শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


অন্ধ বিশ্বাসঃ পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর জিনিস!!


অন্ধ বিশ্বাস শুধু পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর জিনিসই না সত্য ধর্মের জন্যও তা মারাত্বক হুমকী ও কলংক। প্রত্যেক ধর্মেই অনেক উগ্র ও গোড়াপন্থি লোক আছে যারা শুধুমাত্র তাদের স্ব স্ব ধর্মকেই সঠিক মনে করে আর দুনিয়ার সমস্থ ধর্মকেই বাতিল মনে করে। আমি এই বিষয়টিতে মনে হয় অনেকের চেয়েই একটু বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি কারন আমার অনেক কুরানিস্ট, সুন্নি, শীয়া, খৃস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ বন্ধু রয়েছে বিভিন্ন দেশে।

আমার একাধিক খৃস্টান  বন্ধুর সাথে তুমুল বিতর্ক হয়েছে নবী ঈসাকে কেন্দ্র করে। ওদেরকে কোনভাবেই আমি বোঝাতে পারলাম না যে, খোদার কোন পুত্র নেই। জেসাস্‌ বা ঈসা, খোদার একমাত্র পুত্রর, নাকি শূলে বিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল দুনিয়ার সমস্থ মানুষের পাপ মোচন করার জন্য; জেসাস্‌ এর মাধ্যম ছাড়া স্বর্গে যাওয়ার আর কোনই উপায় নেই! ওদের কাছে মুলত জেসাস্‌ই হল সব! কি অদ্ধুত বিশ্বাস! ওদের ওই বিশ্বাস এর বাইরে আর কোন কিছুই ওদের কাছে গ্রহনযোগ্য না! ওদের বিশ্বাস হল অন্য সব ধর্ম হল বাতিল এবং শয়তানের ধর্ম!

আমার বেশ কিছু হিন্দু ধর্মান্ধ বন্ধুর সাথে কথা হল, তাদের তো আবার ৩৩ কোটির মত দেব-দেবী আছে! এক এক দেব-দেবীর এক এক কাজ! আপনাকে অনেক যুক্তি এবং বুঝ-সুঝ দিয়ে এটাই শেষ পর্যন্ত প্রমান করবে ওদের  ধর্মই হল সঠিক এবং সত্য। অনুরুপভাবে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা! সঠিক কোন যুক্তি-প্রমান নেই, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অন্ধ বিশ্বাস!!

ব্যাপারটা এখানেই শেষ হলে তো খুব হয়ত মন্দ হোত না! কিন্তু অন্ধ ধর্ম বিশ্বাসের নামে পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত কত জঘন্য ও নির্মম ঘটনা ঘটছে তার কিছু দিক আমরা আলোকপাত করছি!!

১. গোড়া ধর্মান্ধ হিন্দুরা শতাব্দির পুরানো বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে দিয়ে ভয়ংকর দাঙ্গা বাধায় যাতে হাজার হাজার নিরীহ আদম সন্তান নিহত হয়। ওই ভয়ংকর হানাহানির পিছনে গোড়া হিন্দুদের অন্ধ এবং যুক্তিহীন ধর্ম বিশ্বাসই মুল প্রেরনা!

২. কি কঠিন অন্ধ বিশ্বাস! স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকেও জীবন্ত পুড়িয়ে মারতে হবে স্বামীর একই চিতায়! আহা! কত অসহায় নারী ওই ভয়ংকর অন্ধ বিশ্বাসের বলি হয়েছিল! ১৮২৯ সালে ব্রিটিস সরকারের গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিং আইন করে ওই জঘন্য প্রথা বাতিল করে তবে তার পরেও অনেকবার সতীদাহ হয়েছে!

৩. আল-কায়েদা সন্ত্রাসীরা বিমানভর্তি যাত্রীবাহী প্লেন হাইজ্যাক করে নিউওয়ার্কের টুইন টাওয়ার ধংশ করে; কত নিরিহ মানুষের জীবন যায় তাতে। আল-কায়েদা সন্ত্রাসীদের অবশ্য দৃড় অন্ধ বিশ্বাস যে তারা সবাই শহিদ হয়ে  এখন বেহেস্তের বাগানে আনন্দ-ফুর্তিতে আছে!

