শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


আওয়ামীলীগ বা বিএনপির দুঃশাসন, পরিবারতন্ত্র এবং অসহায় জনগন!


আওয়ামীলীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে এবং অধিকাংশদের ফাঁসির আদেশ দিচ্ছে। আমরা সব ধরনের মৃত্যুদন্ডের বিরোধিতা করি। পৃথিবীর অধিকাংশ সভ্য ও উন্নত দেশে অনেক আগেই সব ধরনের মৃত্যুদন্ড নিষিদ্ধ হয়েছে। অনেকে হয়ত বলবে কোরআনে তো আছে মৃত্যুদন্ডের শাস্তি তাহলে আমরা কি করে মৃত্যুদন্ডের বিরোধিতা করতে পারি?

যুগ পাল্টিয়েছে, ১৫০০ বছর আগে যখন কোরআন নাজিল হয়েছিল তখনকার পরিবেশ আর এখনকার পরিবেশের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তখনকার মানুষ এত বর্বর ও অসভ্য ছিল যে তারা তাদের নারী সন্তানকে জীবন্ত কবর দিতেও দ্বিধা করত না। সামান্য তুচ্ছ ব্যাপারে যুগ যুগ ধরে যুদ্ধ আর রক্তপাত ঘটাত। ওসব বর্বরদের নিয়ন্ত্রনের জন্য হয়ত তখন মৃত্যুদন্ডের বিধান দরকার ছিল।

কোরআনে উটে, ঘোড়া বা গাধার পিঠে চড়ে হজ্জ করার কথা থাকলেও আমরা এখন হজে যায় মুলত বোয়িং বা এয়ারবাসে চড়ে যা আবার কিনা ঈহুদী-খৃস্টান্দের আবিস্কার! ঈহুদী-খৃস্টানন্দের গালি দিতে দিতে আমাদের অনেকের মুখে ফেনা উঠে গেলেও তাদের করা আবিস্কারের সব আধুনিক পন্য ব্যবহার করে আমরা ধন্য হয়ে যায়! তাদের দেশে ইমিগ্রেট করে ধন্য হয়ে যায়! আমাদের কোন লজ্জা বা বিবেক নাই!

যাহোক, ১৯৭১ সাল যা ৪০ বছরেরও আগের কথা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যদি করতেই হোত তাহলে স্বাধীনতার পর পরই করা উচিত ছিল, এ ব্যাপারে কোন অজুহাত গ্রহনযোগ্য না। আর এখন বিচার করলেও যদি ফাঁসির আদেশ না দেওয়া হয় তাহলে হয়ত এত দন্দ, সংঘাত, রক্তপাত, হানাহানি আর অশান্তি হোত না।

বিষয়টা তো এখনেই শেষ হবে না। এই দন্দ সংঘাত, রক্তপাত হানাহানি চলতেই থাকবে। আমরা আশংকা করি আওয়ামীলীগের অনেক নেতা-কর্মীরাও ভবিষ্যতে মারাত্বক পরিনতির মুখোমুখি হতে পারে কারন যাদেরকে ফাঁসি দেওয়া হবে তাদের সন্তান, বন্ধু, সমর্থকরা কি এটা ভুলবে? তারা অপেক্ষায় থাকবে প্রতিশোধ নিতে।

অধিকাংশ জনগন আওয়ামীলীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছিল ভালভাবে দেশ পরিচালনা করার জন্য, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার জন্য না যদিও তা তাদের নির্বাচন মেনিফেস্টতে ছিল। সাধারন জনগন ওসব নির্বাচন মেনিফেস্ট নিয়ে ভাবে না। জাস্ট তারা ভোট দেয় আওয়ামীলীগ বা বিএনপিকে। দেশের অধিকাংশ মানুষ শান্তি চাই। ওসব দন্দ, সংঘাত, রক্তপাত‌, হানাহানী, অশান্তি একদম চাই না।

সব ধরনের জংগীবাদী সংগঠন নিষিদ্ধ করা হোক এবং তারা যেন গোপনে কোন তৎপরতা চালাতে না পারে তার উপর কড়া নজরদারী করা হোক। ধর্মের নামে জংগীবাদ হল বহু অশান্তি আর রক্তপাতের মুল কারন। শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলাম প্রচারে সবাইকে ভুমিকা রাখা উচিত।

আমার এক বন্ধু আমাকে একদিন বলল, মানুষ বিএনপির দুঃসাশনে তখন অতিস্ট হয়ে আওয়ামীলীগকে ভোট দিয়েছিল। বিএনপির শাসনামলে জংগীবাদের প্রসার ঘটেছিল তা আমাদের সবার জানা আবার সেই বিএনপি জামাতের সাথে কোয়ালিশন করেছে যা শান্তিপ্রিয় , প্রকৃত ধার্মিক এবং প্রগতিশিলদের অবশ্যই ভাবনায় ফেলে দিয়েছে। সারা দুনিয়ায় দেখুন জংগীরা ধর্মের নামে কি সব ভয়ংকর ঘটনা ঘটাচ্ছে।

যাহোক, এখন আবার সেই বিএনপির দুঃশাসনের মত অবস্থা, এখন যদি নির্বাচন হয় আওয়ামীলীদের দুঃশাসনে অতিস্ট হয়ে জনগন আবার বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসাবে! এদেশের অধিকাংশ মানুষ এই দুটি দলের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে!

আওয়ামীলীগকে অবশ্যই এটা প্রমান করতে হবে যে তারা সাধারন জনগনের জন্য কল্যানকামী দল। পুলিশের উপর খবরদারী করা চলবে না। আপনি প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী হলেও পুলিশ বা আদালতের কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ করবেন না।

আপনার নিজ দলের যত বড় নেতাই হোক না কেন যদি সে আইন ভংগ করে তাহলে তাকে কোনরুপ আশ্রয় বা প্রশয় দেবেন না প্লিজ। আওয়ামীলীগে পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত গনতন্ত্রের চর্চা করতে হবে। তাহলে সৎ, প্রকৃত যোগ্য, জনগনের জন্য দরদি ও কল্যানকামী নেতারা দেশ পরিচালনার সুযোগ পাবে। তাহলে চামচাগিরী আর তোষামোদি বন্ধ হবে। সবাইকে ধন্যবাদ।

05 জানুয়ারী 2015

Copyright © www.QuranResearchBD.org

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।