শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


অন্ধভাবে কুরআন বিশ্বাসীদের প্রতি কিছু খোলা প্রশ্ন?


সবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা রেখেই বলছি, আমার মনে ও ক্ষুদ্র জ্ঞানে কুরআন সম্মর্কে কিছু নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিজেকে মহাপন্ডিতও ভাবি না, অকারনে অন্যের ভুল ধরাও আমার কাজ না। কারো ধর্ম বিশ্বাসে আঘাত দেওয়ার জন্যও প্রশ্ন করছি না। আমি কোন মতলব্বাজ বা ধর্ম ব্যবসায়ীও নই, তা আসা করি বুঝবেন। আমি প্রকৃত সত্য খুজে বেড়ায়। যাহোক আসুন প্রশ্ন নিয়ে কথা বলা যাক।

১.  অধিকাংশ সবাই বলে নবী মুহাম্মদ সঃ হলেন শেষ নবী তাঁর পরে আর নবীও আসবে না (কুরআন ৩৩.৪০) আসমানী কিতাবও আসবে না। আমার কাছে এটা একটা নেহায়েত উদ্ভট যুক্তি! আগেকার দিনের মুর্খ, জাহেল, নিস্টুর, বর্বর ও অসভ্য ক্ষুদ্র উপজাতি গোস্টির কাছে আল্লাহ নবী-রাসুল পাঠাতেন তাঁর রহমত ও হেদায়াত হিসাবে। আর এখন অপেক্ষাকৃত অনেক ভদ্র ও সভ্য মানুষদের কাছে আল্লাহ নবী-রাসুল পাঠাবেন না, তাঁর রহমত আমাদের প্রাপ্য না! ভদ্র ও সভ্য মানুষদেরই আল্লাহর রহমত বেশি প্রাপ্য তাই এই যুগেই আমরা বেশি বেশি নবী-রাসুল আশা করতে পারি।

তখনকার ক্ষুদ্র উপজাতি গোস্টিদের কাছে আল্লাহ নবী-রাসুল পাঠাতেন আর এখনকার বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষের কাছে তাঁর রহমত হিসাবে নবী-রাসুল পাঠান না যখন যুগ পাল্টিয়েছে, আমরা আধুনিক মানুষ নতুন নতুন সমস্যায় অনেক সময় দিশেহারা!কুরআন বা হাদিস অনেক ক্ষেত্রেই এই আধুনিক যুগের বহু সমস্যার সমাধান দিতে পারে না। আমার মনে হয় রাসুল মুহাম্মদ সঃ এর আশে পাশে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু মুনাফেকরা সুকৌসলে কুরানে এই আয়াত যোগ করে দিয়েছে! কুরানে উল্লেখ আছে তখনকার অনেক আরবরাই মুনাফেকিতে ছিল চ্যাম্পিয়ন!

২. আল্লাহ হলেন মহাপরাক্রমশালী, সবচেয়ে দয়ালু ও ক্ষমাশীল তাতে কারো কোন সন্ধেহ থাকা উচিত না। কি করে সেই মহান দয়ালু আল্লাহ পাপী ও অবিস্বাসীদেরকে অনন্তকাল জাহান্নামের আগুনে পুড়াবেন যেখানে পাপী ও অবিস্বাসীরা অতি সীমিত সময়ের জন্য (অনন্তকালের তুলনায় তা আসলে শুন্য মাত্র!) পাপ করেছে?! অনন্তকাল মানে যার কোন শেষ নেই! বিলিয়ন বিলিয়ন বিলিয়ন বিলিয়ন বিলিয়ন বিলিয়ন… বছরেও শেষ আছে কিন্তু অনন্তকালের কোন শেষ নেই।

আমি নিশ্চিত আমরা  কুরআনের সঠিক শব্দ হয়ত বুঝছি না অথবা মুনাফেকরা মহান আল্লাহকে অপমান করার জন্য কুরআনে উল্টা-পাল্টা শব্দ যোগ করেছে! মুনাফেকরা তাদের উল্টা-পাল্টা শব্দ পাকা-পোক্ত করার জন্য আরো কিছু শব্দ যোগ করেছে যে, কুরআন আল্লাহ নিজে সংরক্ষন করবেন (কুরআন ১৫.৯) কাজেই চোখ বন্ধ করে কুরান সত্য বলে মেনে নাও!