৪. আমি একবার আমার এক জার্মান বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “তুমি কি জান, হিটলার কেন ইহুদীদের অত ঘৃনা করত?” সে জবাব দিয়েছিল যে, হিটলার অন্ধভাবে বিশ্বাস করত একটা ইহুদীও যদি বেচে থাকে তাহলে সে ওই যুদ্ধে জিততে পারবে না!!

তাই হিটলারের টার্গেট ছিল প্রত্যেকটি ইহুদীকে হত্যা করা! চিন্তা করে দেখুন হিটলার কি ভয়ংকর অন্ধ বিশ্বাসে ডুবে ছিল এবং তার সেই অন্ধ বিশ্বাসের খেসারত, সে তার নিজের জীবন দিয়ে করেছে! লক্ষ লক্ষ ইহুদী নিহত হয়েছিল, ওই বিশ্ব যুদ্ধে আরো কত মানুষের জীবন গিয়েছিল ইত্যাদি।

৫. মাত্র কিছুদিন আগের খবর, একজন চাইনিজ ব্যক্তি আত্বহত্যা করার আগে সে তার প্রতিবেশিকে হত্যা করে কারন তার বিশ্বাস ছিল তাহলে সে আত্বহত্যা করে পরবর্তি জীবনে তাকে একা কাটাতে হবে না; সে তার উক্ত প্রতিবেশির সাথে দাবা খেলে দারুন সময় কাটাতে পারবে!  কি ভয়ংকর অন্ধ বিশ্বাস! এ ব্যাপারে এখানে বিস্তারিত দেখতে পারেন।

৬. আগেকার দিনের চাইনিজরা তরুন এবং তরুনীদের হত্যা করে তা তাদের নদী-দেবীকে খুশি করার জন্য উৎসর্গ করত! কি ভয়ংকর অন্ধবিশ্বাস, কাল্পনিক নদী-দেবীকে খুশি করার কি মহৎ উদ্যেগ! তারা আবার কোন গুরুত্বপুর্ন ব্যক্তি মারা গেলে তার সমস্থ চাকর-বাকর ও দাসী-বাদিদেরকেও উক্ত মৃত ব্যক্তির সাথে জীবন্ত কবর দিত!

৭. আগেকার দিনের  মেক্সিকোর এ্যাজটিকস্‌ সম্প্রদায় হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করত তাদের দেবতাকে উপহার দিতে কারন তাদের দৃড় বিশ্বাস ছিল তা না করলে পৃথিবী ধ্বংশ হয়ে যাবে! এক হিসাবে দেখা গেছে ১৫তম শতাব্দিতে প্রতি বছরে ওরা কমপক্ষে ২৫০,০০০ মানুষকে হত্যা করত!! অন্ধ বিশ্বাস মানুষকে কোথায় নিয়ে যায়!!!

৮. শুধু আগেকার দিনের  কথা কেন, আধুনিক যুগেও পাকিস্থানে যেয়ে দেখেন! উগ্রপন্থী সুন্নিরা মসজিদে নামাজরত অবস্থায় শিয়াদেরকে ব্রাস ফাইয়ার করে হত্যা করছে কারন তাদের দৃড় বিশ্বাস শিয়ারা সব কাফের হয়ে গেছে সুতরাং তাদের হত্যা করা সওয়াবের এবং আবশ্যকীয় কাজ!

আবার সীয়াদের যেখানে ক্ষমতা আছে তারা সেখানে বর্বর, নিস্টুর, নির্দয় সরকার প্রতিস্টা করে ধর্মের নামে, যেমন ইরানে মৃত্যুদন্ডের হার পৃথিবীতে সর্বচ্চোদের অন্যতম; পৃথিবীর  কয়েকটা ব্লাডি দেশ হল ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান, সিংগাপুর! আমাদের দেশেও মাঝে মধ্যে চরমপন্থি অন্ধ বিশ্বাসীরা উদারপন্থি মুসলমানদের হত্যা করছে, যেমন দেখুন কিছু ঘটনা, একই বাড়িতে ৬ জনকে খুন , খুলনায় পিতা-পুত্রকে জবাই করে হত্যা ইত্যাদি।

