শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


আওয়ামীলীগ এবং বিএনপির সমঝোতার ফর্মুলা


আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি এর মধ্যে অবিশ্বাস আর সন্দেহ চরম অবস্থায় পৌঁচেছে। আওয়ামীলীগ এবং বিএনপির মধ্যে সম্পর্ক এত খারাপ আগে কক্ষনও ছিল না। দুই দলেই চরমপন্থি ঢুকে পড়ার কারনে এমনটি হয়েছে।

বিস্তারিত পড়ুন আওয়ামীলীগ এবং বিএনপিতে উগ্রবাদিতার উৎস! আমরা দেখেছি যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়েছিল এবং তাতে অনেকের মৃত্যু হয়। ওটা ছিল বিএনপি সরকারেরর নির্লজ্জ ব্যর্থতা যে ততকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রীর যথেস্ট নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়। এমনকি অভিযোগ আছে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সেই হামলায় পরোক্ষ হাত ছিল (আমরা জানি না)।

bangabandhu

বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন জংগিবাদ দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল এটা আমরা সবাই জানি যেটাও ছিল বিএনপি সরকারেরর এক চরম ব্যর্থতা। সম্ভবত এ কারনে আওয়ামীলীগ ক্ষমতা ছাড়তে ভরসা পাচ্ছে না। আগে আওয়ামীলীগ এবং বিএনপির মধ্যে আস্থা ফিরতে হবে তা না হলে এ সমস্যার কক্ষনও সমাধান হবে না। আওয়ামীলীগ এবং বিএনপিকে ভাই-ভাই হতে হবে গর্ব-অহংকার ত্যাগ করে তা না হলে দেশে শান্তি কোন দিনই প্রতিস্টিত হবে না। কে বড় আর কে ছোট তা বড় কথা নয়, আমরা সবাই ভাই-ভাই, আমাদের শান্তি চাই

zia-khaleda

বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারও কিছু মারাত্বক ভুল করেছে যেমন, জিয়া বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করা সঠিক হয়নি। জিয়াকেও তো বাংলাদেশের বহু মানুষ ভালবাসে আর স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর যে অবদান আছে তা সততার সাথে আওয়ামীলীগের মেনে নেওয়া উচিত।

আবোল তাবোল কথা শুধু ঘৃনা আর অবিশ্বাসেরই জন্ম দেয়। তারেক রহমান ইদানিং কিছু অসংগত কথা বলেছেন এটা সত্য-হয়ত মনের মধ্যে জমে থাকা কিছু ক্ষেদের কারনে – কিন্তু তাই বলে মিডিয়াতে তার উপর সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা হয়ত তাকে এবং বিএনপিকে আরো ডেস্পারেট করে তুলেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তারেক রহমান এর উপর যে সাম্প্রতিক মিডিয়া-নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তা সমর্থন করি না।

আওয়ামীলীগ যে যুদ্ধাপরাদিদের বিচার করছে হয়ত তা ঠিক কিন্তু আমরা সব ধরনের মৃত্যুদন্ডের বিরোধিতা করি, যত বড় ক্রাইমই হোক না কেন। হয়ত বল্লাম এ কারনে যে স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হয়েছে এবং আমরা জয়ি হয়েছি ১৯৭১ সালে, অনেক আগের কথা, এত বছর পর বিচার কেন!

আওয়ামীলীগ স্বাধীনতার পরেও ক্ষমতায় ছিল এবং এর আগেও ক্ষমতায় ছিল কিন্তু হটাৎ করে এখন কেন বিচার করা, বিষয়টা একটু স্ট্রেঞ্জ না! জামাত সহ সব জংগিবাদি ধর্মভিত্তিক দলকে নিষিদ্ধ করা আমরা সমর্থন করি, প্রিভেনশন ইজ বেটার দেন কিওর, নয় কি? জঙ্গিদের ফাঁসি দেওয়ার চেয়ে জঙ্গি উৎপাদন এবং বিস্তারের কারখানা বন্ধ করা অনেক অনেক ভাল!

