শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করাঃ একজন ভাল মানুষের অতি জরুরী কাজ


আপনি কি একজন ভাল মানুষ?! ভাল মানুষ আমরা সবাই হতে চাই বা ভাল মানুষ হওয়ার ভান করি! একজন প্রফেশনাল চোর, ডাকাত বা ঘুষখোরও তার অপকর্ম করার পিছনে বিভিন্ন খোড়া যুক্তি দেখায়! ধর্ম কেন দরকার? একজন নাস্তিক বা সংশয়বাদীর জন্য তা কঠিন প্রশ্ন! পবিত্র কুরআন ভিত্তিক ধর্ম আপনাকে সঠিক এবং সার্বজনীনভাবে বলতে পারে কোনটি ভাল আর কোনটি মন্দ; কে ভাল মানুষ আর কে মন্দ মানুষ।

এই জন্য পবিত্র কুরআন আপনার জীবনের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কিতাব। আপনি নিজে নিজেকে যাই দাবী করেন না কেন ভাল মানুষ হতে হলে আপনার অন্তত ৩টা বৈশিস্ট্য থাকতে হবে। ১. আল্লাহ, খোদা, ঈশ্বর, বা গডের প্রতি বিশ্বাস, ২. নিজের সাধ্যমত ভাল ভাল কাজ করা, ৩. নিজের সাধ্যমত অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করা।

আপনি যখন ১০০ ভাগ নিশ্চিত হবেন যে একজন সর্বশক্তিমান, দয়ালু,  ন্যায়বিচারক, আল্লাহ, খোদা, ঈশ্বর, বা গড আছেন তখন যত সুযোই পান না কেন চুরি, ডাকাতি, ঘুষ ইত্যাদি কোন অবস্থাতেই করবেন না ।

কি সহজ, নিরাপদ, চমৎকার জীবন; এই রকম সৎ জীবন জাপনে মরেও শান্তি আর সবাইকে তো মরতে হবেই হবে! মৃত্যু আমাদের অতি নিকটে; আপনি যতই স্বাস্থ্যবান বা কম বয়সী হোন না কেন কখন যে আপনার হার্টের স্পন্দন থেমে যাবে তা কেও বলতে পারবে না। কত অগনিত স্বাস্থ্যবান মানুষ পৃথিবীতে সাডেন-কার্ডিয়াক-এরেস্টে মারা যায় তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না!

অনেকে আছে সাধ্যমত ভাল ভাল কাজ করে কিন্তু অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করে না। এরাও ভাল মানুষ না। অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করার অভ্যাষ গড়ে তুলুন তা না হলে আল্লাহর রহমত পাওয়ার আশা তো নেইই সেই সাথে আল্লাহ যখন কোন প্রাকৃতিক গজব বা অন্য প্রকার গজব দিয়ে কোন সম্প্রদায়কে ধ্বংশ করবেন তখন আপনাকেও রেহায় দেওয়া হবে না। কাজেই ভাল ভাল কাজ করার সাথে সাথে অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করতে হবে আমাদের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তার স্বার্থেই।

[8 সূরা আল-আনফাল 25] আর তোমরা এমন গজব  থেকে বেঁচে থাক যা বিশেষতঃ শুধু তাদের উপর পতিত হবে না যারা তোমাদের মধ্যে জালেম এবং জেনে রেখ যে, আল্লাহর আযাব অত্যন্ত কঠোর।

[11 সূরা হুদ 115] আর ধৈর্য্যধারণ কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ পূণ্যবানদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না। [116] কাজেই, তোমাদের পূর্ববতী জাতি গুলির মধ্যে এমন সৎকর্মশীল কেন রইল না, যারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে বাধা দিত; তবে মুষ্টিমেয় লোক ছিল যাদেরকে আমি তাদের মধ্য হতে রক্ষা করেছি। ….

[১১.১১৬] আয়াত স্পস্টভাবে বলছে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে অল্প কিছু লোক বাধা দিত যাদেরকে মহান আল্লাহ রক্ষা করেছেন। আল্লাহর সাহায্য পেতে চান? চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ঘুষ, প্রতারনা, মিথ্যাসাক্ষ্য, ধর্মব্যবসা, জংগীবাদ ইত্যাদিতে আপনার সাধ্যমত বাধা দিন।

যেমন যদি কোন সরকারী অফিস ঘুষ চাই, আপনার আশেপাশের ভাল মানুষগুলো একসাথে সেই অফিসে যান দেখবেন দুর্নিতীবাজ কেরানী, অফিসাররা আপনার কাজ নিয়মাফিক করতে বাধ্য হবে, ঘুষ চাওয়ার সাহসই পাবে না। কাজেই ভাল মানুষদের একতাবদ্ধ হয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ন্যায় বা অন্যায় কাজ কোনটি তা বোঝার জন্য আপনার কুরআন বা বাইবেল দেখারও প্রয়োজন নেই (যদিও তা দেখতে আমরা উৎসাহিত করি)। যেমন ধরুন, চুরি করা, ডাকাতি করা, ঘুষ খাওয়া, অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষন করা ইত্যাদি খারাপ কাজ। কেও কি এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষন করতে পারে?

ওগুলো যে খারাপ কাজ তা বোঝার জন্য কি কুরআন বা বাইবেলের সংশ্লিস্ট অধ্যায় পড়ার দরকার আছে? মহান আল্লাহ আমাদের যখন সৃস্টি করেছেন তখনই ভাল বা মন্দ বোঝার ক্ষমতা দিয়েই আমাদের সৃস্টি করেছেন যা হল আমাদের সহজাত এবং জন্মগত প্রবিত্তি। কুরআন বা বাইবেল, যেখানে আল্লাহর বানী পাওয়া যায়, তা হোল ভাল বা মন্দ বোঝার জন্য অতিরিক্ত বোনাস মাত্র। সবাইকে ধন্যবাদ।

Copyright © www.QuranResearchBD.org

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*