শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


হুবুহু পেপার কুরআনে বিশ্বাসীদের প্রতি কিছু খোলা প্রশ্ন


আমরা কিছু ব্যক্তির কাছ থেকে কিছু কঠিন প্রশ্নের সন্মুখিন হয়েছি। আমরা তার খুব যুক্তিসংগত ও যুতসই জবাব দিতে পারছি না, ফলে তা খোলা প্রশ্ন হিসাবে এখানে প্রকাশ করা হল। আপনি যদি এর ভাল, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং যুক্তিসংগত জবাব দিতে পারেন তাহলে অনুগ্রহকরে তা এখানে contact(at)quranresearchbd.org পাঠিয়ে দিন। ধন্যবাদ।

 প্রশ্ন. কুরআনে বর্নিত জাহান্নামের শাস্তি প্রসংগে নাম না উল্লেখ করে এক প্রশ্নকারী আমাদের যা লিখেছেন তা আমরা এখানে তুলে দিলাম।

[4 সূরা আন নিসা 56] এতে সন্দেহ নেই যে, আমার নিদর্শন সমুহের প্রতি যেসব লোক অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করবে, আমি তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করব। তাদের চামড়াগুলো যখন জ্বলে-পুড়ে যাবে, তখন আবার আমি তা পালটে দেব অন্য চামড়া দিয়ে, যাতে তারা আযাব আস্বাদন করতে থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, হেকমতের অধিকারী।

[22 সূরা হাজ্জ 19] এই দুই বাদী বিবাদী, তারা তাদের পালনকর্তা সম্পর্কে বিতর্ক করে। অতএব যারা কাফের, তাদের জন্যে আগুনের পোশাক তৈরী করা হয়েছে। তাদের মাথার উপর ফুটন্ত পানি ঢেলে দেয়া হবে।[20] ফলে তাদের পেটে যা আছে, তা এবং চর্ম গলে বের হয়ে যাবে। [21] তাদের জন্যে আছে লোহার হাতুড়ি। [22] তারা যখনই যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে দেয়া হবে। বলা হবেঃ দহন শাস্তি আস্বাদন কর।

[2 সূরা বাকারাহ 39] আর যে লোক তা অস্বীকার করবে এবং আমার নিদর্শনগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার প্রয়াস পাবে, তারাই হবে জাহান্নামবাসী; অন্তকাল সেখানে থাকবে।

[4 সূরা আন নিসা 14] যে কেউ আল্লাহ ও রসূলের অবাধ্যতা করে এবং তার সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে। তার জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।

অন্তকাল বা চিরকাল অর্থ আমরা বুঝি যার কোন শেষ নেই; হাজার বছর, কোটি বছর, এক বিলিয়ন বছর বা হাজার বিলিয়ন বছরেরও একটা শেষ আছে। আমরা এই পৃথিবীতে বাঁচি কয় বছর, সাধারনত ৪০ থেকে ৯০ বছর। একটা মানুষ মার পেট থেকে পড়েই তো আর পাপ করা শুরু করে না।

ধরুন কমপক্ষে ১৫ বছর বয়স হওয়ার পর থেকে এক ব্যক্তি পাপ কাজ করা শুরু করল। তাহলে সে জীবনে ২৫ থেকে ৭৫ বছর পাপ করেছে। এই ২৫ থেকে ৭৫ বছর পাপ করার শাস্তি কি জাহান্নামের আগুনে অনন্তকাল দগ্ধ হওয়া?! এ কেমন বিচার?! আবার শাস্তির ধরন দেখুন উপরের আয়াতগুলিতে?! আল্লাহ হলেন সবচেয়ে দয়ালু (The most merciful), আমি বা আপনি তো সবচেয়ে দয়ালু নই।

তারপরেও আমি আমার সবচেয়ে জঘন্য শত্রুকেও আগুনে পুড়িয়ে মারতে চাই না, কোন অবস্থাতেই না। তাহলে আল্লাহ একজন কঠিন পাপি ব্যক্তিকে জাহান্নামের আগুনে অনন্তকাল দগ্ধ করে কি করে “সবচেয়ে দয়ালু” হন তা আমি বুঝতে পারছি না ভাই! ভাই আমাকে ভুল বুঝবেন না, আমি নাস্তিক নই, আমি খোদা, আল্লাহ বা গডে বিশ্বাস করি যোক্তিক কারনেই।

আমি পরকালেও বিশ্বাস করি। আমি এও বিশ্বাস করি, আল্লাহ “পরম এবং সবচেয়ে দয়ালু”। আমি এও বিশ্বাস করি যে আল্লাহ কাউকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেন না কারন আল্লাহ সব ধরনের  অন্যায়, জুলুম, নির্যাতন ঘৃনা করেন। মহান আল্লাহ কুরআনের বহু জায়গাতেই বলছেন, কিয়ামতের দিনে কারো প্রতি কোনরুপ জুলুম করা হবে না, কারো হক বিন্দুমাত্র নস্ট করা হবে না।

