শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত! সেটা আবার কি?!


বাংলাদেশে মাঝে মধ্যে শোনা যায় ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেওয়ার কারনে কেউ না কেঊ গ্রেফতার হয়েছে! এটাকে গ্রেফতার বলা যায় না, শ্রেফ হয়রানি। বাংলাদেশের সংবিধান শান্তিপূর্নভাবে যে কোন ধর্ম পালন এবং প্রচারের পুর্ন স্বাধীনতা দিয়েছে। যতক্ষন পর্যন্ত আপনি কোন ধ্বংসাত্বক কর্মকান্ডে জড়িত না হবেন ততক্ষন পর্যন্ত শান্তিপূর্নভাবে যে কোন ধর্ম বিশ্বাস পালন এবং প্রচারের পুর্ন স্বাধীনতা আপনার রয়েছে । অন্য কারো তথাকথিত ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেওয়ার নামে গ্রেফতার করা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সম্পুর্ন অসাংবিধানিক এবং মধ্যযুগীয় একটা কালো আইন যা আওয়ামিলীগ সরকার অন্তত বাতিল করতে পারে।

আমাদের শুধু লাফালাফি করলে হবে না; আমাদের অবশ্যই ভদ্র এবং পরমত-সহিষ্ণু  হতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে অনেক মূর্খদের যে কোন তুচ্ছ ব্যাপারেই অনুভুতিতে আঘাত লাগতে পারে। মূর্খদের এবং ধর্মান্ধদের অনুভুতি অনুযায়ী তো দেশ চলতে পারেন না। যারা ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত বলে লাফালাফি করে তাদের আমরা বাংলাদেশের সংবিধানের সংশ্লিস্ট অনুচ্ছেদ স্বরন করিয়ে দিতে চাই।

৩৯। (১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
(খ) সংবাদ ক্ষেত্রের স্বাধীনতার, নিশ্চয়তা দান করা হইল।
ধর্মীয় স্বাধীনতা
৪১। (ক) প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রহিয়াছে;
(খ) প্রত্যেক ধর্মীয় সমপ্রদায় ও উপ-সমপ্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রহিয়াছে।

ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতের দোহায় দিয়ে যারা ধর্মপ্রান এবং নিরিহ মানুষের হয়রানী করে তাদেরকে পবিত্র কুরআনের সংশ্লিস্ট কিছু আয়াত আমরা স্বরন করিয়ে দিতে চাই।

[2 সূরা আল্ বাকারাহ্  256] দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে…।

[10. সূরা ইউনুস 99] আর তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসতো সমবেতভাবে। তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য?

[6 সূরা আল্ আন-আম 107] যদি আল্লাহ চাইতেন তবে তারা শেরক করত না। আমি তোমাকে তাদের সংরক্ষক করিনি এবং তুমি তাদের কার্যনির্বাহী নও।

[7 সূরা আল আ’রাফ 199] আর ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোল, সৎকাজের পরামর্শ দাও এবং মূর্খ জাহেলদের থেকে দূরে সরে থাক।

[39 সূরা আল-যুমার 41] আমি তোমার প্রতি সত্য ধর্মসহ কিতাব নাযিল করেছি মানুষের কল্যাণকল্পে। অতঃপর যে সৎপথে আসে, সে নিজের কল্যাণের জন্যেই আসে, আর যে পথভ্রষ্ট হয়, সে নিজেরই অনিষ্টের জন্যে পথভ্রষ্ট হয়। তুমি তাদের জন্যে দায়ী নও।

[109 সূরা কাফিরুন 6] তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্যে এবং আমার ধর্ম আমার জন্যে।

মূর্খতা, উগ্রতা, সন্ত্রাসবাদিতা, অন্ধ বিশ্বাস এবং ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে পবিত্র কুরআন, বাংলাদেশের সংবিধান এবং পরমত-সহিষ্ণুতা জয়ী হোক এটাই দেশের সব শান্তিকামী এবং বিবেকবান মানুষ কামনা করে। সবাইকে ধন্যবাদ।

Copyright © www.QuranResearchBD.org

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।