শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


রোহিঙ্গাদের সাথে মায়ানমার সরকার ও উগ্র বৌদ্ধরা যা করছে তা মানবতার কলংক


রোহিঙ্গারা বার্মাতেই জন্ম নেয় তাই তারা ঐ দেশের নাগরিক। এই জন্মগত নাগরিক অধিকার থেকে তাদের পৃথিবীর কারো বঞ্ছিত করার নৈতিক অধিকার নেই। কিন্তু গায়ের জোরে, কোন মানবাধিকারের তোয়াক্কা না করে বার্মা সরকার এবং ওখানকার উগ্র বৌদ্ধরা যা করছে তা কোন বিবেকবান মানুষ কোন ভাবেই মেনে নিতে পারে না।

rohingya-people

কোন রোহিঙ্গা যদি মায়ানমারের আইন ভংগ করে বা কোন অপরাধমুলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত হয় তাহলে ওদেশের আইন অনুযায়ী তার বিচার হতে পারে। যে কোন জনগস্টিতে ভাল-মন্দ সব ধরনের মানুষই কম-বেশি থাকে। গুটিকয়েক রোহিঙ্গার কোন অপরাধমুলক কাজের জন্য অধিকাংশ নিরিহ এবং শান্তিপ্রিয় রোহিঙ্গাদের দায়ী করা যায় না।

এই পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষই একই কমন অরিজিন থেকে উদ্ভুত। পৃথিবীর প্রধান প্রধান ধর্ম (বিশেষকরেঃ ইসলাম, খৃস্তান এবং ঈহুদী ধর্ম) এবং আধুনিক বিজ্ঞান এই মহা সত্যকে দ্ব্যর্থহীন ভাবে প্রমান করেছে। কাজেই রোহিঙ্গারাও আমাদের আত্বীয় কারন ওরাও সবাই বনি আদম। রোহিঙ্গারা কোন এলিয়েন নয় অবশ্যই।

যে কোন দেশে যদি মানবাধিকার লংঘিত হয় তাহলে তা আর সেই দেশের আভন্তরিন বিষয় থাকে না কারন আমরা সবাই এক মানব জাতি, কে চাইনিজ, কে আমেরিকান, কে ইন্ডিয়ান,  কে রাশিয়ান, কে আফগান বা কে রোহিঙ্গা এটা কোন বিষয় নয়।

rohingya people

তাই বার্মা সরকারকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত কঠোরভাবে সাবধান করা এবং তাতে কাজ না হলে বার্মা সরকারকে উৎখাত করে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসাটা জরুরী। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রতিবেশী হওয়ার কারনে এ ব্যাপারে আমরা (বা আমাদের সরকার) আমাদের দায়িত্ব এড়াতে পারি না। আমাদের প্রতিবেশীদের চরম জুলুম, নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষন, অত্যাচার করা হচ্ছে আর আমরা বিবেকবান মানুষ হয়ে তা শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে পারি না। বলাবাহুল্য বাংলাদের সরকারের একার পক্ষে বার্মা সরকারকে কঠোরভাবে সাবধান করা বা উৎখাত করা সম্ভব নয়।

তবে আমাদের সরকারের উচিত এ ব্যাপারে পৃথিবীর অন্যান্য শক্তিসালী দেশকে কনভিন্স করা, বিশেষ করে জাতীয়সংগ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলোকে কনভিন্স করার আপ্রান চেস্টা করা। সাদ্দাম সরকার, তালেবান সরকার বা গাদ্দাফি সরকার যদি উৎপাটিত হতে পারে, তাহলে বর্তমান বার্মিজ সরকার নয় কেন?

সেই সাথে রোহিঙ্গাদের আপাতত মানবিক সাহায্য দেওয়া ছাড়া আমাদের আর তেমন বিকল্প নেই কারন তাদের জীবন বাঁচানোর সুযোগ করে দেওয়া মানুষ হিসাবে আমাদের নৈতিক এবং মানবিক দ্বায়িত্ব । সবাইকে ধন্যবাদ।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।