[6 সূরা আল্ আন-আম 160] যে একটি সৎকর্ম করবে, সে তার দশগুণ পাবে এবং যে, একটি মন্দ কাজ করবে, সে তার সমান শাস্তিই পাবে। বস্তুতঃ তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।

এই আয়াত আল্লাহ যে “পরম এবং সবচেয়ে দয়ালু” তা প্রমান করে।

[33 সূরা আল-আহযাব 24] আল্লাহ, সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদিতার কারণে প্রতিদান দেন এবং ইচ্ছা করলে মুনাফেকদেরকে শাস্তি দেন অথবা ক্ষমা করেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

মুনাফিক হল সবচেয়ে খারাপ তারপরেও অনেক মুনাফিকদেরও মাফ পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে!

[6 সূরা আল্ আন-আম 54] আর যখন তারা তোমার কাছে আসবে যারা আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করে, তখন তুমি  বলে দাও – তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমাদের পালনকর্তা রহমত করা নিজ দায়িত্ব হিসাবে নিজের প্রতি আরোপ করেছেন যে, তোমাদের মধ্যে যে কেউ অজ্ঞতাবশতঃ কোন মন্দ কাজ করে, অনন্তর এরপরে তওবা করে নেয় এবং সৎ হয়ে যায়, তবে তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, করুণাময়।

আল্লাহ যে “পরম এবং সবচেয়ে দয়ালু” এসব আয়াতও তা প্রমান করে।

তাহলে [4. 56] বা [22. 19], [2 . 39], [4 . 14]  এবং আরো অনেক অনুরুপ আয়াত কুরানে আছে তা কি ভেজাল? না আমাদের বোঝার ভুল না ভাষাগত ভুল (১৫০০ শত বছরের আগের আরবী ভাষা আর মডার্ন আরবী ভাষারও তো অনেক পার্থক্য আছে), না আল্লাহ একজন স্নেহময় হিসাবে ভয় দেখিয়েছেন যেমনটি আমরা আমাদের অবুঝ শিশু সন্তানদের ভয় দেখিয়ে থাকি ( কতবার আমার শিশু সন্তানকে তার দুস্টমী নিয়ন্ত্রনের জন্য বলেছি তোকে পিটিয়ে হাত-পা ভাংবো কিন্তু বাস্তবে কখনও আঘাত দিয়েও মারি নাই! ), নাকি ষড়যন্ত্র?

নাকি বাইবেলের মত কোরআনেও ভেজাল ঢুকে গেছে? বাইবেল আল্লাহর বানী হওয়া সত্তেও তাতে ভেজাল থাকলে কুরআনে নয় কেন?! আপনি হয়ত বলবেন আল্লাহ কুরান সংরক্ষনের দায়িত্ব নিয়েছেন [15 সুরা হিজর 9]। প্রথমত এই আয়াতে কুরানের কথা সরাসরী না বলে বলা হচ্ছে জিকর। আল্লাহর আগের কিতাবগুলিও তো জিকর।

তাহলে আগের জিকরগুলিতে যদি ভেজাল থাকে তাহলে কোরআনে নয় কেন?! দ্বিতীয়তঃ [15. 9] আয়াতটিই যে ভেজাল না তা কিভাবে প্রমান করবেন?! হয়ত ষড়যন্ত্রকারীরা কুরানে অনেক ভেজাল ঢুকিয়ে দিয়ে তা বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য আরেকটি ভেজাল আয়াত [15.9] ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের ষড়যন্ত্র পাকাপোক্ত করেছিল!

[4. 56] বা [22. 19], [2 . 39], [4 . 14] ইত্যাদি আয়াতগুলি আক্ষরিক অর্থে বিশ্বাস করে কি আমরা মহান আল্লাহকে অপমান করছি না?! মহান আল্লাহ কি বদমেজাজি, অত্যাচারী, অহংকারী ভয়ংকর কোন সত্তা?! পবিত্র কুরানে বহু জায়গাতে মহান আল্লাহ অসংখবার বলছেন তিনি হলের সবচেয়ে ভাল, সবচেয়ে ন্যায়বিচারক, তাঁর মত ভাল আর কেও হতেই পারে না যা বিশ্বাস করতে আমার কোন সমস্যা নেই।

আমার মতে কুরানের দোহায় দিয়ে মহান আল্লাহর ব্যাপারে নেতিবাচক কোন কিছু ধারনা বা বিশ্বাস করা মারাত্বক ভুল। আশা করি আমার প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন। মুল্লা মার্কা  উত্তর যে আমি চাই না ভাই তা আশা করি ইতিমধ্যেই বুঝতে পেরেছেন। বহু ধন্যবাদ।

Copyright © www.QuranResearchBD.org

 


One Brilliant Comment - Join Discussion Now!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*