শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


পেপার কুরআন এবং প্রকৃত কুরআন কি একই কুরআন?


আমরা হাইস্কুল লেভেলের ইসলামী  শিক্ষা বইতে পড়েছি কুরআনের একটা  নুক্তারও এ পর্যন্ত পরিবর্তন হয়নি। যে ভাবে নবী মুহাম্মদ সঃ এর উপর কুরআন অবতীর্ন হয়েছিল এখনোও হুবুহু আমরা তাই পড়ি। ওসব বইয়ের লেখক অনেকেই ইসলামিক ইস্টাডিজের উপর পিএইচ.ডি ডিগ্রিধারী! ওনারা মানুষকে কুরআনের বাস্তব অবস্থার ব্যাপারে অন্ধকারের মধ্যেই রেখে দিচ্ছেন।

quran

ওনারা হয়ত কঠিন মিথ্যুক অথবা প্রকৃত অবস্থার ব্যাপারে অজ্ঞ। বাস্তব ব্যাপার হল বাজারে আমরা যে কুরআন কিনতে পাই তা মুলত দুই প্রকারেরঃ ১. হাফস্‌ এবং ২. ওয়ারস্‌। কুরআনের আরো কিছু ভার্সন বিভিন্ন দেশে ছাপা হয়! এখন প্রশ্ন হোল হাফস্‌ এবং ওয়ারস্‌ কি অবিকল একই জিনিস? দুঃখজনক হলেও সত্য যে হাফস্‌ এবং ওয়ারস্‌ অবিকল একই কুরআন নয়! যারা মুটামুটি ইংরেজি জানেন তারা এ ব্যাপারে বিস্তারিত এখান থেকে পড়তে পারেন।

নুকতা তো দুরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে, এক বর্নের স্থলে অন্য বর্ন, কোন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বর্ন যোগ, উচ্চারনের পার্থক্য এবং আয়াতের শেষ চিহ্নর অবস্থানের পার্থক্য । ফলে অনেক ক্ষেত্রেই অর্থের পার্থক্য হয়ে গেছে! কিছু  ক্ষেত্রে এক ভার্সনে আদেশ অন্য ভার্সনে শুধুমাত্র প্রত্যক্ষ করা! কাজেই বুঝুন, বিভিন্ন ভার্সনের মধ্যে পার্থক্য অনেক ক্ষেত্রেই সিরিয়াস!

[15 সুরা হিজর 9] আমরা স্বয়ং এ উপদেশ অবতারণ করেছি এবং আমরাই এর সংরক্ষক।

[41 সূরা হা-মীম সেজদাহ 42] এতে মিথ্যার প্রভাব নেই, সামনের দিক থেকেও নেই এবং পেছন দিক থেকেও নেই। এটা প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।

[85 সূরা আল-বুরূজ 21] বরং এটা মহান কোরআন, [22] লওহে মাহফুযে সুরোক্ষিত।

পেপার কুরআন হল মানুষের দ্বারা ছাপানো আর প্রকৃত কুরআন হল লাওহে মাহফুজে সুরক্ষিত কুরআন। কাজেই আপনাকে বুঝতে হবে আপনি যে কুরআন প্রত্যেক দিন পড়েন তা কিন্তু পুরাপুরী সুরক্ষিত কুরআন নয়!

আপনার পেপার কুরআন যা ছাপাখানা থেকে ছাপা হয় তা সংরক্ষনের দায়িত্ব মহান আল্লাহ সরাসরী নেননি। পৃথিবীতে মহান আল্লাহ তাঁর বানী বা কিতাব কিভাবে সংরক্ষন করেন তা পরবর্তি নিবন্ধে পড়ুন।

এ আবার এক নতুন কথা শুনলেন যা কোন আল্লামা/মাওলানা/মুফতি/মুহাদ্দিস, এমনকি কোন কুরানিস্টও  এ পর্যন্ত আপনাকে বলেনি! অধিকাংশ কুরানিস্টও বিশ্বাস করে যে তারা যে কাগুজে কুরআন পড়ছে তা মূল কুরআন!

শুধু সামান্য পার্থক্য ডঃ রাশাদ খলিফা অবতারনা করেছিলেন; তিনি ৯ নম্বর সূরা তাওবাহর শেষ দুটি আয়াত জাল বলে শনাক্ত করে তা  পেপার কুরআন থেকে বাদ দিয়েছিলেন তাতেই অন্ধ বিশ্বাসীদের কত তর্জন-গর্জন!

যুক্তি-প্রমান ছাড়া যে কোন  ধরনের অন্ধ বিশ্বাসই মারাত্বক বিপদজনক। শুধু অন্ধ বিশ্বাস নয়, যুক্তি-প্রমানকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত; অন্ধ বিশ্বাসের কারনেই পৃথিবীতে এত ভেজাল ও বাতিল ধর্ম;  ধর্মের নামে এত মারামারি, হানাহানি এবং রক্তপাত। আরো পড়ুন পেপার কুরআন কি আল্লাহর বানী? ধন্যবাদ।

Copyright © www.QuranResearchBD.org


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*