শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


বাংলাদেশের এক নম্বর সমস্যাঃ অধিকসংখ্যক জনসংখ্যা


আমাদের দেশের প্রধান তিনটি সমস্যাঃ অধিকমাত্রার জনসংখ্যা, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা। তবে উক্ত তিনটি প্রধান সমস্যার মধ্যে আমার মতে অতিমাত্রায় জনসংখ্যা হল সবচেয়ে বড় মারাত্বক সমস্যা। এটা আমাদের জন্য আসলে লজ্জার ব্যাপার যে আমাদের দেশের জনসংখ্যর ঘনত্ব পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি। যদিও কিছু ছোট সিটি-স্টেটে (যেমন সিংগাপুর) জনসংখ্যর ঘনত্ব আমাদের থেকেও কিছুটা বেশি কিন্তু ওসব সিটি-স্টেটকে প্রাকটিক্যালী একটা পুর্নাংগ রাস্ট্র বলা যায় না।

traffic-jam

কাজেই পুর্নাংগ এবং একটা সাইজেবল রাস্ট্র হিসাবে আমাদের দেশের জনসংখ্যর ঘনত্বই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি। এর জন্য দ্বায়ী আমাদের রাজনিতিবীদ এবং সাধারন মানুষের এই মারাত্বক সমস্যার ব্যাপারে অসচেতনতা , অন্ধ ধর্মীয় গোড়ামী এবং অবৈজ্ঞানিক চিন্তা। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনের সাথে প্রকৃত ইসলাম ধর্মের বিন্দুমাত্রও সংঘর্ষ নেই।

যারা বলেন এই ব্যাপক জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রুপান্তরিত করবেন তারা বোঝেনই না তারা আসলে কি বলছেন! আমার খুব খারাপ লাগে, লজ্জা লাগে আমাদের দেশের ভাই-বোনেরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেয়ে ছোট ছোট কাজ করছে যা জাতি হিসাবে আমাদের জন্য খুব একটা সন্মানের না।

মধ্যপ্রাচ্যর দেশে অন্য কোন দেশের অত শ্রমিক দেখা যায় না। আমাদের ভাই-বোনেরা সামান্য কয়টা টাকার জন্য কি মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে প্রবাসে। আমি সিংগাপুর-মালোয়েশিয়াতে নিজ চোখে দেখেছি তাদের অনেকের কঠিন জীবনের অবস্থা।

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারনে আমাদের অতি সীমিত চাষাবাদের ভুমি কমে যাচ্ছে যা ভবিষ্যতে যথেস্ট খাদ্য উৎপাদনের জন্যও মারাত্বক হুমকি। পরিবেশ তথা পানি সম্পদ, বনজ সম্পদের উপর পড়ছে মারাত্বক চাপ।

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার তৎপরতার কারনে জলবায়ু হচ্ছে অধিকতর উষ্ণ ( যেমন যত বেশি মানুষ তত বেশি গাড়ি এবং মটর যান, তত বেশি গ্রীনহাঊজ গ্যাস ইমিশন; খাদ্য উৎপাদনে মাত্রাতিরিক্ত সেচ ফলে ভুগর্ভের পানির স্তরও তত নিচে চলে যাচ্ছে ইত্যাদি) যার ফলে খরা, ঘুর্নিঝড়, সাইক্লোন, টর্নেডো ইত্যাদি বাড়ছে।

আমরা উল্টা-পাল্টা এবং মারাত্বক আবহাওয়া দেখা শুরু করেছি। অবশ্য উল্টা-পাল্টা এবং ভয়ংকর আবহাওয়ার জন্য শুধু আমরা দায়ী না সারা পৃথিবীর মানুষ সম্মিলিতভাবে এর জন্য দায়ী।পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যর দেশ যেমন, চীন এবং ভারতের জনংখ্যাও আনুপাতিহারে আমাদের জনংখ্যার কয়েকগুন কম।

যেমন ধরুন চীনের কথায়ঃ বিশাল দেশ, অনেক মানুষও কিন্তু তার পরেও চীনের জনংখ্যার ঘনত্ব হল ১৪৫ জন/বর্গকিলোমিটার। আর আমাদের দেশের জনংখ্যার ঘনত্ব হল ১০৩৩.৫০ জন/বর্গকিলোমিটার। অর্থাৎ বাংলাদেশের জনসংখ্যর  ঘনত্ব চীনের  তুলনায় ৭ গুনেরও বেশি। আর আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার সাথে তুলনা করলে তো একেবারে মাথা খারাপ অবস্থা! আমাদের প্রতিবেশি দেশ বার্মার জনসংখ্যর তুলনায়ও আমাদের জনসংখ্যর ঘনত্ব ১৩.৬ গুন বেশি।

তাহলে বুঝুন আমরা কোথায় চলে গেছি অলরেডি! এই টুকু দেশে প্রায় ১৭ কোটি আদম সন্তান, তার পরেও আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী “এক সন্তান থাকলে আর দ্বিতীয়টি নয়” স্লোগানটি সাম্প্রতিকালে বন্ধ করেছেন! আমাদের দেশের যে আয়তন তাতে এখানে চার থেকে পাঁচ কোটি মানুষই অনেক বেশি পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের আয়তনের অনুপাতে। এই ছোট দেশের এই বিশাল জনসংখা শুধু বাংলাদেশের জন্যই এক মারাত্বক বোঝা না সারা পৃথিবীর অর্থনীতি এবং পরিবেশের জন্যও একটা বোঝা।

তাই  আমাদের দেশে চীনের মত এক সন্তান গ্রহন করার আইন প্রনয়ন করা জরুরী। দুই এর অধিক কেও সন্তান নিলে জেল-জরিমানার ব্যবস্থা শীঘ্রই করা দরকার তা না হলে ক্রমাগত বর্ধমান জনসংখ্যার ভার আমাদের মত ক্ষুদ্র দেশের বহন করা একেবারেই সম্ভব না। ধন্যবাদ।

April 25, 2015. Copyright © www.QuranResearchBD.org

 


One Brilliant Comment - Join Discussion Now!

  1. রাকিব হাসান says:

    খুবই জরুরী কথ বলেছেন! আমাদের এইটুকু দেশে এত মানুষ হয়েছে যে পা ফেলানো দায়! চাষের জমি যাচ্ছে কমে বাড়ি করার জন্য। পরিবেশ তো ধবংশ হচ্ছেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।