শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


কাগুজে কুরআন অনুসরন করা কি ক্ষতিকর এবং মানবজাতির জন্য বিপদজনক?


প্রশ্নঃ যেহেতু কাগুজে কুরআনে অনেক জংগিবাদি, বর্বরতা এবং নিস্টুরতার আয়াত আছে তাহলে কাগুজে কুরআন অনুসরন করা কি ক্ষতিকর এবং মানবজাতির জন্য বিপদজনক? এমনই এক প্রশ্ন করেছেন আমাদের এক পাঠক।

উত্তরঃ বিষয়টি মোটেই সেরকম নয়। আমরা এটাও দেখিয়েছি যে কাগুজে কুরআনেও অনেক অনেক ভাল কথা এবং উপদেশ আছে যা অতি মুল্যবান। কাগুজে কুরআন আমাদের  সব ধর্ম, সব বর্ন,  সকল প্রকারের মানুষের প্রতি ন্যায়বিচারের ব্যাপারে অটল থাকতে বলছে। কাগুজে কুরআন আমাদের চুরি-ডাকাতি, ঘুষ, দুর্নিতি ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে কঠোরভাবে বলছে। কাগুজে কুরআন আমাদের মানবসেবার কথা বলছে।

কাগুজে কুরআন আমাদের পরনিন্দা না করতে বলছে। কাগুজে কুরআন আমাদের দান-খয়রাত করতে বলছে সম্পুর্ন নিঃস্বার্থভাবে; মানুষের কাছে কোন রকম প্রতিদানের আশা না করেই। কাগুজে কুরআন আমাদের প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমাশীল হতে বলছে যাতে হয়ত শত্রুও অবশেষে পরম বন্ধু হতে পারে।

ইসলাম ধর্ম তো তরবারির মাধ্যমে প্রসার লাভ করেনি। এটা সবাই জানে যে আমাদের রাসুল (সঃ) ছিলেন ক্ষমা, উদারতা, দানশীলতা, মহানুভবতার মুর্ত প্রতিক। তিনি মহান আল্লাহর বানী প্রচার করতে যেয়ে কতবার মার খেয়েছেন কিন্তু তারপরেও তাঁর আক্রমনকারীদের তিনি মাফ করে দিয়েছেন এবং তাদের জন্য দোয়াও করেছেন। এই হল প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা।

কাজেই অল্প কিছু আয়াত বাদে কাগুজে কুরআনের অধিকাংশ আয়াতই মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই কাগুজে কুরআনের অল্প কিছু জংগিবাদি এবং বর্বরতার আয়াতের কারনে যারা কাগুজে কুরআনকে ঢালাওভাবে সমালোচনা করে বা নাস্তিক হতে প্ররোচিত করে আমরা তাদের সাথে একদম একমত নয়।

নাস্তিকতা এই পৃথিবীকে ভাল কিছুই দিতে পারেনি। নাস্তিকতা হিংসা, বর্বরতা, নির্দয়তা, অমানবিকতা, অসহিষ্ণুতার জন্ম দিয়েছে। দেখুন কমনিজম বা নাস্তিকতার রাজনৈতিক আদর্শ এই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কি ভয়ংকর  হিংসা, বর্বরতা, নির্দয়তা, অমানবিকতা, অসহিষ্ণুতার জন্ম দিয়েছে। আমরা মনে করি ধর্মীয় গোড়ামী, অন্ধ বিশ্বাস যেমন জঘন্য নাস্তিকতাও তেমনি জঘন্য এবং মানবজাতির জন্য ক্ষতিকর। ধন্যবাদ।

May 1, 2015. Copyright © www.QuranResearchBD.org

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*