শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


পেপার কুরআন কি আল্লাহর বানী?


আমরা আগেই বলেছি, যুক্তি-প্রমান ছাড়া যে কোন  ধরনের অন্ধ বিশ্বাসই মারাত্বক বিপদজনক। তাহলে পেপার কুরআন যে আল্লাহর বানী এ ব্যাপারে যুক্তি-প্রমান কি? এ ব্যাপারে মূলত তিন ধরনের প্রমান আমরা পেতে পারি।

১. আমাদের মনে রাখতে হবে আল্লাহর কিতাব আল্লাহ সংরক্ষনের জন্য তিনি কিছু বিশেষ ব্যক্তি নিযুক্ত করেন। কোন ফেরেস্তা সরাসরী  এসে আল্লাহর কিতাব সংরক্ষন করেন না।

[5 সূরা আল মায়েদাহ 44] আমরা তওরাত অবর্তীর্ন করেছি। এতে হেদায়াত ও আলো রয়েছে। আল্লাহর আজ্ঞাবহ পয়গম্বর, দরবেশ ও আলেমরা এর মাধ্যমে ইহুদীদেরকে ফয়সালা দিতেন। কেননা, তাদেরকে এ খোদায়ী গ্রন্থের দেখাশোনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এবং তাঁরা এর রক্ষণাবেক্ষণে নিযুক্ত ছিলেন। অতএব, তোমরা মানুষকে ভয় করো না এবং আমাকে ভয় কর এবং আমার আয়াত সমূহের বিনিময়ে স্বল্পমূল্যে গ্রহণ করো না, যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফায়সালা করে না, তারাই কাফের।

তাউরাতের মত পবিত্র কুরআনও মহান আল্লাহ একইভাবে নিশ্চয় সংরক্ষনের ব্যবস্থা করেছেন। তার প্রমান হল নবী মুহাম্মদের মৃত্যুর পরেই তাঁর প্রধান এবং বিশস্থ্য সাহাবীরা (যেমন আবু বকর, ওমর, উসমান, আলী প্রমুখ) পবিত্র কুরআনের সমস্থ বিচ্ছিন্ন অংশগুলো একত্র করে পুর্নাংগ  কুরআন বই আকারে প্রকাশ করেন এবং মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় তা পৌছে দেন।

এ ইতিহাসের ব্যাপারে  কেউ দ্বিমত পোষন করবে না। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে ওটা ছিল একটা সামস্টিক মানব প্রচেস্টা আর যে কোন মানবিক প্রচেস্টা তা যত নির্ভুলভাবেই করার চেস্টা করা হোক না কেন কিছু ভুল-ত্রুটি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। কিছু ভুল-ত্রুটির কারনেই সম্ভবত কুরআনের অনেকগুলি ভার্সন হইয়ে গেছে এবং এক ভার্সন থেকে অন্য ভার্সনে কিছুটা পার্থক্য হইয়ে গেছে।

২. পবিত্র কুরআন প্রাচীন একটি গ্রন্থ তার পরেও এর মধ্যে মহা বিস্ফোরন, মহা সংকোচন, ভ্রুনতত্ব ইত্যাদি আরো অনেক মহা আশ্চর্য মিরাকল পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য “কোরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান” বাংলা বইটি পড়তে পারেন। পবিত্র কুরআন যদি বেশি মাত্রায় রদবদল হয়ে যেত তাহলে আমরা ওসব মিরাকল পেতাম না এবং আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে অনেক সাংঘর্ষিক আয়াত পেতাম (যেমনটি হাদিসে পাওয়া যায়)। কাজেই  পেপার কুরআন যে মোটামুটি অক্ষত আছে এটা তার দ্বিতীয় প্রমান।

৩. সবশেষে ডঃ রাশাদ খলিফা কুরআনের গানিতিক মিরাকল আবিস্কার করেন এবং  তিনি গানিতিকভাবে বিভিন্ন দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে আসেন যে পেপার কুরআন মোটামুটি অক্ষত আছে। তাঁর পর্যবেক্ষন অনুযায়ী তিনি নয় নম্বর সূরা তাওবাহর শেষ দুটি আয়াত জাল বলে শনাক্ত করে তা  পেপার কুরআন থেকে বাদ দিয়েছিলেন।

এটি সামান্য ব্যাপার। উক্ত দুটি আয়াত কোন আদেশ বা নিষেধের আয়াতও না ফলে তাতে মুল কুরআনের আইন-কানুনের কোনই তারতম্য হয়নি।  কুরআনের গানিতিক মিরাকলের বিভিন্ন দিক নিয়ে এখনও অনেক গবেষক গবেষনা অব্যাহত রেখেছেন। দেখা যাক আর কোন নতুন ত্রুটি-বিচ্যুতি পেপার কুরআনে পাওয়া যায় কিনা। ধন্যবাদ।

Copyright © www.QuranResearchBD.org

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।