এরুপ আরো বহু বহু ভয়ংকর সব অন্ধ বিশ্বাস-ভিত্তিক  ঘটনা এই পৃথিবীতে ঘটেছে এবং ঘটছে। এখন কথা হল  পবিত্র কুরআন কি অন্ধ বিশ্বাসের সমর্থন করে? মোটেও না। পবিত্র কোরআন অন্ধ বিশ্বাসের তীব্র নিন্দা করে।

[2 সূরা আল্ বাকারাহ 170] আর যখন তাদেরকে কেউ বলে যে, সে হুকুমেরই আনুগত্য কর যা আল্লাহ  নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে কখনো না, আমরা তো সে বিষয়েরই অনুসরণ করব। যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে দেখেছি। যদি ও তাদের বাপ দাদারা কিছুই জানতো না, জানতো না সরল পথও। [171] বস্তুতঃ এহেন কাফেরদের উদাহরণ এমন, যেন কেউ এমন কোন জীবকে আহবান করছে যা কোন কিছুই শোনে না, হাঁক-ডাক আর চিৎকার ছাড়া বধির মুক, এবং অন্ধ। সুতরাং তারা কিছুই বোঝে না।

পবিত্র কোরআন সাক্ষ্য-প্রমান, সলিড-নিদর্শনের ভিত্তিতে আমাদের কোন বিষয় বিশ্বাস করতে বলে। এমনকি আল্লাহ, খোদা বা গডের প্রতি ইমান আনাটাও সলিড-নিদর্শনের ভিত্তিতে হতে হবে। প্রকৃত ইসলামে অন্ধ বিশ্বাসের কোন স্থান নেই।

[2 সূরা আল্ বাকারাহ 163] আর তোমাদের খোদা একইমাত্র খোদা । তিনি ছাড়া মহা করুণাময় দয়ালু কেউ নেই। [164] নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে এবং নদীতে নৌকাসমূহের চলাচলে মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আর আল্লাহ তা আলা আকাশ থেকে যে পানি নাযিল করেছেন, তদ্দ্বারা মৃত যমীনকে সজীব করে তুলেছেন এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সবরকম জীব-জন্তু। আর আবহাওয়া পরিবর্তনে এবং মেঘমালার যা তাঁরই হুকুমের অধীনে আসমান ও যমীনের মাঝে বিচরণ করে, নিশ্চয়ই সে সমস্ত বিষয়ের মাঝে নিদর্শন রয়েছে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্যে।

[3 সূরা আল্ ইমরান 86] কেমন করে আল্লাহ এমন জাতিকে হেদায়েত দান করবেন, যারা ঈমান আনার পর এবং রসূলকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়ার পর এবং তাদের নিকট দৃড় প্রমাণ এসে যাওয়ার পর কাফের হয়েছে। আর আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়েত দান করেন না।

নবী ইবরাহীমের গোস্টির সব লোকেরা ছিল অন্ধ বিশ্বাসী, মুর্তিপুজক। নবী ইবরাহীম ছিলেন মুক্ত-চিন্তার মানুষ; তাঁর কাছে মুর্তিপুজা ছিল অযৌক্তিক, অর্থহীন একটা ফালতু কাজ। তিনি হয়রান হয়ে খুজে ফিরছিলেন কে তাঁর খোদা, কে তাঁর সৃস্টিকর্তা। মহান আল্লাহ তাঁর ওই মধুর পেরেশানির ব্যাপারে বেখবর ছিলেন না অবশ্যই! তাই শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহ ইবরাহিমকে সিরাতুল মুস্তাকিম দেখিয়ে এবং বুঝিয়ে দিলেন।

নবী ইবরাহীমও যদি অন্ধ বিশ্বাসী হতেন তাহলে তাঁর পিতা আজরের মত মুর্তিপুজা করেই তৃপ্ত থাকতেন; হেদায়েত কোন দিনই তাঁর কপালে জুটত না! সেই নবী ইবরাহীম আমাদের জন্য আদর্শ। পৃথিবীর সমস্থ অন্ধ বিশ্বাসীদের আহবান করব অন্ধ বিশ্বাস ছাড়েন, মহান আল্লাহর দেওয়া ব্রেনটাকে সত্য অনুসন্ধানে কাজে লাগান নবী ইবরাহীমের মত। সবাইকে ধন্যবাদ।

Copyright © www.QuranResearchBD.org


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।