শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


জংগিরা কি মানুষ?


জংগিরা কি মানুষ? মারাত্বক প্রশ্ন কিন্তু আমরা দেখিয়ে দেব অনেক জংগিরাই মানুষ না। তা হলে তারা কি পশু? কি জানি কি হয়েছে ওদের!

Jihadi-John

১. যেমন ধরুন খুলনায় পিতা-পুত্রকে জবাই করে হত্যা । এই ভদ্রলোক ছিলেন একজন কুরআনের অনুসারী এবং হাদিসকে শরিয়তের দলিল হিসাবে বিশ্বাস করতেন না। ব্যস! জংগিরা রোজার মাসে ছদ্দবেশে তাঁর বাড়ীতে আসে ইসলাম শিক্ষার বাহানা নিয়ে। সুযোগ মত তাঁর স্ত্রীকে কৌশলে পাঠায় ইফতার কিনতে।

রোজার দিনের মেহমান; ইফতারী না দিলে কি হয়? তারপর বাড়িতে একা পেয়ে বৃদ্ধ জনাব তৈয়েবুর রহমানকে জবাই করে ওরা হত্যা করে। শুধু তাই না তাঁর ১৩ বছরের বালক পুত্র ইসলামের কি বুঝত? তাকেও ওরা জবাই করে হত্যা করে। ওদের কান্ডে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রকারের পশুরাও লজ্জা পাবে নিঃসন্দেহ!

২. মুরিদ সেজে ঢুকে কথিত পীর লুৎফর রহমানসহ  ছয়জনকে জবাই করে হত্যা

কথিত পীর লুৎফর রহমান (৬০) ইসলাম ধর্ম বুঝতেন একটু ভিন্নভাবে এবং পালন করতেন ও ভিন্নভাবে (আমরা ঠিক জানিনা)। এই হল ওনার অপরাধ। অন্য মিডিয়াতে রিপোর্ট এসেছে ওরা এসে গেটের দরজায় কাকুমাকু করে যে তাদের  অল্প সময়ের জন্য একটু আশ্রয় দরকার কারন তারা ক্ষুদার্থ! সরল মনে কথিত পীর সাহেব দরজা খুলে দেয় ওদের আশ্রয় এবং খাদ্য দেওয়ার জন্য। ওরা উক্ত পীর সাহেবের বাসায় পানাহারও করে! তারপরে ঠান্ডা মাথায় উক্ত পীর সাহেব সহ ছয়জনকে জবাই করে হত্যা। সরল মনে অপরচিত মেহমানদের মেহমানদারীর এই প্রতিদান।

একটা গুলিও ওরা মানুষ হত্যার জন্য খরচ করে না। জাস্ট গরু-ছাগলের মত জ্যান্ত মানুষকে ওরা ওভাবে নিকৃস্ট কাপুরুষের মত জবাই করে। আমার মাথায়ই ঢোকে না, একজন মানুষ হয়ে কি করে আরেকজন মানুষকে জবাই করা সম্ভব! আবারও প্রমানিত, ওসব জংগিরা মানুষ না। ওরা এই পৃথিবীর সবচেয়ে হিংশ্র প্রানি। মানূষ অপরিচিত কাওকে বিপদে পড়তে দেখলেও তাকে আর বাড়িতে মেহমান হিসাবে আনার সাহস পাবে না!

৩. নুরুল ইসলাম ফারুকী নিজের বাসায় খুন

প্রায় একইভাবে নিকৃস্ট প্রতারনামুলক কায়দায় টেলিভিশনে ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নুরুল ইসলাম ফারুকীকেও ওরা হত্যা করে। কারন নুরুল ইসলাম ফারুকী একজন ধর্ম প্রান মুসলমান ছিলেন কিন্তু জংগি ছিলেন না। যেহেতু ফারুকী সাহেব বেশ বিখ্যাত ছিলেন তাই তার শান্তিপুর্ন ইসলাম প্রচারনা জংগিদের মাথা ব্যাথার কারন ছিল।

৪. কিছুদিন আগে লেখক ও ব্লগার অভিজিত রায়কে ওরা হত্যা করে পিছন দিক থেকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে। অভিজিত রায় নাস্তিক ছিলেন এবং নাস্তিকতা তার যে যুক্তি ছিল তা দিয়ে প্রচার করতেন। তিনি তো আর জঙ্গিদের মত সন্ত্রাসী এবং হিংশ্র প্রানি ছিলেন না। আমরা নাস্তিকতা একদম পছন্দ করি না কিন্তু আমরা যার যার ধর্মের পুর্ন স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি।

আমরা বৈজ্ঞানিক এবং দার্শনিকভাবে নাস্তিকতার অসারতা প্রমান করে থাকি। নাস্তিক-আস্তিক বিতর্ক সব সময়ই ছিল এবং থাকবে কারন ধর্ম হল বিশ্বাসের ব্যাপার; প্রমান করার ব্যাপার না। ফলে আস্তিকদের অবশ্যই বিনয়ী এবং পরমত সহিষনু হতে হবে তাদের ধর্ম প্রচারের জন্য। যাহোক, আমরা অভিজিত রায়য়ের হত্যাকান্ডের তিব্র নিন্দা জানায়।

নিকৃস্ট প্রতারনামুলক কায়দায় আরো অনেক হত্যাকান্ড ওসব জংগিরা ঘটিয়েছে আমাদের দেশে যার লিস্ট এখানে দেওয়া উদ্দেশ্য না। তবে ওসব হিংশ্র প্রানিও ভবিষ্যতে হয়ত ভাল মানুষ হতে পারে যখন তাদের হুশ হবে এবং বুঝবে কি সর্বনাশটাই না তারা করে ফেলেছে। আমরা কোন আদম সন্তানকেই ঘৃনা করি না। আমরা বড়জোর পাপকে ঘৃনা করি, পাপীকে নয়। ধন্যবাদ। 15.03.2015  Copyright © www.QuranResearchBD.org

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।