শান্তির ধর্ম প্রকৃত ইসলামের উপর একটি অন্যন্য সাধারন ওয়েবসাইট


আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু এবং দুই নেত্রীর সাক্ষাত না হওয়া প্রসঙ্গে


বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকো আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে মালয়েশিয়ায় পলাতক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। এটা নিঃসন্দেহে আরাফাত রহমান এর অকালমৃত্যু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গেলেন বিএনপি নেত্রীর গুলশান কার্যালয়ে শোকবিধুর মাকে সান্তনা দেওয়ার জন্য। কিন্তু তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হল না, প্রধান ফটক তালাবন্ধ করে রাখা হল, এ নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। আওয়ামীলীগ পন্থিরা বলছেন এটা খুবই অন্যায় হয়েছে। বিএনপি পন্থিরা  এমনকি মরহুম কোকোর  মৃত্যুর জন্য আওয়ামীলীগকে দ্বায়ী করছেন।

কিছুদিন আগেই তারেক রহমান বংগবন্ধুকে রাজাকার বলেছিলেন। অবশ্যই তারেক রহমান বংগবন্ধুকে রাজাকার বলতে পারেন না। যাহোক, জবাবে আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেখ হাসিনা জনাব তারেককে জানোয়ার বলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী সেখ হাসিনার এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করা একদম ঠিক হয়নি।

এ ধরনের ভাষা এবং রুক্ষ আচরন শুধু দুরুত্ব, ঘৃনা আর অবিশ্বাসই তৈরি করে। জনাব তারেককে জানোয়ার না বলে তার পিতা জিয়াউর রহমানকেও প্রধানমন্ত্রী রাজাকার বলতে পারতেন তাহলে আমার এখানে বলার কিছু ছিল না। হয়ত এ কারনে বা আরো অনেক কারনে খালেদা জিয়া সেদিন সেখ হাসিনার সাথে দেখা করা ভাল মনে করেননি। মনে যদি কার প্রতি অতি মাত্রায় ক্ষোভ থাকে থাহলে তার সাথে সাক্ষাত আপাতত না করাই ভাল।

তবে দেশে মারাত্বক অবস্থা চলছে। প্রতিদিন মানুষ মরছে, দেশের অর্থনীতি ধংশের দিকে যাচ্ছে, বহিবিশ্বের কাছে এই দাংগা, ফ্যাসাদের কারনে আমাদের মাথা হেট হয়ে যাচ্ছে। এরুপ পরিস্থি্তিতে দুই নেত্রীর মধ্যে যে কথা বলার একটা সুযোগ তৈরি হয়েছিল তা ম্যাডাম খালেদা হয়ত কাজে লাগাতে পারতেন। ম্যাডাম হাসিনাকে অন্তর্বতি নির্বাচন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে পারতেন। দেশবাসী সে সুযোগ হারাল এটা দুঃখজনক।

জনাব তারেক রহমান এর বিরুদ্ধে যে দুর্নিতীর অভিযোগ আছে তা যদি সত্য হয় তাও খুবই দুঃখজনক প্রয়াত রাস্ট্রপতি এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান এর পুত্র হিসাবে। জিয়াউর রহমানকে কেউ দুর্নিতীবাজ বলতে পারে না। যাহোক মানুষ ভুল করে এবং পরে পস্তায় আবার অনেকের এমনকি অনুশোচনারও উদ্রেক হয় না। জনাব তারেক রহমান যদি সত্য সত্যই  দুর্নিতীতে জড়িয়ে থাকেন তাহলে আমি তাকে লজ্জায় ফেলতে চাই না কিন্তু তার উচিত হবে গোপনে অন্তত তওবা করে নিজের আচরনকে সংশধন করে নেওয়া।

আমরা দেখছি, আওয়ামীলীগ সরকারের কয়েকজন সংসদ সদস্যকে জেলেও যেতে হয়েছে আইন ভংগের অভিযোগে এবং অন্তত দুই জন মন্ত্রি মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন দুর্নিতীর অভিযোগে। আইটি খাতেও আওয়ামীলীগ সরকার ভালই অগ্রগতি সাধন করেছে। জংগিবাদ দমনেও আওয়ামীলীগ সরকার ভালই কাজ করছে তবে আমরা মৃত্যুদন্ডের বিরোধিতা করি। আমাদের খুব সহনশীল হতে হবে, যেন বারাবাড়ি না হয়ে যায়। জংগিরাও আমাদের মতই আদম সন্তান কাজেই তাদের প্রতি যেন মানবাধিকার লংঘিত না হয়। যাহোক, এগুলো আওয়ামীলীগ সরকারের একটা ভাল কাজ এবং ইতিবাচক দিক।

