শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


প্রশ্নঃ একই সংগে একাধিক স্ত্রী থাকা কি ইসলাম সম্মত?


উত্তরঃ এ ব্যাপারে সব মুসলমান একমত নাও হতে পারে। তবে আমাদের উত্তর, হ্যাঁ, একই সংগে একাধিক স্ত্রী ইসলাম সম্মত। পবিত্র কুরআনে এ ব্যাপারে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই, এমন কি এর পক্ষে অনুমোদন রয়েছে।

মহান আল্লাহর আইন কোন ব্যক্তি বিশেষের জন্য নয়। কোন আইন কোন বিশেষ ব্যক্তির জন্য অসুবিধাও হতে পারে কিন্তু সার্বিকভাবে তা সমাজের সবার জন্য কল্যানকর কিনা তা হল দেখার ব্যাপার। কেউ কেউ বলে থাকেন একই সংগে একাধিক স্ত্রী গ্রহন শুধুমাত্র এতিম মেয়ে বা তাদের বিধোবা মা হলে সম্ভব এবং এ ব্যাপারে তারা সুরা নিসার তিন নম্বর আয়াতের উদধৃতি দেন। কিন্তু সুরা নিসার তিন নম্বর আয়াত এক একজন এক এক ভাবে বুঝে থাকেন! এ বাপারে আমরা কোন একক ঐক্যমত্য পাই না এমনকি কুরানিস্টদের মধ্যেও না! তবে এটা কোন রকেট সাইন্সও না!

একাধিক স্ত্রী গ্রহন শুধুমাত্র এতিম মেয়ে বা তাদের বিধোবা মা হলে সম্ভব এ ধরনের ব্যাখ্যা কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য না কারন তাতে এতিম মেয়ে বা তাদের বিধোবা মায়েদের অপমান করা হয় এবং সমাজে তাদের ছোট করা হয়। মহান আল্লাহ এতিমদের ব্যাপারে আমাদের সুবিচার করার জন্য বিশেষভাবে তাকিদ দিয়েছেন ফলে এতিমরা সাধারন মানুষের তুলনায় সমাজে বিভিন্ন ব্যাপারে এমনকি অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। যারা মোটামুটি ইংরেজি জানেন তারা এ ব্যাপারে বিস্তারিত এখান থেকে পড়তে পারেন।

মহান আল্লাহর অনেক সেরা সেরা বান্দাহদের একাধিক স্ত্রী ছিল। যেমন, নবী সুলাইমান, নবী দাউদ, নবী ইবরাহীম, নবী মুহাম্মদ প্রমুখ। ওসব মহান ব্যক্তিদের একাধিক স্ত্রী থাকাতে মহান আল্লাহ তাঁদের তিরস্কার করেননি, যারা আমাদের জন্য আদর্শ, আর আপনার আমার  একাধিক স্ত্রী থাকলে মহান আল্লাহ অখুশি হবেন এটা কোন সুস্থ বিবেকের মানুষ কি ভাবতে পারে? শয়তান আমাদের সব ব্যাপারেই রং ডিরেকশনে ধাবিত করতে চাই যাতে মানব সমাজে বিপর্যয় ঘটানো যায়। এ ব্যাপারে মানব সমাজে বাস্তব অবস্থার আলোকে কিছু দিক আলোচনা করা যাক।

১. পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই মেয়ে মানুষের সংখ্যা পুরুষদের  তুলনায় বেশি। ফলে যদি এক জন পুরুষের একজন স্ত্রী এই আইন হয় তাহলে অনেক মহিলাই কোনভাবেই স্বামী পাবে না। যা হবে সমাজের অনেক নারীর প্রতিই চরম স্বার্থপরতা এবং বৈষম্যতা। কেউ সব খাবে আর কেউ কিছুই পাবে না!

২. কিছু কিছু দেশে এই অবস্থা বিপরীতমুখী কিন্তু তা মানুষের সৃস্টো! যেমন চীন বা ইন্ডিয়াতে মেয়ে মানুষের সংখ্যা পুরুষদের  তুলনায় কম কারন তারা কোটি কোটি মেয়ে ভ্রুন জন্মের আগেই হত্যা করছে। এ কি নারী জাতির জন্য চরম অবমাননাকর নয়?!

বাংলাদেশ বা ইন্ডিয়াতে যদি একটি কন্যা সন্তান হয় তাহলে তার বাপ-মায়ের দুঃচিন্তা বেড়ে যায় কি করে কন্যাকে পাত্রস্থ করবে এই ভেবে বিশেষকরে যদি উক্ত কন্য সন্তানটি জন্ম নেয় মধ্যবিত্ত বা গরিব পরিবারে। অথচ এক পুরুষের যদি একাধিক স্ত্রী থাকার ব্যাপারে আমাদের সমাজ স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয় তাহলে সমাজে মেয়েদের মর্যাদা এবং চাহিদা বেড়ে যাবে।