৩. মহান আল্লাহ যদি সর্বশক্তিমান, সবচেয়ে দয়ালু ও ক্ষমাশীল এবং সবকিছু শুধুমাত্র তাঁর হুকুম দিয়ে করতে পারেন (২.১১৭, ৩.৪৭ ইত্যাদি) তাহলে ওসব ভয়ংকর ভুমিকম্প, মহামারী, সুনামী, প্লাবন, দুর্ভিক্ষ, মারাত্বক দুর্ভোগ ও আজাবের রোগ-বালাই দূর করেন না কেন?! আমাদের পরীক্ষা করেন?! আল্লাহরও আবার পরীক্ষা করার দরকার হয় যখন আল্লাহ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত, গোপন-প্রকাশ্য সব কিছুই জানেন! আমাদের মানুষের জ্ঞান অতি সীমিত আর আমরা ভবিষ্যতও জানি না তাই আমাদের অনেক কিছুই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়। মহান আল্লাহর আমাদেরকে পরীক্ষা করার কোনই প্রয়োজন নেই।

৪. কুরান অনুযায়ী শিরক হল সবচেয়ে বড় গুনাহ! কেন?! আমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শিরক করলে আল্লাহর এত বেশি ক্ষতি হবে যে দয়াবান আল্লাহ আমাদের অন্তকাল ধরে জাহান্নামের আগুনে পুড়াবেন?! মহান আল্লাহকে কেও কোন ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে?! অবশ্যই না। আমরা যদি হাজার খোদাও বিশ্বাস করি তাতেও মহান আল্লাহর কোন ক্ষতি হবে না বা তাতে প্রকৃত ব্যাপারেও কোন পরিবর্তন হবে না অর্থাৎ এই মহাবিশ্বের খোদা বা মালিক একজনই।

কুরানের ওসব সংস্লিস্ট আয়াতগুলি সম্ববত মুনাফেকদের বানানো যাতে আল্লাহকে একজন বর্বর, নিস্টুর, অহংকারী রাজা বা ডিক্টেটরের মত চরিত্র দেওয়া হয়েছে! কারন একজন বর্বর, নিস্টুর, অহংকারী রাজা বা ডিক্টেটর তার শরীকানা নিয়ে সবসময় চিন্তিত থাকে এবং তার রাজ্যে তার সাথে তার কোন শরীকানা সে সহ্য করে না! মহান আল্লাহ নিশ্চিই একজন বর্বর, নিস্টুর, অহংকারী রাজা বা ডিক্টেটরের মত নন। মহান আল্লাহর সমান বা তাঁর চেয়ে ভাল এই মহাবিশ্বে আর কেও নেই।

খোলাফায়ে রাশেদিনদের পরে কোন এক বাদশাহর সময়ে কুরআনের অরিজিনাল কপি পোড়ানো হয়, সম্ভবত  ওই বাদশাহ বা তার পুর্বসুরী কেও কুরআনে ভেজাল ঢুকিয়েছিল! এগুলিই শেষ না আরো বেশ কিছু অনুরুপ প্রশ্ন আছে, তবে আজ আপাতত এখানেই থাক!!! যাহোক ওসব অযোক্তিক বিষয়গুলি বিশ্বাস করে আমরা মহান আল্লাহকে কি অপমান করছি না? আশা করি সততা, নিরোপেক্ষতা ও খোলা মন দিয়ে ভেবে দেখবেন।

আমি জানি কুরআনে অনেক জ্ঞানের কথাও আছে যা পালন করলে আমাদের অনেক ক্ষেত্রেই কল্যান হতে পারে তবে পরামর্শ থাকলো, কানা হাফেজের মত অন্ধভাবে কুরআন অনুসরন করে নিজের বিপদ ডেকে আনবেন না আর মহান আল্লাহকে অপমান করবেন না।

লেখকঃ একজন খোলা ও উদার পন্থী মুসলমান বলে উল্লেখ করেছেন। তবে সে তাঁর কোন নাম-ঠিকানা দেননি।

“During times of universal deceit, telling the truth becomes a revolutionary act”
-George Orwell

Copyright © www.QuranResearchBD.org

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*