আবার দেশের জনসংখা তো বেড়েই চলেছে! এই টুকু দেশে ১৭ কোটি আদম সন্তান তার পরেও আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী “এক সন্তান থাকলে আর দ্বিতীয়টি নয়” স্লোগান সাম্প্রতিকালে বন্ধ করেছেন! আমাদের দেশের যে আয়তন তাতে এখানে চার থেকে পাঁচ কোটি মানুষই অনেক বেশি পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের আয়তনের অনুপাতে।

এই ক্ষুদ্র দেশের এই বিশাল জনসংখা শুধু বাংলাদেশের জন্যই এক মারাত্বক বোঝা না সারা পৃথিবীর অর্থনীতি এবং পরিবেশের জন্যও একটা বোঝা। আমাদের দেশে চীনের মত এক সন্তান বাধ্যতামুলক করার সময় অনেক আগেই হয়েছে, এখন তো আর না করলেই নয় । দুই এর অধিক কেও সন্তান নিলে জেল-জরিমানার ব্যবস্থা শীঘ্রই করা দরকার তা না হলে ক্রমাগত বর্ধমান জনসংখ্যার ভারে আমরা অনেকেই পিস্ট হয়ে যাব!

অন্যদিকে আওয়ামীলীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে এবং অধিকাংশদের ফাঁসির আদেশ দিচ্ছে। আমরা সব ধরনের মৃত্যুদন্ডের বিরোধিতা করি। আমরা ক্ষমা ও উদারতায় বিশ্বাসী। পৃথিবীর অধিকাংশ সভ্য ও উন্নত দেশে অনেক আগেই সব ধরনের মৃত্যুদন্ড নিষিদ্ধ হয়েছে।  ১৯৭১ সাল যা ৪০ বছরেরও আগের কথা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যদি করতেই হোত তাহলে স্বাধীনতার পর পরই করা উচিত ছিল, এ ব্যাপারে কোন অজুহাত গ্রহনযোগ্য না। আর এখন বিচার করলেও যদি ফাঁসির আদেশ না দেওয়া হয় তাহলে হয়ত এত দন্দ, সংঘাত, রক্তপাত, হানাহানি আর অশান্তি হোত না। বিষয়টা তো এখনেই শেষ হবে না। এই দন্দ সংঘাত, রক্তপাত হানাহানি চলতেই থাকবে।

আমরা আশংকা করি আওয়ামীলীগের অনেক নেতা-কর্মীরাও ভবিষ্যতে মারাত্বক পরিনতির মুখোমুখি হতে পারে কারন যাদেরকে ফাঁসি দেওয়া হবে তাদের সন্তান, বন্ধু, সমর্থকরা কি এটা ভুলবে? তারা অপেক্ষায় থাকবে প্রতিশোধ নিতে। এই প্রতিশোধ পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়ার কালচার থেকে আমাদের অবশ্যই সরে আসতে হবে। অধিকাংশ জনগন আওয়ামীলীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছিল ভালভাবে দেশ পরিচালনা করার জন্য, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার জন্য না যদিও তা তাদের নির্বাচন মেনিফেস্টতে ছিল।

সাধারন জনগন ওসব নির্বাচন মেনিফেস্ট নিয়ে ভাবে না। জাস্ট তারা ভোট দেয় আওয়ামীলীগ বা বিএনপিকে। দেশের অধিকাংশ মানুষ শান্তি চাই। ওসব দন্দ, সংঘাত, রক্তপাত‌, হানাহানী, অশান্তি একদম চাই না। কাজেই আওয়ামীলীগকে বংগবন্ধুর মত ক্ষমাশীলতার নীতি গ্রহন করতে হবে। বংগবন্ধুর কথা সবাই বলে কিন্তু বংগবন্ধুর মত উদার, ভদ্র এবং ক্ষমাশীল আওয়ামীলীগে কয়জন আছে! ধন্যবাদ। ডঃ মুসা আলী, 27 জানুয়ারী 2015

Copyright © www.QuranResearchBD.org


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*