শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


রাজনৈতিক মারপ্যাচ, চলচাতুরতা এবং ভন্ডামী!!


আমরা এখানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রধান দুটি দল (আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি) এর কিছু রাজনৈতিক মারপ্যাচ, চলচাতুরতা এবং ভন্ডামী তুলে ধরা জরুরী মনে করলাম যাতে সাধারন পাঠকদের (যারা রাজনৈতিক মারপ্যাচ, চলচাতুরতা এবং ভন্ডামী নিয়ে অত চিন্তা করেন না) কিছু প্রধান জননেতাদের রাজনৈতিক মারপ্যাচ, চলচাতুরতা এবং ভন্ডামী বুঝতে সুবিধা হয়।

১. আওয়ামীলীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে এবং অধিকাংশদের ফাঁসির আদেশ দিচ্ছে। আমরা সব ধরনের মৃত্যুদন্ডের বিরোধিতা করি। পৃথিবীর অধিকাংশ সভ্য ও উন্নত দেশে অনেক আগেই সব ধরনের মৃত্যুদন্ড নিষিদ্ধ হয়েছে। অনেকে হয়ত বলবে কোরআনে তো আছে মৃত্যুদন্ডের শাস্তি তাহলে আমরা কি করে মৃত্যুদন্ডের বিরোধিতা করতে পারি?

জবাব হল যুগ পাল্টিয়েছে, ১৫০০ বছর আগে যখন কোরআন নাজিল হয়েছিল তখনকার পরিবেশ আর এখনকার পরিবেশের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তখনকার মানুষ এত বর্বর ও অসভ্য ছিল যে তারা তাদের নারী সন্তানকে জীবন্ত কবর দিতেও দ্বিধা করত না। সামান্য তুচ্ছ ব্যাপারে যুগ যুগ ধরে যুদ্ধ আর রক্তপাত ঘটাত। ওসব বর্বরদের নিয়ন্ত্রনের জন্য হয়ত তখন মৃত্যুদন্ডের বিধান দরকার ছিল।

২. যাহোক, ১৯৭১ সাল যা ৪০ বছরেরও আগের কথা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যদি করতেই হোত তাহলে স্বাধীনতার পর পরই করা উচিত ছিল, এ ব্যাপারে কোন অজুহাত গ্রহনযোগ্য না। আর এখন বিচার করলেও যদি ফাঁসির আদেশ না দেওয়া হয় তাহলে হয়ত এত দন্দ, সংঘাত, রক্তপাত, হানাহানি আর অশান্তি হোত না। বিষয়টা তো এখনেই শেষ হবে না।

এই দন্দ সংঘাত, রক্তপাত হানাহানি চলতেই থাকবে। আমরা আশংকা করি আওয়ামীলীগের অনেক নেতা-কর্মীরাও ভবিষ্যতে মারাত্বক পরিনতির মুখোমুখি হতে পারে কারন যাদেরকে ফাঁসি দেওয়া হবে তাদের সন্তান, বন্ধু, সমর্থকরা কি এটা ভুলবে? তারা অপেক্ষায় থাকবে প্রতিশোধ নিতে।

৩. অধিকাংশ জনগন আওয়ামীলীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছিল ভালভাবে দেশ পরিচালনা করার জন্য, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার জন্য না যদিও তা তাদের নির্বাচন মেনিফেস্টতে ছিল। সাধারন জনগন ওসব নির্বাচন মেনিফেস্ট নিয়ে ভাবে না। জাস্ট তারা ভোট দেয় আওয়ামীলীগ বা বিএনপিকে। দেশের অধিকাংশ মানুষ শান্তি চাই। ওসব দন্দ, সংঘাত, রক্তপাত‌, হানাহানী, অশান্তি একদম চাই না।

৪. আমরা একসময় দেখছি আওয়ামীলীগ জামাতের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে তত্বাবধায়ক সরকার প্রতিস্টার জন্য ততকালিন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে এবং সফলও হয়েছে সেই  আওয়ামীলীগ এখন আবার বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করলো! এ কোন ভন্ডামী?! আওয়ামীলীগের ভন্ডামীর এখানেই শেষ না!

যে জামাতের সাথে একসময় কাধে কাধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছে, জামাতের ততকালীন এম্পিদের ভোট প্রার্থনার জন্য রাজাকার* গোলাম আজমের কাছে তাদের রাস্ট্রপতি প্রাথী ভোট চেতে গিয়েছিলেন সেই জামাতের সব বড় বড় নেতাদের এখন ফাসিঁর আদেশ দিচ্ছে!