ফলে কন্যা সন্তানদের বাপ-মায়েদের যৌতুক দেওয়ার দুঃচিন্তা তো থাকবেই না বরং জামাইয়ের কাছ থেকে যৌতুক/উপডৌকন পেতে পারবে যেটাই হল কুরআন সম্মত। সমাজে মেয়েদের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার অর্থ হল কন্যা সন্তানদের জন্ম দিয়ে কন্যা সন্তানদের বাপ-মায়েরা গর্ববোধ করবে; দুঃচিন্তার তো প্রশ্নই আসে না।

৩. বিয়েটা হল একজন পুরুষ এবং একজন নারীর মধ্যে একটা চুক্তি; এটা কোন রক্তের স্থায়ী বন্ধন না। ফলে এই বিয়ে  চুক্তি যে কোন পক্ষ বাতিলও করার ক্ষমতা রাখে। পবিত্র কুরআন এই বিয়ে  চুক্তি এতটা সহজ করেছে যে বউকে স্পর্শ করার পুর্বেই এমনকি আপনি বউকে তালাক দিতে পারেন।

[2 সূরা আল্ বাকারাহ্ 236] স্ত্রীদেরকে স্পর্শ করার আগে এবং কোন মোহর সাব্যস্ত করার পূর্বেও যদি তালাক দিয়ে দাও, তবে তাতেও তোমাদের কোন পাপ নেই। তবে তাদেরকে কিছু খরচ দেবে। আর সামর্থ্যবানদের জন্য তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী এবং কম সামর্থ্যবানদের জন্য তাদের সাধ্য অনুযায়ী। যে খরচ প্রচলিত রয়েছে তা সৎকর্মশীলদের উপর  দায়িত্ব।

অবশ্য দীর্ঘদিনের বিয়েটা খুব তুচ্ছ কারনে যেন না ভাংগে তার জন্য একটা শেষ মধ্যস্থতা করতে মহান আল্লাহ আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন তবে তা সম্পুর্ন নির্ভর করে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের স্বদিচ্ছার উপর।

[4 সূরা আন নিসা  35] যদি তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মত পরিস্থিতিরই আশঙ্কা কর, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ের মীমাংসা চাইলে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছু অবহিত।

যেহেতু পুরুষ এবং নারীর অধিকার সমান, আপনার স্বামী আরেকটি বিয়ে করেছে এটা যদি আপনার কাছে একেবারেই অসহ্য মনে হয় তাহলে আপনার বর্তমান স্বামীকে শান্তিপুর্নভাবে বাদ দিয়ে দেন। আপনিও পচ্ছনদমত নতুন স্বামী ধরেন, কোন অসুবিধা নেই। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতে প্রথম স্ত্রী প্রথম দিকে খুবই অখুশী কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে আপনার একটা চমৎকার বন্ধুত্বপুর্ন সন্মর্ক হয়ে গেছে!

কাজেই একটু ধৈর্য্য ধরতে পারেন, উদার হতে পারেন এবং জেলাসি মনভাব পরিত্যাগ করে  স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে বন্ধুত্ব করতে পারেন। আপনার স্বামী একজন স্ত্রী পেল আর আপনি একজন বন্ধু, সহযোগী এবং হেলপার পেলেন, মন্দ কি!

৪. পুরুষ এবং নারীর অধিকার সমান হলেও পুরুষ এবং নারী এক জিনিস না এবং তাদের কাজের ক্ষেত্রেও আলাদা। পুরুষ কি প্রেগনেন্ট হয় এবং সন্তান ডেলিভারি দেয়! আবার নারীরা সাধারনত প্রাকৃতিক নিয়মেই ৫০ এর আগেই গর্ভধারনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে অন্যদিকে একজন পুরুষ ৮০ বছর বয়সেও সন্তানের পিতা হতে পারে। অনেকেই জীবনের শেষদিকে নতুন সন্তান পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় দ্বিতীয় বিয়ে করতে উৎসাহিত হতে পারে।

৫. বিয়ের সাথে অর্থের ব্যাপার অতপ্রতভাবে জড়িত। কাজেই আপনার যথেস্ট অর্থ না থাকলে কক্ষনও দ্বিতীয় বিয়ের চিন্তা মাথায় আনবেন না। সব স্ত্রীর সাথে মোটামুটি সমতাপুর্ন ব্যবহার করা আপনার জন্য বাধ্যতামুলক। আপনাকে আপনার বউকে যৌতুক দিতে হবে, তাকে খাওয়া, পরানো, বাসস্থান, চিকিৎসা, কসমেটিক্স,  অনাগত সন্তানের সমস্থ আর্থিক দিক ইত্যাদির ব্যবস্থা আপনাকেই করতে হবে পবিত্র কুরআন অনুযায়ী।

ওসব করতে না পারলে আপনার স্ত্রীর অধিকার রয়েছে কোর্টের আশ্রয় নিয়ে আপনাকে তা বাধ্য করতে। কাজেই বিয়েটা ফাইজলামী না! নিজের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করেই দ্বিতীয় বিয়ের চিন্তা করতে পারেন। বিয়ে মানেই বিরাট একটা দ্বায়িত্ব এবং ঝামেলায় জড়ানোর ব্যাপার। সুতরাং প্রথম স্ত্রীকে নিয়েই যদি মোটামুটি সুখে থাকেন তাহলে দ্বিতীয় বিয়ের দরকারটা কি!

