন্যতম প্রধান উপকরন ছিল। কিন্তু এখন কি আর ঘোড়া মোতায়েন করে একে-৪৭, ক্রুজ মিসাইল, ফ-১৬ এর মোকাবেলা করতে পারবেন?!

আবার দেখুন কিছু আয়াত যা ১৫০০ বছর আগেও যেমন প্রযোজ্য ছিল এক্ষনোও তাই যার আবেদন এবং প্রয়োজন কেয়ামত পর্যন্ত বলবত থাকবে।

[4 সূরা আন নিসা ২৩] (রোমান্টিক ভালবাসার) জন্যে তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভ্রাতৃকণ্যা; ভগিনীকণ্যা তোমাদের সে মাতা, যারা তোমাদেরকে স্তন্যপান করিয়েছে, তোমাদের দুধ-বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে। যদি তাদের সাথে সহবাস না করে থাক, তবে এ বিবাহে তোমাদের কোন গোনাহ নেই। তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকরী, দয়ালু।

[24] এবং  নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়াও সকল বিবাহিত  স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ যদি না তারা তাদের কাফের স্বামীদের থেকে পালিয়ে আসে যাদের সাথে তোমরা যুদ্ধরত – এসব তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে  প্রাপ্য যৌতুক দেবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়।

[29] হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে লেনদেন করা হয় তা বৈধ। আর তোমরা আত্বহত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু।

[17 সূরা বনী ইসরাঈল 23] তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা।

 [24] তাদের সামনে ভালবাসার সাথে, নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বলঃ হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম করুন, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।

 [35] মেপে দেয়ার সময় পূর্ণ মাপে দেবে এবং সঠিক দাঁড়িপালায় ওজন করবে। এটা উত্তম; এর পরিণাম শুভ।

[36]  কোন তথ্য-সংবাদ নিজে যাচাই বাছাই না করে গ্রহন করো না। আমি তোমাকে শোনার ক্ষমতা দিয়েছি, দেখার ক্ষমতা দিয়েছি, এবং ব্রেন দিয়েছি চিন্তা-গবেষনা ও ভাল মন্দ যাচাই বাছাইয়ের; ঔসবগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করা তোমার দ্বায়িত্ব।

 [37] পৃথিবীতে দম্ভভরে পদচারণা করো না। নিশ্চয় তুমি তো ভূ পৃষ্ঠকে কখনই বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বত প্রমাণ হতে পারবে না।

[2 সূরা বাকারাহ 188] তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না। এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনে-শুনে পাপ পন্থায় আত্নসাৎ করার উদ্দেশে শাসন কতৃপক্ষের হাতেও তুলে দিও না (ঘুষ দেওয়া বা নেওয়া নিশিদ্ধ)।

যাহোক, শুধু কুরআন, কুরআন, করবেন না; কুরআনটা আধুনিক যুগের আলোকে একটু বোঝার চেস্টা করুন! একটু যদি ভালভাবে চিন্তা-গবেষনা করেন তাহলেই বুঝতে খুব একটা অসুবিধা হবে না যে পবিত্র কুরআনের কোন অংশ আধুনিক মানুষের জন্য প্রযোজ্য আর কোন অংশ আধুনিক মানুষের জন্য খুব একটা প্রাসংগিক না। সবাইকে ধন্যবাদ।

Copyright © www.QuranResearchBD.org

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*