জামাতকে যদি আওয়ামীলীগ অতটাই ঘৃনা করবে তাহলে উপরুল্লেখিত উদাহারন আওয়ামীলীগ কেন স্থাপন করলো?! আওয়ামীলীগ এ লজ্জা কোথায় রাখবে, আমি তো রাখার জায়গা দেখছি না! আমি ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামীলীগর একজন সমর্থক হয়ে এখন এক মহা লজ্জায় পড়ে গেছি! ভন্ডামী ভন্ডামীই!

৫. জামাত ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্থানীদের সাথে থেকে মারাত্বক ভুল করেছে কারন তৎকালীন পাকিস্থানী সরকার ভীষন স্বৈরাচারী এবং অসৎ হয়ে গিয়েছিল। পবিত্র ইসলাম ধর্মের নামে জামাত ১৯৭১ সালে যা করেছে তাও মারাত্বক অন্যায়। পবিত্র ইসলাম ধর্মের নামে তখন বিশেষত হিন্দু ভাই বোনদের উপর পাকিস্থানী সৈন্য এবং তাদের দোসররা মারাত্বক আচরন ও জুলুম করেছিল।

ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম সাম্য ও ন্যায়ের ধর্ম, ইসলাম ধর্মনিরোপেক্ষতার ধর্ম। ধর্মনিরোপেক্ষতা আর ধর্মহীনতা এক না। ইসলাম ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা ইসলাম ধর্মের মারাত্বক অপব্যাখ্যা করা ছাড়া আর কিছুই না। জাতীর কাছে জামাতের প্রকাশ্য মাফ চাওয়া উচিত তারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যা করেছিল তার জন্য।

৬. আর আমাদের হ্রদয়টা অনেক অনেক বড় হওয়া দরকার যেন আমরা জামাতকে মাফ করে দিতে পারি। আমি জানি মাফ করা খুব কঠিন কাজ তার পরেও আমাদের হ্রদয়টা যদি অনেক অনেক বড় হয় তাহলে হয়ত আমাদের রাসুল (স) মত ক্ষমার মুর্ত প্রতীক হিসাবে আমরা জামাতকে মাফ করে দিতে পারি। বংগবন্ধুও তো খুবই ধার্মিক, ক্ষমাশীল এবং দয়ালু ছিলেন, নয় কি?

তবে জামাত সহ অন্যানরা যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে তাদের অবশ্যই তা বন্ধ করা উচিত। মওদুদী প্রকৃত ইসলাম ধর্মকে মারাত্বক বিকৃত করে অনেক সহজ সরলমনা মুসলমানকে জংগী বানিয়ে ছেড়েছে। জামাতী ভাই বোনদের আমি সবিনয়ে অনুরোধ করবো, সঠিক ইসলাম বুঝুন, মওদুদীর বিকৃত ইসলাম থেকে সাবধান হোন। মওদুদীর বিকৃত ইসলাম আপনার ইহকাল এবং পরকালীন জীবনকে বরবাদ করে দিবে।

৭. আমার আওয়ামীলীগ নেতা কর্মী ভাই বোনদের আমি সবিনয়ে অনুরোধ করবো, ভন্ডামীর রাজনীতি ত্যাগ করুন। সত্যের সাথে কক্ষনও আপোষ করবেন না। সামনে আমাদের অনন্তকালের জীবন, এই পৃথিবীর কয়েক বছরের জীবন অনন্তকালের জীবনের তুলনায় আসলে কিছুই না কাজেই  সাময়িক রাজনৈতিক কিছু ফায়দা হাসিলের জন্য সত্যের সাথে কক্ষনও আপোষ করবেন না।

আপনার বিবেককে প্রশ্ন করলেই কোনটি সঠিক এবং কোনটি বেঠিক তার জবাব পেয়ে যাবেন। বিবেকের বিরুদ্ধে কোন কাজ করবেন না। আমাদের যে কোন মানুষের জীবনের এক মিনিটেরও ভরসা নাই। কাজেই সত্যের সাথে আপোষ করার চেয়ে বোকামী আর কি হতে পারে?! সবাইকে নিরন্তর শুভেচ্ছা। 13.01.2015

* রাজাকার বলতে আমরা বুঝিয়েছি তাদের যারা ১৯৭১ সালে স্বাধিনতার যুদ্ধে পাকিস্থান সরকারের পক্ষে ছিলেন, কাউকে হেয় বা ছোট করার জন্য আমরা উক্ত শব্দ ব্যবহার করি নাই। কোন মানুষকে অপমান বা ছোট করা আমাদের কাজ না।

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।