৬. কেউ দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইলেই কি করতে পারবে! মোটেই না। সমাজে মেয়ে মানুষ কি এতই সস্থা?! চেস্টা করে দেখেন আপনার মোটামুটি পচ্ছন্দমত একটি মেয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসাবে পাওয়ার! আমি জানি আমার এক ঘনিস্ট বন্ধুর দ্বিতীয় বিয়ে করতে আপত্তি নেই কিন্তু সে তার পছন্দমত পাত্রি পায়নি এখন পর্যন্ত কারন সে খুব কোন সাধারন একটা মেয়েকে সে তার স্ত্রীর মর্যাদা দিতে চাই না।

রোমান্টিক ভালবাসাটা প্রত্যেক মানুষের খুব ব্যক্তিগত একটা বিষয় এবং সবার সাথে সবার গভীর রোমান্টিক ভালবাসা হয় না। যাহোক, যদি আমার বন্ধু  তার কোন বিশেষ মেয়ে বন্ধুর গভীর প্রেমে পড়ে যায় এবং তার সেই মেয়ে বন্ধুটিও যদি তার গভীর প্রেমে পড়ে যায় তাহলেই হয়ত সে দ্বিতীয় বিয়ে করার চিন্তা করবে অন্যথায় নয়। কাজেই দ্বিতীয় বিয়ে অনেকের জন্যই সহজ বা সাধারন কোন বিষয় না।

৭. একই সংগে একাধিক স্ত্রী থাকার প্রচলনই পারে জ্বেনা-ব্যভিচার মুক্ত সমাজ গড়তে এবং সমাজের প্রত্যেকটি নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে। একই সংগে একাধিক স্ত্রী থাকার প্রচলন বন্ধ মানে নিশ্চিতভাবে সমাজে জ্বেনা-ব্যভিচার বৃদ্ধি পাওয়া এবং অনেক নারীকে স্বামী ছাড়া জীবন জাপনে বাধ্য করা বা তার চেয়েও খারাপ প্রোস্টিটিউশনে বাধ্য করা।

৮. পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সমকামীতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা সমকামীতাকে নিন্দা জানায়। আমরা পুরুষ এবং নারীর যে স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক সম্মর্ক তা বৈধ নিয়মের মধ্যে বজায় রাখতে উৎসাহিত করি যদি তা পলিগ্যামী বিয়ে হয় তাও অনেক ভাল। পুরুষ ও নারীর সৃস্টি, তাদের মধ্যে রোমান্টিক ভালবাসা ও মায়া-মমতার  সৃস্টি, তাদের পারস্পরিক ভালবাসা ও আকর্ষনের মাধ্যমে নতুন মানুষ তথা সন্তান সৃস্টির প্রক্রিয়াঃ এই গোটা মহাজটিল ব্যাপারটা মহান আল্লাহর অস্তিত্তের এত বড় পাওয়ারফুল নিদর্শন যে, আমাদের মতে তা নাস্তিকদের নাস্তিকতার সমস্থ তত্ব ও যুক্তিকে সম্পুর্নভাবে বিনাশ করে দেয়। সুবহান্‌আল্লাহ।

৯. বিয়ের ব্যাপারে রাস্ট্রের বেশি নাক গলানো উচিৎ না। একটি পুরুষ এবং একাধিক মহিলা একসাথে যদি মোটামুটি শান্তিপুর্নভাবে জীবন জাপন করতে পারে  রাস্ট্রের তা নিয়ে মাথা ঘামানোর কি আছে? ধন্যবাদ।

পাঠক প্রতিক্রিয়াঃ

আমাদের একজন পাঠক বলেছেন কোরআনে সর্বচ্চ ৪ জন স্ত্রীর কথা থাকলেও সেটা ছিল সেই সময়ের কোরআন নাজিলের পরিবেশ পরিস্থিতির কথা। যেমন তখন মুলত পুরুষরা যুদ্ধ করত এবং  যুদ্ধও ছিল খুব বেশি এবং লেগেই থাকত তাই অনেক পুরুষ যুদ্ধে নিহত হওয়ার কারনে পুরুষ সংকটের কারনে ওই ৪ বউ রাখার সমাধান হয়ত দেওয়া হয়েছিল।

কোরআন এর অনেক আইনই সময়ের সাথে সংস্লিস্ট যেমনটি আপনারায় ব্যাখ্যা দিয়েছেন।বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর সর্বত্র মৃত্যুদন্ড স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ হওয়া উচিত! কাজেই কেউ ৪ জন বউ রাখতে পারে (যদি ৪ জন নারীকে সে এ ব্যাপারে কনভিন্স করতে পারে!) কিন্তু কোরআন বা ধর্মের দোহায় দেওয়া ঠিক হবে না। ধন্যবাদ।

Copyright © www.QuranResearchBD.org


Comments are closed.