যাহোক, উপরুল্লেখিত এবং  আরো হয়ত কিছু বিরক্তিকর কারন বিএনপিকে ক্রুদ্ধ করেছে। দেশের উন্নয়নের জন্য আমাদের শান্তি দরকার বর্তমান যে অবস্থা মানুষ নিরাপদে রাস্তা ঘাটে বা বাসে-ট্রেনে চলতে পারছে না এটা একটা ভয়াবহ অবস্থা, পুলিশ-র‍্যাব-বিজেবি দিয়ে কোন দিনই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যাবে না। ধৈর্য, ভালবাসা, ক্ষমা আর উদারতা দিয়ে অনেক কিছুই জয় করা যায়। আর পরিবর্তনও আনতে হয় ধীরে ধীরে, সব কিছুই খুব দ্রুত ঠিক করতে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই হিতে বিপরীত হয়ে থাকে!

জংগিবাদ বা অন্ধ ও অযৌক্তিক ধর্মীয় উন্মাদনা যে কি ভংয়কর জিনিস তা যদি আমরা একটু পাকিস্থান, আফগানিস্থান, ইরাক, সিরিয়া ইত্যাদি দেশে তাকাই তাহলে দেখতে পাব। প্রতিদিন অসংখ্য নিরিহ মানুষ মরছে, অসংখ্য  জংগিও মরছে, কারো জীবন এবং সম্পদের নিরাপত্তা নেই।

গুটি কতক জংগি মনে করে যে তারা সারা দুনিয়া গায়ের জোরে দখল করে নেবে কিন্তু বাস্তবে শেষ পর্যন্ত জংগিরাই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় কিন্তু পেছনে ফেলে রেখে যায় নির্মম, নির্দয় বর্বরতা, ধংশযগ্য যা মানবতার চরম লজ্জা। এই তো কয়দিন আগেও সিরিয়ার কোবানী শহরে তুমুল যুদ্ধে প্রায় দুই হাজার ISIS জংগি নিহত হয়। ISIS জংগিরা তাদের পাপের ফল পেতে শুরু করেছে! আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে জংগীরা মাথাচাড়া দিতে না পারলেও তারা গুপ্ত হত্যাকান্ড ঘঠাচ্ছে যেমন, খুলনায় পিতা-পুত্রকে জবাই করে হত্যা, ঢাকাতে একই বাড়িতে ৬ জনকে খুন, ফারুকী হত্যা: খুনিরা চিহ্নিত হয়নি ২ মাসেও ইত্যাদি।

এটা আওয়ামীলীগ সরকারের একটা মারাত্বক ব্যর্থতা যে এই সরকারের  আমলে জংগিরা গোপনে একের পর এক ওসব ভয়ংকর হত্যাকান্ড ঘটাচ্ছে আর ওদের এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করাও সম্ভব হয়নি বিচার করা তো দুরের কথা। বড় বড় নেতাদের জীবনের বুঝি অনেক মুল্য আর ওসব নিরিহ ধর্মপ্রানদের জীবনের মুল্য নেই! যাহোক, আওয়ামীলীগ এবং বিএনপিকে নাকে খত দিতে হবে যে, যেই ক্ষমতায় থাকুক বিরোধীদল সহ সব নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তায় কোনরুপ কার্পন্য করা যাবে না। বিচার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবশ্যই নিরোপেক্ষভাবে কাজ করতে দিতে হবে।

ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমরা কোনদিনই বাংলাদেশে জংগিদের মাথা তুলতে দেব না। জংগিরা হল মানবতার কলংক। বড় দুই দলের মধ্যে এ ধরনের ঐক্যমত এবং আস্থা হলে হয়ত দেশে শান্তি আসতে পারে। মনে রাখবেন বাংলাদেশের ভোটাররা সাধারনত এক বার বিএনপিকে ক্ষমতায় বসালে অন্য বার আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় বসায় কাজেই আওয়ামীলীগ এবং বিএনপির গর্ব-অহংকার করা বা বাড়াবাড়ি করার কোন সুযোগ নেই। আপনারা না চাইলেও ভোটাররাই আপনাদের ভাই-ভাই হতে বাধ্য করবে!

দেখুন না আমেরিকায় ডেমোক্রেট এবং রিপাবলিকানরা কি আমাদের মত চুল ছিড়াছিড়ি করছে?! সেখানে কি সুস্থ প্রতিযোগীতা নেই! সবাইকে  ধন্যবাদ। ডঃ মুসা আলী, February 2, 2015. Copyright © www.QuranResearchBD.org

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।